Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --

নাইজেরিয়ায় দাঙ্গায় নিহতদের গণকবর : নিরাপত্তা জোরদার

রয়টার্স, এএফপি, এপি
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হামলায় নিহতদের সোমবার গণকবর দেয়া হয়েছে। খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামে মুসলিম উগ্রপন্থীদের হামলায় শত শত লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে খবরে বলা হয়, তিন শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, নাইজেরিয়ায় মধ্যাঞ্চলীয় প্লেটেও প্রদেশের রাজধানী হোসের দক্ষিণে দোগো নাহাওয়া গ্রামে রোববার এ হামলার ঘটনা ঘটে। গত জানুয়ারিতে খ্রিস্টান ও মুসলিম সমপ্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গার জের ধরে মুসলিম উগ্রপন্থীরা খ্রিস্টানদের ওপর এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। গ্রামবাসী জানায়, স্থানীয় সময় রোববার ভোররাত ৩টার দিকে হাওসা ফুলানি মুসলিম উগ্রপন্থীরা আশপাশের পাহাড় থেকে খ্রিস্টান অধ্যুষিত দোগো নাহাওয়া গ্রামে এসে হামলা চালায়। তারা দল বেঁধে মশাল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। হামলায় তিন শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর দোগো নাহাওয়া এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বাড়ানো হয় সেনা টহল। হোস শহরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দোগো নাহাওয়া গ্রামে তিন শতাধিক মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। গ্রামের বাসিন্দারা সোমবার তাদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ গণকবর দেয়।
এদিকে নাইজেরিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জের ধরে রোববার খ্রিস্টান অধ্যুষিত একটি গ্রামে মুসলিম উগ্রপন্থীদের হামলায় তিন শতাধিক লোক নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় প্লেটেও প্রদেশের রাজধানী হোসের দক্ষিণে দোগো নাহাওয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা জানান, গত জানুয়ারিতে খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গার জের ধরে এই প্রতিশোধমূলক হামলা হয়েছে। প্লেটেও প্রদেশের তথ্য বিষয়ক কমিশনার গ্রেগরি ইয়েনলং বলেছেন, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ তিনশ’ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। জোসে শহরে টহল দিচ্ছে সেনারা। প্লেটেও প্রদেশের তথ্যবিষয়ক কমিশনার গ্রেগরি ইয়েনলং বলেছেন, ‘সেনারা সব জায়গায় টহল দিচ্ছে এবং সব জায়গাই শান্ত রয়েছে। আমরা ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে বলে হিসাব করছি। কিন্তু এ সংখ্যা তার একটু বেশিই হতে পারে বলে আমি মনে করি।’ রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, অনেক মৃতদেহে ধারাল অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে। অনেক মৃতদেহের মুখমণ্ডল ছিল আগুনে পোড়া। অনেককে গুলি করে মারা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে হোস শহর ও আশপাশ এলাকায় মুসলিম-খ্রিস্টান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় দুশো জনেরও বেশি নিহত হয়। এরপর থেকে শহরটিতে সান্ধ্য আইন বলবত্ রয়েছে। নাইজেরিয়ার অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন এই হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকায় নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপ নাইজেরিয়ার ঘটনা তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া দাঙ্গায় ২শ’রও বেশি নিরস্ত্র মানুষ নিহত হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইট ওয়াচ অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাখানকে জসের আশপাশের ছোট গ্রামগুলোতে পুলিশ ও সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানিয়েছে। নাইজেরিয়ার এই জস নগরী ধর্মীয় সহিংসতার উত্সকেন্দ্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববারের দাঙ্গায় জসের দক্ষিণে প্রধানত তিনটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামে যারা প্রাণে বেঁচে গেছে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কখনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি। জানুয়ারির শুরুতে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে জসে সকাল-সন্ধ্যা কারফিউ জারি রয়েছে। এ সময়ে তিনশ’রও বেশি লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশ মুসলমান।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?