Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দেশে ২০ শতাংশ নারী নির্যাতিত : খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে : সৈয়দ আশরাফ

স্টাফ রিপোর্টার
নারী নির্যাতন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বেগম জিয়ার এই বক্তব্যের জবাবে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার এই বক্তব্য বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বেগম জিয়ার অভিযোগ সত্য হলে গত তের মাসে দেশে ১ কোটি ৬০ লাখের মতো নারী নির্যাতিত হয়েছে। এই ১ কোটি ৬০ লাখ নির্যাতিত নারীর নাম, ঠিকানা এবং ঘটনাস্থল জাতির সামনে প্রকাশ করুন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবর্ষ উপলক্ষে গত সোমবার ‘কথা- বিনিময়’ অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ‘গত তের মাসে বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে ২০ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন’— এ মন্তব্যের জবাব দিতে আওয়ামী লীগদলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমিন্ডর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়ার এই অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত নির্জলা মিথ্যাচার। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সংঘটিত সংখ্যাতীত অন্যায়-অত্যাচারের দুঃসহ স্মৃতি থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন মানসে খালেদা জিয়া এই কদর্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ দিলাম ১ কোটি ৬০ লাখ নির্যাতিত নারীর নাম, ঠিকানা এবং ঘটনাস্থল জাতির সামনে প্রকাশ করুন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সরকারের অংশ এবং আমরা তাদের কাছ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা আশা করি। খালেদা জিয়ার এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর কারচুপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়কে হরণের পর বরিশাল, বাগেরহাট, খুলনা, ভোলাসহ সারাদেশে কেবলমাত্র নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে অসংখ্য শিশু, কিশোরী, বৃদ্ধা নারীকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে সারাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এক অন্ধকার নিষ্ঠুর বর্বর দুঃশাসন কায়েম করেছিল।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ঘটেছিল। যারা এই দুষ্কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সেই দেশদ্রোহী শক্তি আজ খালেদা জিয়ার পার্টনার। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তার কোনো কথা নেই। তাই খালেদা জিয়ার মুখে এসব কথা শোভা পায় না।
তিনি অতীতের এসব অপরাধের জন্য বেগম জিয়াকে দেশবাসী বিশেষত নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানসহ তার গায়ের ওপর যে পাকিস্তানি প্রেতাত্মা চেপে বসে আছে তা ঝেড়ে ফেলে দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা মেনে নিয়ে রাজনীতির সুস্থ ধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময় নারী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে কমিশন হয়েছে। যারা সেসময় নারী নির্যাতন করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, আমরা তাদের (বিএনপি) কাছে নারী নির্যাতনকারীদের তালিকা থাকলে তা দিতে বলব। তাহলে, আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।
সৈয়দ আশরাফ তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাতিল করার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আজ নারীর জন্য বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া যে মায়াকান্না কাঁদছেন তিনিই তার শাসনামলে সেই নারী উন্নয়ন নীতিকে বাতিল করে উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক জামায়াত গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে মত্ত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের জোট থেকে বাদ দিন, না হলে জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নারীর অধিকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অচিরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে কিন্তু খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে কে, কোথায়, কতজন নারীকে হত্যা করেছে, কতজন নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং মনোরঞ্জনের জন্য কতজন নারীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে তা বেরিয়ে আসবে। এজন্যই খালেদা জিয়া নার্ভাস হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ আলবেনিয়া, যুগোশ্লোভাকিয়া, লাইবেরিয়া এবং লুক্সেমবার্গের উদাহরণ টেনে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের টোকেন বিচার হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে এক লাখের ওপর রাজকার ছিল। এছাড়াও পাকিস্তানের দোষরসহ প্রায় চার-পাঁচ লাখ। এত লোকের বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। তারপরও ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী জেলখানায় বন্দি ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর যেসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছিল তাদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন ও সুস্থ আছেন তাদের বিচার হবে। যেসব ব্যক্তি, সংগঠন ও দল যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দীপু মনি, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আহমেদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাহাউদ্দিন নাসিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?