Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --

আইএসআই’র ইন্ধনে ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নেতৃত্বে পাহাড়ে সংঘাত : সংসদীয় কমিটি

সংসদ রিপোর্টার
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এলাকা ঘুরে এসে মত দিয়েছেন যে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) ইন্ধনে বিএনপি নেতা ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নেতৃত্বেই পাহাড়ে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আর এ সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী খুন করে পাহাড়ে আত্মগোপন করা জামায়াত কর্মীরা। সেখানে কয়েকটি এনজিওর কর্মকাণ্ডও রহস্যজনক। গতকাল জাতীয় সংসদে কমিটি বৈঠক করে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে এবং সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করে। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ও ভবিষ্যতে এজাতীয় ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে তারা।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটি সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ খান, কেএম খালিদ এবং যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা। বৈঠকে পাহাড়ে প্রশাসনের দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্টিং দেয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, পাহাড়ে বাঙালি-পাহাড়িরা একসঙ্গে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। তারা শান্তিতে থাকতে চায়। অথচ একটি বিশেষ মহল সরকারকে ব্যর্থ বোঝাতে সুপরিকল্পিতভাবে সংঘাত সৃষ্টি করেছে। ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাহাড়ি ও বাঙালি বসতিতে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। আর এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির ওয়াদুদ ভুঁইয়া। তাদের ইন্ধনেই সংঘর্ষ হয়েছে। কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে মেরে ম্যানহোলে লাশ ফেলে দেয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে ওয়াদুদ ভুঁইয়ার লোকজন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিবির কর্মীরা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নেয়। পরে তারা দিনদুপুরে মাথায় হেলমেট পরে ওয়াদুদ ভুঁইয়া সমর্থকদের নিয়ে একযোগে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায়। তাদের এ অপকর্মে সহযোগিতা করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারে পাহাড়ি এলাকা অরক্ষিত হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে বিরোধী দল যে দাবি তুলেছে, তা নাকচ করে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকা থেকে ছোট ছোট ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়নি। এটা বিরোধী দল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য বলছে।
কমিটির আরেক সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, পরিদর্শনে তারা দেখেছেন পার্বত্য এলাকায় এ সহিংসতায় মারা গেছে তিনজন। এর মধ্যে একজন বাঙালি। তিনি জানান, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন এনজিও পার্বত্য এলাকায় কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কোথায় কীভাবে অর্থায়ন করছে, তাও কমিটি আলোচনা করেছে। সেখানে এনজিও কার্যক্রম পরিষ্কার নয়। এনজিও কার্যক্রম খতিয়ে দেখতেও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হবে।
এ সহিংসতায় রাজশাহী থেকে পলাতক জামায়াত কর্মীদের যোগ দেয়ার ঘটনা সম্পর্কে আগাম তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি এর সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি গোয়েন্দা সংস্থা ব্যর্থ বলেও স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, এলাকাটি এত দুর্গম যে, না গেলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবেন না। সেখানে এক স্থানের ঘটনা খুব দ্রুত জেনে ফেলা সম্ভব নয়। তবে প্রশাসনে কিছু দুর্বলতা ছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার পোস্টিংকে ভালো না বলে ধরে নেয়া হয়। ভবিষ্যতে যাতে সেখানে দক্ষ কর্মকর্তা পাঠানো হয়, তার সুপারিশ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউএনডিপির উপযুক্ত যানবাহন থাকায় তারা পরিদর্শনকালে সেগুলো ব্যবহার করেছেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?