হাইকোর্টের রায় ঐতিহাসিক : সংসদে মেনন : পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংসদের ওপর হস্তক্ষেপ : সাকা চৌধুরী
সংসদ রিপোর্টার
গতকাল জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী সম্পর্কে দেয়া হাইকোর্টের রায় নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের দুই সিনিয়র সদস্যের মধ্যে প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়েছে। উভয়ই তথ্য-প্রমাণসহ পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। এ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়কে আইনসভার ওপর সুপ্রিমকোর্টের হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদ কোনো আইন করলে সেটা হাইকোর্ট বাতিল করতে পারেন না। সংসদের ওপর বিচার বিভাগের এই হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। সে কারণে হাইকোর্টের অবৈধ ঘোষণা করা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অপরদিকে মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বিভিন্ন দেশের হাইকোর্টের রায়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় ঐতিহাসিক। এটা দেশের গণতন্ত্র বিকাশে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এই রায়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধীর বিচারসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের পথ সুগম হয়েছে বলেই আমাদের বন্ধুরা (বিরোধী দল) কোর্টের এই রায়ের সমালোচনা করছেন। রাশেদ খান মেনন পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পাশাপাশি সংবিধানের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম সংশোধনীও বাতিলের দাবি জানান। গতকাল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
সরকারি দলের এমপি খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তৃতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘ঘাতক-খুনি’ বললে স্পিকার সঙ্গে সঙ্গে তা এক্সপাঞ্জ করে দেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে দুুটি মেরুকরণ ফুটে উঠেছে। এর একটি হচ্ছে একদলীয়, ধর্মনিরপেক্ষ, বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, আর অন্যটি হচ্ছে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা, ইসলামী মূল্যবোধ আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনই জিয়াউর রহমানের অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই।
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু জনগণের দেয়া আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক দায়দায়িত্ব এখন আইনসভা থেকে হাইকোর্টের কাছে চলে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত আইন হাইকোর্ট চ্যালেঞ্জ করছে। সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব নিয়েও আমরা সেটা করতে পারছি না। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অন্তত মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হাইকোর্টের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন এটা আশা করা যায় না। জেলা জজের পদমর্যাদা ক্যাবিনেট সচিবের ওপরে রেখে হাইকোর্টের রায় সরকারের নির্বাহী বিভাগের ওপর হাইকোর্টের নগ্ন হস্তক্ষেপ বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর বলা হয়েছে ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল’। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন গাড়ির বহর নিয়ে যান তখন মইন উ আহমেদকে বলতে শোনা যায় ‘এই সরকার আমাদের কার্যক্রমেরই ফসল’।
রাজনীতিবিদ হিসেবে সবাইকে ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওই সময় অনেকের মধ্যে উচ্চাভিলাষের কারণে বেইমানির প্রবণতা দেখা গেছে। আপনজন, আত্মীয়স্বজন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বর্তমানের প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়ে কবে প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধ হবে জাতি তার জন্য অপেক্ষা করছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু রাজনৈতিক আদর্শের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিকের জনজীবনের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কোথাও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না। ড. কামাল হোসেন হঠাত্ করে এটা সংবিধানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে অনেক সহকর্মী সরবভাবে কথা বলছেন। কিন্তু তারা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের মতো সরব হতে পারেননি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আজ যেখানে যাই সেখানেই দুর্নীতি। রাস্তা বানাতে গেলে দুর্নীতি, জিনিসপত্র কিনতে গেলে দুর্নীতি, ব্যাংক থেকে টাকা ওঠাতে গেলে দুর্নীতি। তিনি বলেছিলেন, আমরা যারা ৫ পারসেন্ট শিক্ষিত রয়েছি, আমরাই সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নশিপের দাবিদার শেখ মুজিব তা আওয়ামী লীগের ওপর অর্পণ করে গেছেন।
সংবিধানে বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, বিসমিল্লাহ বললে আমাদের কী যেন সমস্যা হয়। কিন্তু ওই ২৫ জানুয়ারিই শেখ মুজিব বলেছিলেন, আল্লাহর নামে চলুন, আমরা বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর নামে অগ্রসর হই। শেখ মুজিবই বিসমিল্লাহর স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। আর জিয়াউর রহমান তা সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছেন।
‘১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন’ প্রধানমন্ত্রীর ৭ মার্চের এই বক্তব্য খণ্ডন করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু ঠিক করে রেখেছিলেন কখন কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ হবে। যুদ্ধ হলে শরণার্থীরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে। তাহলে আমার প্রশ্ন, ওই পরিকল্পনায় কত লাখ লোক নিহত হবে, গৃহহারা হবে, সম্ভ্রমহারা হবে তা কি ছিল? শেখ মুজিব গ্রেফতার হয়ে পাকিস্তানে চলে যাবেন, তার পরিবার নিরাপদ কাস্টডিতে থাকবে, আবার ফিরে এসে পরিবারে অন্তর্ভুক্ত হবেন, এটা কি মরহুম মুজিবরের ওই পরিকল্পনায় ছিল?
‘জিয়াউর রহমানের লাশ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দলের যেসব বন্ধু জিয়ার লাশের খোঁজে আছেন, তারা ইত্তেফাকে প্রকাশিত জিয়ার জানাজার ছবিটি দেখে নেবেন। তাহলেই প্রমাণ হবে লাশ ছিল কি ছিল না? তিনি বলেন, সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করছে। ১৯৭৫ সালের ২১ আগস্টের পত্রিকায় হিন্দুস্তানের হাইকমিশনার খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন, সেই ছবিটি বোধহয় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসেনি। যাদের শত্রু মনে করে খুঁজছেন সেখানে শত্রু খুঁজে লাভ নেই। শত্রু কোথায় আছে খুঁজলেই পাবেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন তার বক্তৃতায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুরো বক্তব্যেরই জবাব দেন। তিনি পঞ্চম সংশোধনী পাস হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আজ পঞ্চম সংশোধনীর পক্ষে অবস্থান নিলেও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওই সংশোধনী পাসের দিনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। তবে এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মাথা নেড়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। মেনন এর জবাবে পঞ্চম সংশোধনী পাসের দিনে সংসদে উপস্থিত থাকা দুই এমপি জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং হুইপ আ.স.ম. ফিরোজকে সাক্ষী মানেন।
এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের তুমুল করতালির মধ্যে মেনন বলেন, পঞ্চম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। এ রায় গণতন্ত্র বিকাশে মাইলফলক হয়ে থাকবে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বিএনপি নেতাদের মনে বড় ব্যথা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কেন হলো? কেন খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হলো? এ ব্যথার কারণেই কেবল মওদুদ আহমদ ছাড়া বিএনপির কোনো নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। জানি না মওদুদ আহমদ নতুন কোনো পথে যাচ্ছেন কিনা?
মেনন বলেন, কেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিসমিল্লাহকে টানছেন। আসলে বিএনপি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের চরিত্র নষ্ট করেছে। এ কারণেই বিসমিল্লাহ নিয়ে তাদের গাত্রদাহ। তাদের রেখে যাওয়া জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর তত্পরতা এখনও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে শুধু নিজামী-মুজাহিদ নয়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
দুর্নীতি নিয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দেয়া বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি প্রসঙ্গে মেনন বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছিল। ওই সময় বঙ্গবন্ধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সত্সাহস দেখিয়েছেন। আর ওয়ান ইলেভেনের পর আপনারা দামি গাড়ি রাস্তায় ফেলে জেলে গিয়ে ভালো ছিলেন। জেলখানায় আপনাদের জন্য কারপেট থাকত। আপনারা নিজেদের টাকায় কারাগারে মসজিদ বানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এখনও দুর্নীতি আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে উদ্ধার করেছেন। মেনন ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সময়কে কলঙ্কের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অনেকের দেশে ফেরার জন্য এখন প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। মেননের বক্তব্যের সময় বিএনপির শাম্মী আখতার প্রতিবাদ করলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানান। মেনন ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তর্কে জড়িয়ে পড়েন। রাশেদ খান মেনন বিদ্যুতের বিরাজমান লোডশেডিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সঙ্কটও বেড়েছে। খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিও চলছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, সরকার আদালত কিংবা কোনো তদন্তে হস্তক্ষেপ করছে না। সবকিছু স্বাধীনভাবে চলছে।
জাসদের মাইনুদ্দিন খান বাদল ব্যক্তিগত কৈফিয়তে বলেন, জাসদ গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করা হলেও রাতের অন্ধকারে কারো রগ কাটা হয়নি। জাসদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস করেনি।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, নাম বদলের রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। যারা নিজের জন্ম তারিখও পরিবর্তন করে তাদের মুখে এ ধরনের অভিযোগ শোভা পায় না।
জিয়াউর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক ঘাতক খুনিকে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যতই চেষ্টা হোক না কেন বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু অমর হয়েই থাকবেন। পরে অবশ্য স্পিকার অবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ‘ঘাতক’ ‘খুনি’ শব্দ দুটি এক্সপাঞ্জ করে নেন।
বিএনপির আশরাফ উদ্দিন নিজান জাতীয় ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি আমরা আর কতদিন করব? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি, এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা যাবে না, হেয় করা যাবে না।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রিসভায় পাস করা সনদ রাষ্ট্রপতি রোবটের মতো সংসদে উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রপতির পাঠ করা অসত্য বক্তব্য শুনে ব্যথিত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
‘গত এক বছরে তার সরকারের একজন মন্ত্রীও দুর্নীতি করেনি’—প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আমি অবাক হয়েছি। মন্ত্রী দুর্নীতি করছেন কী করেননি এটা তিনি কী করে জানলেন? এটা তো মন্ত্রীদের স্ত্রী আর ড্রাইভারদের জানার কথা। তিনি বলেন, মন্ত্রীদের দুর্নীতি না করার প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে তাদের ড্রাইভাররা হেসেছেন। কারণ, মন্ত্রীরা কিভাবে কোত্থেকে টাকা নেন তা ড্রাইভাররা জানেন। আর টাকা বাসায় স্ত্রীদের কাছে রাখেন।
বিএনপির বরকতউল্লাহ বুলু তার বক্তব্যে স্বাধীনতা পরবর্তী শাসনামলের কথা তুলে ধরে বলেন, মানুষ ভুলে যায়নি ১৯৭৪ সালে জাল দিয়ে বাসন্তীর লজ্জা নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা। ওই সময় মানুষের ৫টি মৌলিক অধিকার গলাটিপে হত্যা করা হয়। মানুষের বাকস্বাধীনতা ছিল না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।
সরকারি দলের এমপি খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তৃতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘ঘাতক-খুনি’ বললে স্পিকার সঙ্গে সঙ্গে তা এক্সপাঞ্জ করে দেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে দুুটি মেরুকরণ ফুটে উঠেছে। এর একটি হচ্ছে একদলীয়, ধর্মনিরপেক্ষ, বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, আর অন্যটি হচ্ছে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা, ইসলামী মূল্যবোধ আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনই জিয়াউর রহমানের অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই।
পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু জনগণের দেয়া আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক দায়দায়িত্ব এখন আইনসভা থেকে হাইকোর্টের কাছে চলে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত আইন হাইকোর্ট চ্যালেঞ্জ করছে। সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব নিয়েও আমরা সেটা করতে পারছি না। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অন্তত মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হাইকোর্টের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন এটা আশা করা যায় না। জেলা জজের পদমর্যাদা ক্যাবিনেট সচিবের ওপরে রেখে হাইকোর্টের রায় সরকারের নির্বাহী বিভাগের ওপর হাইকোর্টের নগ্ন হস্তক্ষেপ বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর বলা হয়েছে ‘এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল’। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন গাড়ির বহর নিয়ে যান তখন মইন উ আহমেদকে বলতে শোনা যায় ‘এই সরকার আমাদের কার্যক্রমেরই ফসল’।
রাজনীতিবিদ হিসেবে সবাইকে ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওই সময় অনেকের মধ্যে উচ্চাভিলাষের কারণে বেইমানির প্রবণতা দেখা গেছে। আপনজন, আত্মীয়স্বজন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বর্তমানের প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়ে কবে প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধ হবে জাতি তার জন্য অপেক্ষা করছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু রাজনৈতিক আদর্শের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে বাংলাদেশ নয়, পাকিস্তানের প্রতিটি নাগরিকের জনজীবনের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কোথাও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল না। ড. কামাল হোসেন হঠাত্ করে এটা সংবিধানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে অনেক সহকর্মী সরবভাবে কথা বলছেন। কিন্তু তারা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের মতো সরব হতে পারেননি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আজ যেখানে যাই সেখানেই দুর্নীতি। রাস্তা বানাতে গেলে দুর্নীতি, জিনিসপত্র কিনতে গেলে দুর্নীতি, ব্যাংক থেকে টাকা ওঠাতে গেলে দুর্নীতি। তিনি বলেছিলেন, আমরা যারা ৫ পারসেন্ট শিক্ষিত রয়েছি, আমরাই সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নশিপের দাবিদার শেখ মুজিব তা আওয়ামী লীগের ওপর অর্পণ করে গেছেন।
সংবিধানে বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, বিসমিল্লাহ বললে আমাদের কী যেন সমস্যা হয়। কিন্তু ওই ২৫ জানুয়ারিই শেখ মুজিব বলেছিলেন, আল্লাহর নামে চলুন, আমরা বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর নামে অগ্রসর হই। শেখ মুজিবই বিসমিল্লাহর স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। আর জিয়াউর রহমান তা সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছেন।
‘১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন’ প্রধানমন্ত্রীর ৭ মার্চের এই বক্তব্য খণ্ডন করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু ঠিক করে রেখেছিলেন কখন কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ হবে। যুদ্ধ হলে শরণার্থীরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে। তাহলে আমার প্রশ্ন, ওই পরিকল্পনায় কত লাখ লোক নিহত হবে, গৃহহারা হবে, সম্ভ্রমহারা হবে তা কি ছিল? শেখ মুজিব গ্রেফতার হয়ে পাকিস্তানে চলে যাবেন, তার পরিবার নিরাপদ কাস্টডিতে থাকবে, আবার ফিরে এসে পরিবারে অন্তর্ভুক্ত হবেন, এটা কি মরহুম মুজিবরের ওই পরিকল্পনায় ছিল?
‘জিয়াউর রহমানের লাশ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দলের যেসব বন্ধু জিয়ার লাশের খোঁজে আছেন, তারা ইত্তেফাকে প্রকাশিত জিয়ার জানাজার ছবিটি দেখে নেবেন। তাহলেই প্রমাণ হবে লাশ ছিল কি ছিল না? তিনি বলেন, সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করছে। ১৯৭৫ সালের ২১ আগস্টের পত্রিকায় হিন্দুস্তানের হাইকমিশনার খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন, সেই ছবিটি বোধহয় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসেনি। যাদের শত্রু মনে করে খুঁজছেন সেখানে শত্রু খুঁজে লাভ নেই। শত্রু কোথায় আছে খুঁজলেই পাবেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন তার বক্তৃতায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুরো বক্তব্যেরই জবাব দেন। তিনি পঞ্চম সংশোধনী পাস হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আজ পঞ্চম সংশোধনীর পক্ষে অবস্থান নিলেও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওই সংশোধনী পাসের দিনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। তবে এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মাথা নেড়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। মেনন এর জবাবে পঞ্চম সংশোধনী পাসের দিনে সংসদে উপস্থিত থাকা দুই এমপি জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং হুইপ আ.স.ম. ফিরোজকে সাক্ষী মানেন।
এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের তুমুল করতালির মধ্যে মেনন বলেন, পঞ্চম সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। এ রায় গণতন্ত্র বিকাশে মাইলফলক হয়ে থাকবে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বিএনপি নেতাদের মনে বড় ব্যথা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কেন হলো? কেন খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হলো? এ ব্যথার কারণেই কেবল মওদুদ আহমদ ছাড়া বিএনপির কোনো নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। জানি না মওদুদ আহমদ নতুন কোনো পথে যাচ্ছেন কিনা?
মেনন বলেন, কেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিসমিল্লাহকে টানছেন। আসলে বিএনপি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের চরিত্র নষ্ট করেছে। এ কারণেই বিসমিল্লাহ নিয়ে তাদের গাত্রদাহ। তাদের রেখে যাওয়া জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর তত্পরতা এখনও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে শুধু নিজামী-মুজাহিদ নয়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
দুর্নীতি নিয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দেয়া বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি প্রসঙ্গে মেনন বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছিল। ওই সময় বঙ্গবন্ধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সত্সাহস দেখিয়েছেন। আর ওয়ান ইলেভেনের পর আপনারা দামি গাড়ি রাস্তায় ফেলে জেলে গিয়ে ভালো ছিলেন। জেলখানায় আপনাদের জন্য কারপেট থাকত। আপনারা নিজেদের টাকায় কারাগারে মসজিদ বানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এখনও দুর্নীতি আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে উদ্ধার করেছেন। মেনন ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সময়কে কলঙ্কের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অনেকের দেশে ফেরার জন্য এখন প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। মেননের বক্তব্যের সময় বিএনপির শাম্মী আখতার প্রতিবাদ করলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানান। মেনন ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তর্কে জড়িয়ে পড়েন। রাশেদ খান মেনন বিদ্যুতের বিরাজমান লোডশেডিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সঙ্কটও বেড়েছে। খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিও চলছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, সরকার আদালত কিংবা কোনো তদন্তে হস্তক্ষেপ করছে না। সবকিছু স্বাধীনভাবে চলছে।
জাসদের মাইনুদ্দিন খান বাদল ব্যক্তিগত কৈফিয়তে বলেন, জাসদ গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করা হলেও রাতের অন্ধকারে কারো রগ কাটা হয়নি। জাসদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস করেনি।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, নাম বদলের রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। যারা নিজের জন্ম তারিখও পরিবর্তন করে তাদের মুখে এ ধরনের অভিযোগ শোভা পায় না।
জিয়াউর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক ঘাতক খুনিকে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যতই চেষ্টা হোক না কেন বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু অমর হয়েই থাকবেন। পরে অবশ্য স্পিকার অবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ‘ঘাতক’ ‘খুনি’ শব্দ দুটি এক্সপাঞ্জ করে নেন।
বিএনপির আশরাফ উদ্দিন নিজান জাতীয় ঐকমত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি আমরা আর কতদিন করব? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি, এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা যাবে না, হেয় করা যাবে না।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রিসভায় পাস করা সনদ রাষ্ট্রপতি রোবটের মতো সংসদে উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রপতির পাঠ করা অসত্য বক্তব্য শুনে ব্যথিত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
‘গত এক বছরে তার সরকারের একজন মন্ত্রীও দুর্নীতি করেনি’—প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আমি অবাক হয়েছি। মন্ত্রী দুর্নীতি করছেন কী করেননি এটা তিনি কী করে জানলেন? এটা তো মন্ত্রীদের স্ত্রী আর ড্রাইভারদের জানার কথা। তিনি বলেন, মন্ত্রীদের দুর্নীতি না করার প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে তাদের ড্রাইভাররা হেসেছেন। কারণ, মন্ত্রীরা কিভাবে কোত্থেকে টাকা নেন তা ড্রাইভাররা জানেন। আর টাকা বাসায় স্ত্রীদের কাছে রাখেন।
বিএনপির বরকতউল্লাহ বুলু তার বক্তব্যে স্বাধীনতা পরবর্তী শাসনামলের কথা তুলে ধরে বলেন, মানুষ ভুলে যায়নি ১৯৭৪ সালে জাল দিয়ে বাসন্তীর লজ্জা নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা। ওই সময় মানুষের ৫টি মৌলিক অধিকার গলাটিপে হত্যা করা হয়। মানুষের বাকস্বাধীনতা ছিল না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া

