Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কাইয়ুম চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা

জাকির হোসেন
জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। গতকাল ছিল এই প্রবীণ শিল্পীর ৭৯তম জন্মদিন। দিনটি উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজন করা হয় তার বন্ধু ও আত্মজনের এক প্রীতি সম্মিলন। অনুষ্ঠানে শিল্পীর গুণগ্রাহী ও বন্ধুরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন। দেশের খ্যাতিমান শিল্পী, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন স্তরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বরণ্যদের মিলনমেলায় রূপ নেয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ওহে সুন্দরতম গৃহ তব’ রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী মুর্তজা বশীর, মুস্তাফা মনোয়ার, হাসেম খান, আবু তাহের, বীরেন সোম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল লোহানী, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, সাহিত্যিক আবদুশ শাকুর, লেখক মফিদুল হক, বিশিষ্ট অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, আবৃত্তিকার কাজী আরিফ আহমেদ, কণ্ঠশিল্পী মিতা হক, সামা রহমান, অদ্বিতি মহসিন প্রমুখ।
কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম ফেনীতে, ১৯৩৪ সালে। ক্ষয়িষ্ণু যে-জমিদার পরিবারে তার জন্ম, সেখানে বিত্তের জৌলুস বিশেষ অবশিষ্ট ছিল না কিন্তু এই পরিবারে ছিল শিক্ষা ও উদার মানসের দৃঢ় অবস্থান। পিতা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ছিলেন সমবায় পরিদর্শক এবং পরে সমবায় ব্যাংকের কর্মকর্তা। পারিবারিক পরিবেশ ছাড়াও পিতার সামাজিক যোগাযোগও ছিল অনেক বিস্তৃত। চট্টগ্রামের আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের সঙ্গে তাদের ছিল পারিবারিক যোগাযোগ। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে কাইয়ুম চৌধুরী দেশের অনেক এলাকায় ঘুরেছেন। পিতার প্রভাব তাকে বিশেষ আগ্রহী করে সঙ্গীত ও গ্রন্থপাঠে। বাল্যকালে অর্জিত এই দুই নেশা তার পরবর্তী শিল্পীজীবনে বিশেষভাবে ছায়াপাত করে। স্কুলজীবন থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি তার ঝোঁক ছিল। ১৯৫৪ সালে তিনি যখন ফাইন আর্টস বিভাগের পাঠ সমাপন করেন তখন তার বয়স মাত্র কুড়ি। ১৯৫৫-৫৬ সালে তিনি নানা ধরনের কাজ শুরু করেন। বিজ্ঞাপনী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, আর করেছেন বইয়ের প্রচ্ছদ ও সচিত্রকরণের কাজ। কাইয়ুম চৌধুরী ছায়াছবি নামে একটি চলচ্চিত্র সাময়িকী যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেছিলেন কিছুকাল। ১৯৫৪ সালে তিনি অংশ নেন বর্ধমান ভবনে আয়োজিত নিখিল পাকিস্তান চিত্রপ্রদর্শনীতে। ১৯৫৬ সালে সহশিল্পী মুর্তজা বশীর ও সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘পেইন্টার্স ইউনিট’। ঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত হয় ‘পেইন্টার্স ইউনিট’-এর প্রথম চিত্রপ্রদর্শনী। তিন শিল্পীর সম্মিলিত এই গ্রুুপের এটিই ছিল প্রথম ও শেষ প্রদর্শনী। এরপর নবগঠিত দলটি ভেঙে যায়।
তিনি ১৯৫৭ সালে আর্ট কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের অধিক সময় ধরে তিনি একাগ্র শিল্পচর্চায় আমাদের চারুকলার জগেক ক্রমাগত সমৃদ্ধ করছেন, একাগ্র নিষ্ঠা ও সাধনা দ্বারা অনুপ্রাণিত করছেন বহু শিক্ষার্থী ও শিল্পীকে। আপন সৃষ্টিশীলতার বিভূতি দ্বারা আলোকিত করে চলেছেন আমাদের শিল্পভুবন। এ পর্যন্ত তার ৪টি একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার’ ও ১৯৮৬ সালে ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?