Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জিএবিভি সম্মেলন সমাপ্ত : ১০০ কোটি মানুষকে ব্যাংকিং সেবা দেয়ার পরিকল্পনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
বিশ্বে টেকসই প্রবণতার মধ্যে থাকা ব্যাংকগুলোর জোট ‘গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ’র (জিএবিভি) দ্বিতীয় সম্মেলন গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সমাপ্ত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে জিএবিভি নেতারা নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত তাদের ব্যাংকগুলোকে মূলধারায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত একশ’ কোটি মানুষকে ব্যাংকিংসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আয়োজকরা বলেছেন, এক সময় বিনিয়োগের আগে তারা লাভ নিশ্চিত করা নিয়ে ভাবতেন। আর এখন থেকে তারা বিনিয়োগ করার আগে ভাববেন, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাজ কতটুকু এগিয়ে যাবে বা উপকৃত হবেন। যে বিনিয়োগে সমাজ উপকৃত হবে না, সে বিনিয়োগ থেকে তারা বিরত থাকবেন।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১১টি টেকসই ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত জিএবিভি’র প্রতিষ্ঠাতা, নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নির্বাহীরা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এ নেটওয়ার্কের সম্মেলনে মিলিত হন সবাই মিলে একযোগে আর্থিক খাতের জন্য একটি টেকসই বা নির্ভরযোগ্য ভবিষ্যত্ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে। তারা আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তারা আশা করেন, বিশ্বে সত্যিকার অর্থেই নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এমন মডেলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাংক জিএবিভি জোট বা নেটওয়ার্কের সদস্য হবে এবং সেই সঙ্গে নতুন নতুন টেকসই ব্যাংকের আবির্ভাব ঘটবে।
জিএবিভি সদস্যরা একযোগে কাজ করার মাধ্যমে টেকসই ব্যাংক ব্যবস্থার সম্প্র্রসারণের বিষয়ে জোর দেন। তারা বিশ্বব্যাপী টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রভাব ছড়িয়ে দেয়া, যৌথ উদ্যোগে মূলধন সংগ্রহ বাড়ানো ও একটি কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যাতে নতুন প্রজন্মের টেকসই ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাংকাররা জিএবিভির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ নেটওয়ার্কের সদস্য ব্যাংকগুলো এমন একটি ব্যবসায়িক মডেলের উন্নয়ন ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন, যেটি বিশ্বের সবচেয়ে জরুরি সামাজিক ও পরিবেশ বিষয়ক সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়কে গুরুত্ব দেয়।
সম্মেলনটির আয়োজক জিএবিভির সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ব্র্যাকের (বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফজলে হাসান আবেদ সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘জিএবিভির সদস্যরা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। সত্যিকারভাবে বিশ্বে শত কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের বিষয়ে এটি হচ্ছে নতুন একটি বড় প্রতিশ্রুতি। সেই সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তন রোধের ব্যাপারেও আমরা অন্যদের চেয়ে ঢের ভিন্নতর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
জিএবিভির সদস্য ব্যাংকগুলো সাধারণত সমাজের যেসব জনগণ, কমিউনিটি বা জনগোষ্ঠীকে এবং যেখানে পরিবেশ রক্ষায় অর্থায়ন সুবিধা দেয়া হয়নি, তাদেরও সেসব জায়গায় এ ধরনের সুযোগ করে দেয়। যাতে তারা টেকসই আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ পায়। বর্তমানে বিশ্বের ২০টি দেশে এসব ব্যাংকের মোট ৭০ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এ ছাড়া জিএবিভির সদস্য ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত ব্যালেন্স শিট বা স্থিতিপত্রে রয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ।
গতকাল সম্মেলন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, আমরা মূল্যবোধ তাড়িত ব্যাংকের বিকাশ চাই। এ জাতীয় ব্যাংকের সদস্য বাড়াতে চাই। আর এ কারণেই আমরা একশ’ কোটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করেছি। এ ব্যাপারে আমরা ২৫ কোটি ডলারের যে তহবিল গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছি, তার মধ্যে স্রেফ ইউরোপের ব্যাংকগুলো দেবে ১৫ কোটি ডলার। এতে বাকি ব্যাংকগুলোর পক্ষে টার্গেট পূরণ করা সহজ হবে।
আমেরিকান ব্যাংকার লরি স্প্যাংলার বলেন, বৈশ্বিক মন্দার কারণে বিশ্বের অনেক ব্যাংক আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু টেকসই ব্যাংকগুলো ঠিকই বিনিয়োগে এগিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ব্র্যাক ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মসূচি সরেজমিন গিয়ে দেখে এটা বুঝতে পেরেছি, ব্যাংকিংখাতে মূল্যবোধ রচনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এ সময় পেরুর ব্যাংকার লুই ফেলিপ দেন্তিয়ানো এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা প্রতিযোগিতার বিশ্বে বাস করছি। আর টেকসই ব্যাংক পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রথাগত ব্যাংকের প্যারাডাইম এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। এ কারণে অনেক প্রথাগত ব্যাংক মূল্যবোধ নিয়ে ভাবছে। তিন দিনব্যাপী কৃষিবিষয়ক সিম্পোজিয়াম উদ্বোধন
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?