সার্বিয়ান ক্রাইয়েভিচকে চাইছে বাফুফে
স্পোর্টস রিপোর্টার
অল্পদিনের প্রশিক্ষণে সার্বিয়ান জোরান দর্দেভিচের অধীনে ১০ বছর পর এসএ গেমস ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। গেমস ফুটবলের শিরোপা জিততে না জিততেই জোরান দর্দেভিচের আসল চেহারাটা বেরিয়ে আসে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও তত্পরিমাণ অর্থ দাবি করে বসেন এই ৫৭ বছর বয়সী কোচ। বনিবনা না হওয়ায় ঢাকা ছাড়তে হয়েছে তাকে। জোরানের সঙ্গে ছিলেন তার দুই সহকারী। নেপথ্যে জোরান নিজে থাকলেও গেমস ফুটবলে স্বর্ণ জয়ের পেছনে সহকারীদের ভূমিকাও কম নয়। সেসময় দর্দেভিচের এক সহকারী জোরান ক্রাইয়েভিচকে মনে ধরেছিল বাফুফের। বাফুফের বর্তমান লক্ষ্য হলো উয়েফার এ লাইসেন্সধারী কোচ ক্রাইয়েভিচকে ঢাকায় এনে যে কোনো একটি দল তার হাতে তুলে দেয়া। জোরান দর্দেভিচ যখন দুই সহকারীসহ ঢাকা ছাড়েন, তার আগেই ক্রাইয়েভিচ তার সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানাটা দিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে এই কোচের সঙ্গে বাফুফের আলোচনা চলছে। সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে রয়েছেন ক্রাইয়েভিচ। বাফুফের আমন্ত্রণটা প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছেন দীর্ঘদেহী এই কোচ। পরে জানতে চেয়েছেন বিস্তারিত। তাকে নিয়ে বাফুফের লক্ষ্য, বেতন-ভাতাসহ সব খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে অচিরেই বাফুফে জানাবে। বাংলাদেশ ছাড়াও অন্য একটি ক্লাবের প্রস্তাব রয়েছে এই কোচের। তারপরও বাংলাদেশে কাজ করার জন্য তার আগ্রহ কম নয়। মূলত সংশ্লিষ্ট সবার আগ্রহের কারণে ক্রাইয়েভিচকে পেতে চাইছে বাফুফে। ‘দর্দেভিচের সঙ্গে সহকারী হিসেবে ক্রাইয়েভিচ ভালো কাজ করেছেন। স্থানীয় কোচসহ খেলোয়াড়রা তার প্রশংসা করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা তাকে কোচ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কথা চলছে। তিনি বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আমরা অচিরেই সব পাঠাচ্ছি। দেখা যাক কতটুকু কি হয়। তাকে আনা হলে কোন দলের দায়িত্ব দেয়া হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। সভাপতি ও ম্যানেজমেন্ট কমিটির পরামর্শে তা ঠিক হবে।’ বলেছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদী। জোরান দর্দেভিচ যেমন হঠাত্ করে চুক্তি ভঙ্গ করে সবকিছু পাল্টে দিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন, তারই একজন সহকারী ভবিষ্যতে তেমনটি করবেন না—এর নিশ্চয়তা কি? জবাবে বাফুফের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘জোরানের সহকারী থাকলেও তারা কোনো উল্টোপাল্টা কিছু করেননি। বরং পরোক্ষে তাদের অসন্তুষ্টি ঝরে পড়েছিল। দর্দেভিচের কর্মকাণ্ডে মোটেও তাদের সায় ছিল না। এটা বোঝাই গিয়েছিল। এছাড়া সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে ক্রাইয়েভিচকে ভালো মনে হয়েছে।’ জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল হক বলেছেন, ‘দর্দেভিচের সহকারী ক্রাইয়েভিচ কোনো অংশে কম নন। গেমসের প্র্যাকটিসটা মূলত তিনিই করিয়েছিলেন। তার কাছ থেকেই আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তাকে আনতে পারলে দেশের ফুটবল উপকৃত হবে।’ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন অবশ্য জাতীয় দলের জন্য হাইপ্রোফাইল কোচ আনার পক্ষপাতী। এর জন্য ইংলিশ ফুটবল লীগ কমিটির চেয়ারম্যান ডেভ রিচার্ডস তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আপাতত জাতীয় দলের কোনো কার্যক্রম নেই। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে কোচের প্রয়োজন পড়বে। তার আগেই বিদেশি কোচ নিশ্চিতকরণের পক্ষে বাফুফে। তবে জোরান দর্দেভিচের সহকারী জোরান ক্রাইয়েভিচকে আনা প্রসঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় কিছুই জানেন না। কাল দুপুরে এই কর্মকর্তা কুমিল্লা থেকে বলেছেন, ‘আমি ক্রাইয়েভিচকে আমন্ত্রণ জানানো কিংবা তার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে কিছুই জানি না। কেন তাকে আনার চেষ্টা চলছে—এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। আমার সঙ্গে কেউ কোনো আলোচনা করেনি।’
-
খেলাধুলা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


