কৃষি সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিষয়ক এক সিম্পোজিয়ামে কৃষি ও কৃষি অর্থনীতি উন্নয়নে একটি সমন্বিত উন্নয়ন নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। এজন্য নীতি কাঠামো প্রণয়ন এবং ভূমি সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলেছেন তারা। নিত্যপণ্য মূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থির মূল্য নির্ধারণেরও দাবি জানান বক্তারা। ‘খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি’ শিরোনামে ৩ দিনের এ সিম্পোজিয়াম গতকাল উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজক গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রাচরাভিযান।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর বাধা সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো কাজ নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ রেজাউল করিম হীরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হাক ইনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।
বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেভেলপমেন্ট সিনার্জী ইনস্টিটিউটের মনোয়ার মোস্তফা এবং জাকির হোসেন। এসএসআরএল-এর সমন্বয়ক ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মোঃ রেজাউল করিম হীরা বলেন, জিডিপিতে কৃষির অবদান কম হলেও খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিকে কর্মসংস্থানের বৃহত্তম ক্ষেত্র উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ শ্রমিক কৃষিতে জড়িত, কর্মসংস্থানেও কৃষি গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন এবং কৃষকের ন্যায্য হিস্যা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ লক্ষ্যে কৃষি সহায়তা খাতে ১২১ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া নদী-খাল খনন, কৃষি কার্ড, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার কথাও বলেন। ভূমি সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভূমি দখলদারদের হাত থেকে সকল ভূসম্পত্তি উদ্ধার করা হবে। কারণ, বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এ স্লোগানে যারা বিশ্বাস করে না তারাই ভূমি দখল করে আছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির দাফটে ভূমি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তবাজার অর্থনীতির দিন শেষ মন্তব্য করে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু উদ্যোক্তা ও ভোক্তা সমন্বয়ে সামাজিক অর্থনীতি চালুর দাবি জানান। তিনি বলেন, চাল, ডাল, আটা, ভোজ্য তেল, কেরোসিন—এ পাঁচটি নিত্যপণ্যের দাম সরকারের গোটা মেয়াদ পর্যন্ত স্থির মূল্যে রাখতে হবে। এ জন্য আমদানি ও ভর্তুকি নীতি প্রণয়ন এবং গণবিপণন সংস্থা টিসিবিকে সক্রিয় করার কথা বলেন তিনি। বাজেটে কৃষকদের সমবায় খাতে সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃষকদের সমবায় না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এ খাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।
সিম্পোজিয়ামে বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সার্বিক কৃষি উন্নয়নে ভূমি সংস্কার করার কথা বলেন। এজন্য ভূমি সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, জলবায়ুর কারণে কৃষি পরিস্থিতি নাজুক। জমি কমছে ১ শতাংশ হারে। আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি উত্পাদন ৪০ শতাংশ কমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। ফলে পরের বছর আর চাষ করে না । এভাবে অনেক কৃষিপণ্য হারিয়ে যায়। কৃষির এ দশা এবং মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থেকে কৃষিকে রক্ষার জন্য কৃষক সমবায় গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। কৃষিকে রফতানিভিত্তিক উন্নয়ন বাস্তবতায় নিয়ে আসতে হবে। তবে কৃষকের উন্নয়নে এসব নীতির বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বাধা সৃষ্টি করা ছাড়া কোন কাজ নেই। এ বাধা দূর করা না গেলে কৃষি কিংবা অর্থনৈতিক কোনো উন্নয়ননীতিই কার্যকর করা যাবে না। ।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর বাধা সৃষ্টি করা ছাড়া কোনো কাজ নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ রেজাউল করিম হীরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হাক ইনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।
বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেভেলপমেন্ট সিনার্জী ইনস্টিটিউটের মনোয়ার মোস্তফা এবং জাকির হোসেন। এসএসআরএল-এর সমন্বয়ক ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মোঃ রেজাউল করিম হীরা বলেন, জিডিপিতে কৃষির অবদান কম হলেও খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিকে কর্মসংস্থানের বৃহত্তম ক্ষেত্র উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ শ্রমিক কৃষিতে জড়িত, কর্মসংস্থানেও কৃষি গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন এবং কৃষকের ন্যায্য হিস্যা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ লক্ষ্যে কৃষি সহায়তা খাতে ১২১ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া নদী-খাল খনন, কৃষি কার্ড, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার কথাও বলেন। ভূমি সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভূমি দখলদারদের হাত থেকে সকল ভূসম্পত্তি উদ্ধার করা হবে। কারণ, বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এ স্লোগানে যারা বিশ্বাস করে না তারাই ভূমি দখল করে আছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির দাফটে ভূমি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তবাজার অর্থনীতির দিন শেষ মন্তব্য করে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু উদ্যোক্তা ও ভোক্তা সমন্বয়ে সামাজিক অর্থনীতি চালুর দাবি জানান। তিনি বলেন, চাল, ডাল, আটা, ভোজ্য তেল, কেরোসিন—এ পাঁচটি নিত্যপণ্যের দাম সরকারের গোটা মেয়াদ পর্যন্ত স্থির মূল্যে রাখতে হবে। এ জন্য আমদানি ও ভর্তুকি নীতি প্রণয়ন এবং গণবিপণন সংস্থা টিসিবিকে সক্রিয় করার কথা বলেন তিনি। বাজেটে কৃষকদের সমবায় খাতে সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃষকদের সমবায় না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এ খাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।
সিম্পোজিয়ামে বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সার্বিক কৃষি উন্নয়নে ভূমি সংস্কার করার কথা বলেন। এজন্য ভূমি সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, জলবায়ুর কারণে কৃষি পরিস্থিতি নাজুক। জমি কমছে ১ শতাংশ হারে। আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি উত্পাদন ৪০ শতাংশ কমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। ফলে পরের বছর আর চাষ করে না । এভাবে অনেক কৃষিপণ্য হারিয়ে যায়। কৃষির এ দশা এবং মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থেকে কৃষিকে রক্ষার জন্য কৃষক সমবায় গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। কৃষিকে রফতানিভিত্তিক উন্নয়ন বাস্তবতায় নিয়ে আসতে হবে। তবে কৃষকের উন্নয়নে এসব নীতির বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বাধা সৃষ্টি করা ছাড়া কোন কাজ নেই। এ বাধা দূর করা না গেলে কৃষি কিংবা অর্থনৈতিক কোনো উন্নয়ননীতিই কার্যকর করা যাবে না। ।
-
শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


