নির্বাচনে জয়ী হতে ডিএসই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান। আর এ জন্য তিনি একের পর এক ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সম্ভাব্য সবকিছুই করছেন। ডিএসই’র সংঘস্মারক অনুযায়ী ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে এ বছর প্রার্থী হওয়ার সুযোগই ছিল না তার। কিন্তু ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের জন্য ডিএসই’র সংঘস্মারকে পরিবর্তন করা হয়। একজন ব্যক্তির ইচ্ছা পূরণে সংঘস্মারকের পরিবর্তনকে সাধারণ সদস্যরা ভালোভাবে নেননি। কিন্তু বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণে এ নিয়ে সাধারণ সদস্যরা খুব একটা উচ্চবাচ্য করেননি। সংঘবিধি সংশোধনের বিষয়ে ডিএসই’র একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন, বড় কোনো কারণ না থাকলেও রকিবুর রহমানকে সভাপতি পদে বহাল রাখার স্বার্থেই সংঘস্মারকের বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।
এদিকে সংঘস্মারকে পরিবর্তন করে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারলেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত হতে পারেননি তিনি। এ কারণে নির্বাচনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, সে জন্য ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) চাপের মুখে ফেলে তিন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে কৌশলে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। যদিও আদালতের রায়ে বাদপড়া দু’জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকাল ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে গত বছর আবার ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর রকিবুর রহমান ডিএসই’র প্রশাসনকে পুরোপুরি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদ থেকে ডিএসই’র প্রশাসন স্বতন্ত্র হলেও সব সময়ই তিনি প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। তার কারণে ডিএসই’র বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতিপতি মৈত্র স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ডিএসই’র প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করেছেন রকিবুর রহমান। ডিএসই’র প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের কারণে এর আগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করে ডিএসই ছেড়ে যান।
বর্তমান সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে কোনো ধরনের তোয়াক্কা করেন না। জিয়াউল হক খন্দকার এসইসি’র চেয়ারম্যান হওয়ার পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই বলে থাকেন রকিবুর রহমান। আর ডিএসই’র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে এসইসি থেকে ছাড়পত্র নেয়ার বিষয়ে এসইসি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তার পেছনে ডিএসই প্রেসিডেন্ট মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে এসইসি’র ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর বাধ্য হয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নেয় এসইসি। এসইসি’র অনেক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিন্তু তারা নিরূপায় হয়ে পড়েন। এ কারণে অনেকেই বলছেন, এসইসি এখন আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয় বরং নিয়ন্ত্রিত সংস্থায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, সময়-সুযোগ পেলেই রকিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক, সাক্ষাতের কথা বলে তার ক্ষমতার মাত্রা বোঝাতে চেষ্টা করেন।
এসব বিষয়ে কথা বলতে কয়েক দফা রকিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এবার নির্বাচনের আগে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল বর্তমান প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানসহ আরও তিনজনের। ডিএসই’র সংঘস্মারক অনুযায়ী, অবসরে যাওয়ার ২ বছর আগে তারা ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কিন্তু গত ২৪ নভেম্বর বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে ডিএসই’র সংঘবিধিতে পরিচালক নির্বাচনের বিধান সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কোনো পরিচালক অবসর গ্রহণের পরপরই আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আর সংঘবিধিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে মূলত রকিবুর রহমানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে। আবার নির্বাচন করার জন্য সংঘস্মারকে এ পরিবর্তন আনা হয়। ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তা স্পষ্ট হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ২৪। এর মধ্যে ১২ জন সদস্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি ১২ জন বিভিন্ন পর্যায় থেকে মনোনীত হন। নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে প্রতিবছর ৪ জন অবসর গ্রহণ করেন এবং ওই চারটি পদে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকরা তাদের মধ্য থেকে এক বছরের জন্য সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেন। একজন পরিচালক পরপর তিনবার এসব পদে নির্বাচিত হতে পারেন।
এদিকে সংঘস্মারকে পরিবর্তন করে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারলেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত হতে পারেননি তিনি। এ কারণে নির্বাচনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, সে জন্য ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) চাপের মুখে ফেলে তিন প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে কৌশলে বাদ দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। যদিও আদালতের রায়ে বাদপড়া দু’জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন। আগামীকাল ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে গত বছর আবার ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর রকিবুর রহমান ডিএসই’র প্রশাসনকে পুরোপুরি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদ থেকে ডিএসই’র প্রশাসন স্বতন্ত্র হলেও সব সময়ই তিনি প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। তার কারণে ডিএসই’র বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতিপতি মৈত্র স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ডিএসই’র প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করেছেন রকিবুর রহমান। ডিএসই’র প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের কারণে এর আগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করে ডিএসই ছেড়ে যান।
বর্তমান সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিকে কোনো ধরনের তোয়াক্কা করেন না। জিয়াউল হক খন্দকার এসইসি’র চেয়ারম্যান হওয়ার পেছনে তার ভূমিকা রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই বলে থাকেন রকিবুর রহমান। আর ডিএসই’র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে এসইসি থেকে ছাড়পত্র নেয়ার বিষয়ে এসইসি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তার পেছনে ডিএসই প্রেসিডেন্ট মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে এসইসি’র ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর বাধ্য হয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নেয় এসইসি। এসইসি’র অনেক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিন্তু তারা নিরূপায় হয়ে পড়েন। এ কারণে অনেকেই বলছেন, এসইসি এখন আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয় বরং নিয়ন্ত্রিত সংস্থায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, সময়-সুযোগ পেলেই রকিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক, সাক্ষাতের কথা বলে তার ক্ষমতার মাত্রা বোঝাতে চেষ্টা করেন।
এসব বিষয়ে কথা বলতে কয়েক দফা রকিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এবার নির্বাচনের আগে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল বর্তমান প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানসহ আরও তিনজনের। ডিএসই’র সংঘস্মারক অনুযায়ী, অবসরে যাওয়ার ২ বছর আগে তারা ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কিন্তু গত ২৪ নভেম্বর বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে ডিএসই’র সংঘবিধিতে পরিচালক নির্বাচনের বিধান সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কোনো পরিচালক অবসর গ্রহণের পরপরই আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আর সংঘবিধিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে মূলত রকিবুর রহমানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে। আবার নির্বাচন করার জন্য সংঘস্মারকে এ পরিবর্তন আনা হয়। ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তা স্পষ্ট হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডিএসই’র পরিচালনা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ২৪। এর মধ্যে ১২ জন সদস্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি ১২ জন বিভিন্ন পর্যায় থেকে মনোনীত হন। নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্যে প্রতিবছর ৪ জন অবসর গ্রহণ করেন এবং ওই চারটি পদে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকরা তাদের মধ্য থেকে এক বছরের জন্য সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেন। একজন পরিচালক পরপর তিনবার এসব পদে নির্বাচিত হতে পারেন।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


