আখাউড়ার দরুইন গ্রাম : বেতের ঝুড়িতে ভাগ্যবদল
জুটন বণিক, আখাউড়া
আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বুকচিরে বয়ে গেছে হাওড়া নদী। তারই তীর ঘেঁষে ছোট্ট একটি গ্রাম দরুইন। এ গ্রামে বাস করে হিন্দু নমঃশূদ্র গোত্রের ২০ পরিবার, যাদের সবাই বাঁশের বেত দিয়ে ঝুড়ি বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এক সময় দরিদ্রতা ছিল পরিবারগুলোর নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে বাঁশ-বেতের ঝুড়ি বদলে দিয়েছে তাদের ভাগ্য। যেখানে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হতো, সেখানে আজ তাদের ঘরে টিভি-ভিসিডি চলে। এক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সবাই ঝুড়ি তৈরি নিয়ে ব্যস্ত। কেউ বাঁশ টুকরো করছেন, কেউ বেত ফাড়ছেন, আবার কেউ সেই বেত দিয়ে ঝুড়ি বুনছেন। বাড়ির উঠানে নিবিড় মনে বেত দিয়ে ঝুড়ি বুনতে থাকা মালতি রানী বলেন, প্রতিদিন আমি তিনটি ঝুড়ি তৈরি করতে পারি। বাজারে প্রতিটি ঝুড়ি বিক্রি হয় ৪০-৪৫ টাকায়। সদ্য বিধবা মাধবী রানী বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর এই ঝুড়ি বিক্রির টাকা দিয়েই আমার সংসার চলছে। একই গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শচীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় মোগড়া বাজার থেকে আমরা বাঁশ কিনি। প্রতিটি বাঁশের দাম ১৮০ থেকে থেকে ২শ’ টাকা পড়ে। একটি বাঁশ দিয়ে ৫-৬টি ঝুড়ি তৈরি করা যায়। ঝুড়ি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। ক্রেতারা বাড়ি থেকেই কিনে নিয়ে যায়। ঝুড়ি বিক্রেতা ননী গোপাল বলেন, প্রতিদিন এখানে ১৫০/২০০ ঝুড়ি বিক্রি হয়। এসব ঝুড়ি দিয়ে ভারতে মাছ রফতানি করা হয়। তাই স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা আরও বেশি। কিন্তু পুঁজির অভাবে বাঁশ কিনতে না পারায় তারা বাজারের চাহিদা মিটাতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, এনজিওগুলো ঋণ দিলেও কড়া সুদের কারণে বেশিরভাগ সময়ই ঋণ নিতে চাই না।
মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নান্নু মিয়া বলেন, সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ এলাকায় ঝুড়ি শিল্পের আরও প্রসার ঘটবে।
মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নান্নু মিয়া বলেন, সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ এলাকায় ঝুড়ি শিল্পের আরও প্রসার ঘটবে।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


