মর্যাদাহানির পর এবার প্রহসন!
এম.এম. কায়সার চট্টগ্রাম থেকে
প্রথম দিন : ম্যাচের স্ট্যাস্টাস প্রথম শ্রেণীর ছিল।
দ্বিতীয় দিন : ম্যাচের মর্যাদাহানি ঘটে। এটি আর প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ হিসেবে গণ্য
হলো না।
তৃতীয় দিনের সকাল : আশরাফুলের আউটের পর যা হলো, তাতে এই ম্যাচের গায়ে লেগে থাকা অল্পবিস্তর যে সভ্রম ছিল—সেটাও গেল!
৩০ রানে আশরাফুলের আউটের পর ইংল্যান্ডের হঠাত্ মনে হলো—এই ম্যাচে দ্বিতীয় দফা তাদের ব্যাটিং প্র্যাকটিস করা প্রয়োজন। কিন্তু ম্যাচের তখন যে পরিস্থিতি, তাতে ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় দফা ব্যাটিংয়ে পাঠানোর তেমন ইচ্ছে নেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। কারণ ম্যাচে তখনও বাংলাদেশের লিড তেমন বড় মাপের কিছু হয়নি। তাই বাকিটা সময় বাংলাদেশ ‘এ’ দল নিজেদের ব্যাটিং চালিয়ে যেতেই মূলত মনস্থ করেছিল। কিন্তু ইংল্যান্ড যে অন্য পরিকল্পনার প্রচলন ঘটাল! দু’পাশ থেকে স্পিন আক্রমণ আনল তারা। একপাশ থেকে অ্যালিস্টার কুক। অন্যপাশ থেকে মাইকেল কারবেরি। দু’জনেই মূলত ব্যাটসম্যান। বোলিংয়ে আনাড়ি। বাংলাদেশ ‘এ’ দল যাতে দ্রুত বড় রান তুলে দান ছেড়ে দেয়—সে সুযোগটা নিতেই ইংল্যান্ডের এই মাজুল আক্রমণ-ফন্দি। ব্যাস, এ দু’জন বোলিংয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয় ছক্কা ও চারের ঝড়। সগীর হোসেন, শুভগত হোম ও ডলার মাহমুদ—এ তিনজনে মিলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল রানের বন্যা বইয়ে দেন। সগীর করলেন ৪৫ বলে ৫১ রান। শুভগত হোম ৩০ বলে অপরাজিত ৯১। ডলার মাহমুদ আরও দুর্ধর্ষ—মাত্র ১৭ বলে অপরাজিত রইলেন ৬৬ রানে!
এই তিনজনে মিলে বাউন্ডারি হাঁকালেন ২৪টি। ছক্কা ১৫টি। অর্থাত্ কাল সকাল থেকে লাঞ্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দল তুলল ২৩১ রান। মাত্র ৩০ ওভারে এলো এই রান। এমন ব্যাটিং ঝড় তো টি-টুয়েন্টি ম্যাচেও দেখা যায় না।
—ভাবছেন, বাহ্! ব্যাটিংয়ে কি দারুণ উন্নতি করে ফেলল ‘এ’ দল?
কিন্তু মাঠে বসে যারা এই মারকাটারি ব্যাটিং দেখেছেন, তারা সাক্ষ্য দেবেন—‘আরে, এটা ক্রিকেট কোথায়? এ যে স্রেফ প্রহসন হলো!’
সেই প্রহসনের কয়েকটি উদারহণ শুনুন— ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার বোলিং করছেন আর সবাই দাঁড়িয়ে ৩০ গজের মধ্যে। শুধু তাই নয়, বল বাউন্ডারির দিকে যাচ্ছে কিন্তু ইংল্যান্ডের কোনো বোলার সেটা ধরছেনও না। পারলে বল পা দিয়ে ঠেলে সেটা বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বার কয়েক তো তারা বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। যাতে বল সহজেই বাউন্ডারির দড়ি ছোঁয়! বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোরবোর্ডে রান বাড়াতে এমনই মহতী হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের পুরো দল! কুক এবং কারবেরি দু’জনেই হাফক্রিজে বল ফেলছেন—আর সেই বলে রসিয়ে রসিয়ে ছক্কার পর ছক্কা হাঁকাচ্ছেন ডলার ও শুভগত হোম। কিন্তু তারপরও ছক্কা বাউন্ডারিতে কোনো ফিল্ডার নেই। ‘এ’ দলের এই ছক্কার মার দেখে ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররাও তালি বাজাচ্ছেন। যে বোলারের বলে ছক্কা হচ্ছে, তিনিও আনন্দিত!
এমন সস্তা রান আগে কখনও কেউ ক্রিকেট মাঠে পেয়েছিল কিনা—তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ইংলিশ বোলিং নিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এই ছেলেখেলা দেখে মনে হচ্ছিল—বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে পড়েছে কুয়েত দল! প্রেসবক্সে বসা স্কোরার মাঠের ছক্কা ও বাউন্ডারির হিসাব ঠিক রাখতে অস্থির হয়ে ওঠেন। প্রতি বলেই যে ছক্কা আর চার আসছে। কুকের ৫ এবং কারবেরির ৪—মোট মিলিয়ে এ দুই বোলারের করা ৯ ওভার থেকে বাংলাদেশ ‘এ’ দল তুলে নেয় ১৮৯ রান! সন্দেহ নেই, প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের মর্যাদাটা ঠিক থাকলে কাল নতুন একটা বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলত বাংলাদেশ। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ৩৪ বলে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডটা অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড হুকসের। কাল চট্টগ্রামে শুভগত হোম মাত্র ৩০ বলেই করে ফেললেন অপরাজিত ৯১ (৮ ছক্কা ও ১০ বাউন্ডারি)। লাঞ্চের পর ‘এ’ দল ইনিংস ঘোষণা না করলে শুভগত সম্ভবত কাল ডেভিড হুকসকে ছাড়িয়ে যেতে পারতেন!
আর মাত্র ১৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি এবং ১৭ বলে অপরাজিত ৬৬ রান (৬ ছক্কা ও ৭ বাউন্ডারি) করা ডলার মাহমুদ বিকালে টিম বাসে ওঠার আগে বললেন—‘আমার ক্রিকেট জীবনে আগে কখনও এমন সস্তা বোলিং পাইনি। চরম বাজে বোলিং করছিল ওরা। একসময় তো পিটারসেন হাসতে হাসতে বললেন—ছক্কা মারলে সেটা যেন বেশি দূরে মেরো না। বল আনতে তাহলে দেরি হবে। ছক্কা মারলেও বলটা দড়ির কাছাকাছিই রেখো! খানিকটা সময় তাতে বাঁচবে!’
মাঠে এই প্রহসনের ক্রিকেট দেখে এই সিরিজের বিসিবির সাংগঠনিক কমিটির এক কর্মকর্তাও বলছিলেন—‘বিশ্বাস করুন, ম্যাচের এমন পরিস্থিতি দেখে আমি নিজেই লজ্জা পেয়েছি। এখন মুখ লুকাতে হচ্ছে।’
ম্যাচটা যেহেতু প্রথম শ্রেণীর নয়, তাই এখানে আর খামোখা শক্তি এবং সময় নষ্ট করতে চাননি অধিনায়ক আশরাফুল। ৫ উইকেটে ৩৬২ রান তুলে লাঞ্চের পর দান ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ইংল্যান্ড বিকাল পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৫ রান তোলার পর উভয় দলের অধিনায়ক এ ম্যাচে আর পরিশ্রম না করে বিশ্রামের চিন্তা নিয়ে ম্যাচে ড্র মেনে নেন।
স্কোরকার্ডে একটা জায়গায় লেখা থাকে—টাইপ অব ম্যাচ।
এ ম্যাচে সেই জায়গাটায় আপনি অনায়াসে বসিয়ে দিতে পারেন—‘প্রহসন’!
দ্বিতীয় দিন : ম্যাচের মর্যাদাহানি ঘটে। এটি আর প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ হিসেবে গণ্য
হলো না।
তৃতীয় দিনের সকাল : আশরাফুলের আউটের পর যা হলো, তাতে এই ম্যাচের গায়ে লেগে থাকা অল্পবিস্তর যে সভ্রম ছিল—সেটাও গেল!
৩০ রানে আশরাফুলের আউটের পর ইংল্যান্ডের হঠাত্ মনে হলো—এই ম্যাচে দ্বিতীয় দফা তাদের ব্যাটিং প্র্যাকটিস করা প্রয়োজন। কিন্তু ম্যাচের তখন যে পরিস্থিতি, তাতে ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় দফা ব্যাটিংয়ে পাঠানোর তেমন ইচ্ছে নেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। কারণ ম্যাচে তখনও বাংলাদেশের লিড তেমন বড় মাপের কিছু হয়নি। তাই বাকিটা সময় বাংলাদেশ ‘এ’ দল নিজেদের ব্যাটিং চালিয়ে যেতেই মূলত মনস্থ করেছিল। কিন্তু ইংল্যান্ড যে অন্য পরিকল্পনার প্রচলন ঘটাল! দু’পাশ থেকে স্পিন আক্রমণ আনল তারা। একপাশ থেকে অ্যালিস্টার কুক। অন্যপাশ থেকে মাইকেল কারবেরি। দু’জনেই মূলত ব্যাটসম্যান। বোলিংয়ে আনাড়ি। বাংলাদেশ ‘এ’ দল যাতে দ্রুত বড় রান তুলে দান ছেড়ে দেয়—সে সুযোগটা নিতেই ইংল্যান্ডের এই মাজুল আক্রমণ-ফন্দি। ব্যাস, এ দু’জন বোলিংয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয় ছক্কা ও চারের ঝড়। সগীর হোসেন, শুভগত হোম ও ডলার মাহমুদ—এ তিনজনে মিলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল রানের বন্যা বইয়ে দেন। সগীর করলেন ৪৫ বলে ৫১ রান। শুভগত হোম ৩০ বলে অপরাজিত ৯১। ডলার মাহমুদ আরও দুর্ধর্ষ—মাত্র ১৭ বলে অপরাজিত রইলেন ৬৬ রানে!
এই তিনজনে মিলে বাউন্ডারি হাঁকালেন ২৪টি। ছক্কা ১৫টি। অর্থাত্ কাল সকাল থেকে লাঞ্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘এ’ দল তুলল ২৩১ রান। মাত্র ৩০ ওভারে এলো এই রান। এমন ব্যাটিং ঝড় তো টি-টুয়েন্টি ম্যাচেও দেখা যায় না।
—ভাবছেন, বাহ্! ব্যাটিংয়ে কি দারুণ উন্নতি করে ফেলল ‘এ’ দল?
কিন্তু মাঠে বসে যারা এই মারকাটারি ব্যাটিং দেখেছেন, তারা সাক্ষ্য দেবেন—‘আরে, এটা ক্রিকেট কোথায়? এ যে স্রেফ প্রহসন হলো!’
সেই প্রহসনের কয়েকটি উদারহণ শুনুন— ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার বোলিং করছেন আর সবাই দাঁড়িয়ে ৩০ গজের মধ্যে। শুধু তাই নয়, বল বাউন্ডারির দিকে যাচ্ছে কিন্তু ইংল্যান্ডের কোনো বোলার সেটা ধরছেনও না। পারলে বল পা দিয়ে ঠেলে সেটা বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বার কয়েক তো তারা বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। যাতে বল সহজেই বাউন্ডারির দড়ি ছোঁয়! বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোরবোর্ডে রান বাড়াতে এমনই মহতী হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের পুরো দল! কুক এবং কারবেরি দু’জনেই হাফক্রিজে বল ফেলছেন—আর সেই বলে রসিয়ে রসিয়ে ছক্কার পর ছক্কা হাঁকাচ্ছেন ডলার ও শুভগত হোম। কিন্তু তারপরও ছক্কা বাউন্ডারিতে কোনো ফিল্ডার নেই। ‘এ’ দলের এই ছক্কার মার দেখে ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররাও তালি বাজাচ্ছেন। যে বোলারের বলে ছক্কা হচ্ছে, তিনিও আনন্দিত!
এমন সস্তা রান আগে কখনও কেউ ক্রিকেট মাঠে পেয়েছিল কিনা—তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ইংলিশ বোলিং নিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এই ছেলেখেলা দেখে মনে হচ্ছিল—বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে পড়েছে কুয়েত দল! প্রেসবক্সে বসা স্কোরার মাঠের ছক্কা ও বাউন্ডারির হিসাব ঠিক রাখতে অস্থির হয়ে ওঠেন। প্রতি বলেই যে ছক্কা আর চার আসছে। কুকের ৫ এবং কারবেরির ৪—মোট মিলিয়ে এ দুই বোলারের করা ৯ ওভার থেকে বাংলাদেশ ‘এ’ দল তুলে নেয় ১৮৯ রান! সন্দেহ নেই, প্রথম শ্রেণীর ম্যাচের মর্যাদাটা ঠিক থাকলে কাল নতুন একটা বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলত বাংলাদেশ। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ৩৪ বলে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডটা অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড হুকসের। কাল চট্টগ্রামে শুভগত হোম মাত্র ৩০ বলেই করে ফেললেন অপরাজিত ৯১ (৮ ছক্কা ও ১০ বাউন্ডারি)। লাঞ্চের পর ‘এ’ দল ইনিংস ঘোষণা না করলে শুভগত সম্ভবত কাল ডেভিড হুকসকে ছাড়িয়ে যেতে পারতেন!
আর মাত্র ১৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি এবং ১৭ বলে অপরাজিত ৬৬ রান (৬ ছক্কা ও ৭ বাউন্ডারি) করা ডলার মাহমুদ বিকালে টিম বাসে ওঠার আগে বললেন—‘আমার ক্রিকেট জীবনে আগে কখনও এমন সস্তা বোলিং পাইনি। চরম বাজে বোলিং করছিল ওরা। একসময় তো পিটারসেন হাসতে হাসতে বললেন—ছক্কা মারলে সেটা যেন বেশি দূরে মেরো না। বল আনতে তাহলে দেরি হবে। ছক্কা মারলেও বলটা দড়ির কাছাকাছিই রেখো! খানিকটা সময় তাতে বাঁচবে!’
মাঠে এই প্রহসনের ক্রিকেট দেখে এই সিরিজের বিসিবির সাংগঠনিক কমিটির এক কর্মকর্তাও বলছিলেন—‘বিশ্বাস করুন, ম্যাচের এমন পরিস্থিতি দেখে আমি নিজেই লজ্জা পেয়েছি। এখন মুখ লুকাতে হচ্ছে।’
ম্যাচটা যেহেতু প্রথম শ্রেণীর নয়, তাই এখানে আর খামোখা শক্তি এবং সময় নষ্ট করতে চাননি অধিনায়ক আশরাফুল। ৫ উইকেটে ৩৬২ রান তুলে লাঞ্চের পর দান ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ইংল্যান্ড বিকাল পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৫ রান তোলার পর উভয় দলের অধিনায়ক এ ম্যাচে আর পরিশ্রম না করে বিশ্রামের চিন্তা নিয়ে ম্যাচে ড্র মেনে নেন।
স্কোরকার্ডে একটা জায়গায় লেখা থাকে—টাইপ অব ম্যাচ।
এ ম্যাচে সেই জায়গাটায় আপনি অনায়াসে বসিয়ে দিতে পারেন—‘প্রহসন’!
-
খেলাধুলা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া

