Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --

শেখ হাসিনার মিগ-২৯ দুর্নীতির মামলাও বাতিল : গোপালগঞ্জ আ’লীগের সাবেক সভাপতি বিচারপতি শামসুল হুদার কোর্টে আরও ৫ মামলার শুনানি আজ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর দায়ের করা মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয় দুর্নীতি মামলাটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট বিভাগ। গতকাল বিচারপতি এএইচএম শামসুল হুদা ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দায়ের করা আরও ৫টি দুর্নীতির মামলা কোয়াশমেন্টের আবেদন আজ শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে বিচারপতি শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবুবকর সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে মামলাগুলো শুনানির জন্য কার্যতালিকায় নির্ধারিত রয়েছে।
মিগ-২৯ দুর্নীতি মামলা বাতিল করে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পর ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আমাদের যুক্তিগুলো গ্রহণ করে মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয়ে দুর্নীতির মামলাটি বাতিল করে দিয়েছেন।
সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটির চার্জ গঠনে অনিয়ম ও বেআইনি হয়েছিল বলেও আদালত রায়ে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে।
জেনারেল মইন উ আহমেদের নিয়ন্ত্রিত জরুরি অবস্থার সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয়ে দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই মামলায় চার্জ গঠন করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন দায়ের করেন শেখ হাসিনা। বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক আজাদ সমন্বয়ে গঠিত তত্কালীন ডিভিশন বেঞ্চ রিট আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে ১৮ সেপ্টেম্বর রুল জারি করেন। সরকারের প্রতি কারণ দর্শানোর রুল জারি করে জানতে চাওয়া হয়, আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠন কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। এই রুলের শুনানি শেষে গতকাল চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেছিল। মামলা নং ৩৫(১১-১২-০১)। ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯৯৯ সালে মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয়ে ৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয় মামলাটিতে। তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ২৯ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন তত্কালীন বিমানবাহিনী প্রধান জামাল উদ্দিন আহমদ, তত্কালীন সেনাবাহিনী প্রধান লে. জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব সৈয়দ ইউসুফ হোসেন, ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর আলী।
চার্জশিট দাখিলের পর শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারায় কোয়াশমেন্ট আবেদন করা হয়। আদালত কোয়াশমেন্ট আবেদনটি গ্রহণ করে সরকারের প্রতি কারণ দর্শানোর রুল জারি করে। একই সঙ্গে নিম্নআদালতে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
জরুরি অবস্থার সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাইকোর্ট বিভাগে শেখ হাসিনার কোয়াশমেন্ট আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়। যদিও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বার বার সময় নিয়েছেন শেখ হাসিনার আইনজীবীরা। জরুরি অবস্থার সরকারের সময় শেখ হাসিনার কোয়াশমেন্ট আবেদনটির শুনানি গ্রহণ করে ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ কোয়াশমেন্ট আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে তখন বলা হয়েছিল, মামলাটি নিম্নআদালতে বিচারের উপাদান রয়েছে। যেসব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তা নিম্নআদালতে বিচার্য বিষয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরের অনুমতি) আবেদন করেছিলেন শেখ হাসিনা। আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ শুনানি শেষে শেখ হাসিনার লিভ টু আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়। এতে নিম্নআদালতে আবারও মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট চার্জ গঠনের করে নিম্নআদালত। এই চার্জ গঠনের বৈধতা নিয়ে আবারও রিট আবেদনটি করেছিলেন শেখ হাসিনা।
আরও ৫ মামলা শুনানির তালিকায় : চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দায়ের করা আরও ৫টি দুর্নীতি মামলার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দায়ের করা কোয়াশমেন্ট আবেদন ও রিট আবেদন শুনানির তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও শেখ সেলিম এমপির দুটি এবং শেখ ফজলে নূর তাপস এমপিসহ শেখ পরিবারের আরও দুই আত্মীয়সহ মোট ৯টি মামলা আজ বিচারপতি মোঃ শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
এই ৯টি মামলা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের। শুনানির জন্য নির্ধারিত মামলার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়ের করা ফৌজদারি মিস ৮৩১৭/২০০৮, ফৌজদারি মিস ৮৯৬২/২০০৮, ফৌজদারি মিস ১২২৭৩/২০০২, ফৌজদারি মিস ১৩১৬৩/২০০৩, ফৌজদারি মিস ১২৭২৪/২০০২নং মামলা, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের দায়ের করা ফৌজদারি মিস ১০৪৬১/২০০৩, ফৌজদারি মিস ৩৭৮৮/২০০৩নং মামলা, ফজলে নূর তাপসের দায়ের করা ফৌজদারি মিস ৮৮০৯/২০০২নং মামলা এবং নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের দায়ের করা ফৌজদারি মিস ১৫৩২৪/২০০৮নং মামলা গতকাল বিচারপতি শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকায় উল্লেখ ছিল। তবে সবগুলো মামলার পাশেই উল্লেখ রয়েছে ১০ মার্চ শুনানির জন্য নির্ধারিত।
উল্লেখ্য, বিচারপতি শামসুল হুদার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায়। এক সময় তিনি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি ছিলেন। তিনি একবার উপজেলা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরশাদের পতনের আগে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগে মোঃ শামসুল হুদাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার অস্থায়ী নিয়োগের দুই বছর মেয়াদ শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী অস্থায়ী নিয়োগের দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন স্থায়ী নিয়োগ দেয়া না হলে বিচারপতি পদ থেকে বাদ পড়েন। তাকে স্থায়ী বিচারপতি পদে নিয়োগ না দেয়ায় তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন। একই সঙ্গে স্থায়ী নিয়োগ না দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলাম প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যাওয়ার আগে বিচারপতি শামসুল হুদাকে ফৌজদারি মোশনসহ সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি কার্যবিধির কয়েকটি ধারার আওতায় দায়ের করা মামলা শুনানির এখতিয়ার দিয়ে বেঞ্চে সিনিয়র বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন। এর আগে তিনি কখনও বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি।
উল্লেখ্য, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ার পর পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন অনেক বিচারপতিও বর্তমানে ডিভিশন বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?