Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ২০ মার্চ ২০১০, ৬ চৈত্র ১৪১৬, ৩ রবিউসসানি ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বাঙালির ভিটায় চাকমার ঘর : ত্রাণ বিতরণে বৈষম্য

মাহাবুবুর রহমান, গঙ্গারামমুখ থেকে ফিরে
অশান্ত পাহাড়ে অসহায় জীবনযাপন করছে বাঙালিরা। বসতভিটায় ফিরতে পারছে না গঙ্গারামমুখের ৪১ পরিবার। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণসমাগ্রী লাভের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তারা। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও প্রতিদিনই চাকমাদের মধ্যে নগদ টাকা ও খাবারসহ ত্রাণসমাগ্রী বিতরণ করছে। যেখানে চাকমারা ত্রাণ সংগ্রহ ও নতুন বসতি গড়তে ব্যস্ত। পাশাপাশি বাঙালিরা নিজ ভিটায় ফিরতে অপেক্ষমাণ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারামমুখ এলাকার বিধ্বস্ত বসতভিটায় নতুন উদ্যমে ঘর নির্মাণ করছে চাকমারা। প্রত্যেক ঘরে টিন, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের স্তূপ রয়েছে। প্রতিদিনই তারা পাচ্ছে অজস্র ত্রাণ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের পর থেকে তাদের জীবন-জীবিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের একটিই কথা— ‘সেনাবাহিনী ও বাঙালি প্রত্যাহার করতে হবে।’ পাহাড়িদের জীবিকা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে না বলে মন্তব্য করেন একাধিক চাকমা সদস্য। সংঘর্ষের পর কোন কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রাণ পেয়েছেন জানতে চাইলে সাজেক নারীসমাজ সংগঠনের কর্মী জনতা চাকমা বলেন, ‘আন্দোলন করে বেঁচে আছি। সরকারের সহযোগিতা আমাদের দরকার নেই। সরকার মাত্র ৬০ কেজি করে চাল, ৭ কেজি ডাল ও ৫ হাজার টাকা দিয়েছে।’ ইউএনডিপি ও ডব্লিউএফপি থেকে কোনো সাহায্য পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি পরিবারকে তিন লাখ করে টাকা দেবে। এখনও দেয়নি।’
সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গারামমুখের ৪১ বাঙালি পরিবারের বসতভিটায় চাকমারা খড়ের ছাউনি দিয়ে ঘর তুলছে। ঘরের পোড়া ছাইয়ের স্তূপের মাঝেই তারা নির্মাণ কাজ চালাচ্ছেন। পার্শ্ববর্তী এলাকার আত্মীয়স্বজনরাও এখানে এসে অবস্থান করছেন। পরিবারের সদ্যরা বিভক্ত হয়ে বাঙালিদের ভিটায় নতুন স্থাপনা তুলে অবস্থান করছেন। এমনই একজন কৃপা চাকমা। খড়ের অস্থায়ী ছাউনি দিয়ে ছোট ঘর তুলেছে সে এক বাঙালির ভিটায়। পাশেই স্তূপকৃত দুটি বস্তায় চালসহ খাদ্যদ্রব্য। টিনেরও একটি স্তূপ দেখা যায়। এসব কারা দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ত্রাণে পেয়েছি।’
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলোচনাকালে জানান, ত্রাণ পর্যাপ্ত আসছে। এক মাসে প্রায় ২০টি গ্রুপ গঙ্গারামমুখে চাকমাদের মধ্যে ত্রাণ দিয়েছে। তবে এখানে সমস্যা হলো শান্তি ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেই।
এদিকে গঙ্গারামমুখের বসতভিটায় ফিরতে না পেরে বাঘাইছড়ি বাজার এলাকায় অবস্থান করছে ৪১ পরিবারের শতাধিক বাঙালি। তাদের সামনে দিয়েই গঙ্গারামমুখের দিকে প্রতিদিন যাচ্ছে ত্রাণের গাড়ি। ত্রাণের গাড়ি দেখে অশ্রুসিক্ত হতে হয় এসব বাঙালিকে। সরকারি এক বান্ডিল টিন, ৪০ কেজি করে চাল ও ‘আলো’ নামে একটি এনজিও থেকে পরিবারপ্রতি চার হাজার টাকা ছাড়া বাঙালিরা কোনো ত্রাণ পায়নি। এ বিষয়ে গঙ্গারামমুখ থেকে বসতভিটা ফেলে আসা বাঙালি রহিম জানান, সরকারি জমিতে বসবাস করে যেন আমরা অপরাধ করে ফেলেছি। ৩০ বছর ধরে পাহাড়ে বাস করছি। কাপ্তাই বাঁধের কারণে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় গত সাত বছর ধরে গঙ্গারামমুখে আছি। সরকার ও এনজিও কর্মকর্তাদের আচরণে মনে হয়, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি; কিন্তু যারা বাংলাদেশ সরকারকেই মানছে না, তাদের পক্ষেই এখন সবকিছু চলছে।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বাঘাইছড়ি সংঘর্ষের পর রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালি ও উপজাতিদের একটি তালিকা তৈরি করে। সেখানে বাঙালি ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা মাত্র ৭৭ এবং উপজাতি ৩৯৭ জন দেখানো হয়। কিন্তু বাঙালিদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালির সংখ্যা ১৮০। উপজাতিরাও নিজেদের সংখ্যা শ’দুয়েক বলে দাবি করে। জ্যোতি চাকমা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাঙালির চেয়ে আমাদের সংখ্যা কম হলেও দ্বিগুণ। কিন্তু ওদের পক্ষে সেনাবাহিনী থাকায় আমরা মার খেয়েছি।’ এদিকে প্রশাসন এখন বাঙালিদের ত্রাণ কিংবা কোনো ধরনের সহায়তা না দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে বদলি কিংবা ওএসডি আতঙ্ক। ২০ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষের পর ইউএনও, জোন কমান্ডার ও ব্রিগেড কমান্ডারকে বদলি করায় চাকমারা পুলিশ ও সেনাসদস্যদেরও অহরহ বদলির হুমকি দিচ্ছে। এজন্য বাঙালি কর্মকর্তারাও যেন চাকমাদের কাছে অসহায় হয়ে চাকরি টিকিয়ে রাখছেন। এমন আতঙ্কের কথা একাধিক পুলিশ সদস্য এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?