আশরাফুল বাদ, রকিবুল-এনামের ফেরা
এম. এম. কায়সার চট্টগ্রাম থেকে
চট্টগ্রামের মাঠে তখন মোহাম্মদ আশরাফুল উল্লাসে ভাসছেন—এই মাত্র তার বলে আউট হলেন ইংল্যান্ডের ওপেনার মাইকেল কারবেরি ৩৫ রান করে।
আর ঢাকায় বৈঠক করে নির্বাচকরা তখনই জানান দিলেন—আশরাফুল টেস্ট সিরিজে নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে মোহাম্মদ আশরাফুল বাদ পড়েছেন। আর দলে ফিরে এসেছেন রকিবুল হাসান। রকিবুল অবশ্য নিউজিল্যান্ড সফরে সর্বশেষ টেস্ট দলে ছিলেন। কিন্তু সেরা একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের অনুশীলন ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের সেরা একাদশে নিজের হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করলেন রকিবুল। ওয়ানডে সিরিজে ‘বিশ্রামে’ থাকা আশরাফুল অবশ্য টেস্ট সিরিজে খেলার ইচ্ছেটা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচকরা শর্ত বেঁধে দেন—অন্তত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে আশরাফুলের ব্যাটে বড় রান চাই।
প্রথম ইনিংসে ১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসের ৩০ রান দিয়ে সেই দাবি যে মেটাতে পারলেন না আশরাফুল। তাই দল থেকে বাদ পড়াটা কোনোমতেই ঠেকাতে পারলেন না।
দল থেকে বাদ পড়াটা আশরাফুলের জন্য একদম নতুন কিছু নয়। ২০০৩ সালে দেশের মাটিতে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্ট সিরিজ থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। সেবারও এই একই অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে—ব্যাটে রান নেই। এবারের অবস্থা আরও ভয়াবহ। আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে পেছনের ১৩ ইনিংসে আশরাফুলের ব্যাটে কোনো হাফসেঞ্চুরি নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকার পর ফর্ম উদ্ধারের জন্য জাতীয় লীগকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও চার ইনিংসের তিনটিতে শূন্য এবং একটিতে ২১ নিয়ে ব্যর্থ আশরাফুল। সর্বশেষ নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ ছিল তার সামনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে। এই ম্যাচের উভয় ইনিংসেই তিনি ব্যাট করার সুযোগ পান। কিন্তু সাকল্যে সঞ্চয় মাত্র ৩১ রান।
কাল সকালে ঢাকায় বৈঠকে বসার আগে এক নির্বাচক ফোনে যখন জানলেন আশরাফুল ৩০ রানে বোল্ড হয়ে গেছেন, তখনই অস্ফুট সুরটা তিনি আর লুকাতে পারলেন না—‘নাহ, ও পারল না এবার!’
আশরাফুলের দল থেকে বাদ পড়ার কারণ ব্যাখ্যায় কাল প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম জানালেন—‘আমরা সকাল পর্যন্ত আশরাফুলের জন্য অপেক্ষা করেছি। যখন জানতে পারি ও ৩০ রান করে আউট হয়ে গেছে, তখনই দলটা আমরা চূড়ান্ত করে ফেলি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ও এখন সাময়িক ব্যর্থতার চাপে আছে। সেই চাপটা সে কাটাতে পারছে না।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১০৭ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান করে রকিবুল হাসান দলে তার জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেন। কিন্তু আফতাব, জুনায়েদ ও আশরাফুল—এই তিনজনের মধ্যে কোন দু’জন টেস্ট দলে থাকবেন সেই সিদ্ধান্তের জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন নির্বাচকরা।
আশরাফুল কাল সকালে ৮০ বলে ৩০ রান করে আজমল শেহজাদের বলে বোল্ড হয়ে নির্বাচকদের অপেক্ষা কমিয়ে দেন।
আশরাফুলের বাদ পড়ার দিনে সুখবর শুনেছেন স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। দলে ফিরে এসেছেন তিনিও। গত বছর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর আবার জাতীয় দলে ফিরলেন এনামুল। তবে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে তিনি থাকছেন মূলত ব্যাকআপ বোলার হিসেবেই। নির্বাচকরা জানিয়েছেন—আব্দুর রাজ্জাক ও এনামুলের মধ্যে যে কোনো একজন সেরা একাদশে খেলবেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ফর্মটা বিবেচনায় আনলে এক্ষেত্রে রাজ্জাকই বেশি নম্বর পাচ্ছেন।
আশরাফুল বাদ পড়ায় তার পাঁচ নম্বর পজিশনে কে ব্যাট করবেন—কাল সেই প্রশ্নের উত্তরে অনেকগুলো নাম উচ্চারণ করলেন প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম—‘পাঁচ নম্বরে এখন আফতাব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিম্বা নাইম ইসলামের যে কেউ ব্যাট করতে পারেন। তবে এই ব্যাটিং পজিশন সাজানোর বিষয়ে অধিনায়কের মতামত নেয়াটাই শ্রেয়।’
বাংলাদেশের হয়ে ৬৪টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৫৩টি টেস্ট খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দলে আরেক অভিজ্ঞ মাশরাফি বিন মর্তুজাও নেই। এই দু’জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ছাড়া টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইটা যে বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে গেল। এ প্রসঙ্গে রকিবুল বললেন—‘আশরাফুল এবং মাশরাফি দু’জনেই অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আমরা চাই ওরা দ্রুত বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরুক। তবে এখন বর্তমান দলে যারা আছে তারাও ক্রমেই বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। যে কোনো পরিস্থিতি তারাও সামাল দিতে সমর্থ হবে বলে আমি আশা করছি।’টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, রকিবুল হাসান, আফতাব আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (সহ-অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), নাইম ইসলাম, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন,
আব্দুর রাজ্জাক ও এনামুল হক জুনিয়র।
আর ঢাকায় বৈঠক করে নির্বাচকরা তখনই জানান দিলেন—আশরাফুল টেস্ট সিরিজে নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে মোহাম্মদ আশরাফুল বাদ পড়েছেন। আর দলে ফিরে এসেছেন রকিবুল হাসান। রকিবুল অবশ্য নিউজিল্যান্ড সফরে সর্বশেষ টেস্ট দলে ছিলেন। কিন্তু সেরা একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের অনুশীলন ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের সেরা একাদশে নিজের হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করলেন রকিবুল। ওয়ানডে সিরিজে ‘বিশ্রামে’ থাকা আশরাফুল অবশ্য টেস্ট সিরিজে খেলার ইচ্ছেটা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচকরা শর্ত বেঁধে দেন—অন্তত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে আশরাফুলের ব্যাটে বড় রান চাই।
প্রথম ইনিংসে ১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসের ৩০ রান দিয়ে সেই দাবি যে মেটাতে পারলেন না আশরাফুল। তাই দল থেকে বাদ পড়াটা কোনোমতেই ঠেকাতে পারলেন না।
দল থেকে বাদ পড়াটা আশরাফুলের জন্য একদম নতুন কিছু নয়। ২০০৩ সালে দেশের মাটিতে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্ট সিরিজ থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। সেবারও এই একই অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে—ব্যাটে রান নেই। এবারের অবস্থা আরও ভয়াবহ। আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে পেছনের ১৩ ইনিংসে আশরাফুলের ব্যাটে কোনো হাফসেঞ্চুরি নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকার পর ফর্ম উদ্ধারের জন্য জাতীয় লীগকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও চার ইনিংসের তিনটিতে শূন্য এবং একটিতে ২১ নিয়ে ব্যর্থ আশরাফুল। সর্বশেষ নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ ছিল তার সামনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে। এই ম্যাচের উভয় ইনিংসেই তিনি ব্যাট করার সুযোগ পান। কিন্তু সাকল্যে সঞ্চয় মাত্র ৩১ রান।
কাল সকালে ঢাকায় বৈঠকে বসার আগে এক নির্বাচক ফোনে যখন জানলেন আশরাফুল ৩০ রানে বোল্ড হয়ে গেছেন, তখনই অস্ফুট সুরটা তিনি আর লুকাতে পারলেন না—‘নাহ, ও পারল না এবার!’
আশরাফুলের দল থেকে বাদ পড়ার কারণ ব্যাখ্যায় কাল প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম জানালেন—‘আমরা সকাল পর্যন্ত আশরাফুলের জন্য অপেক্ষা করেছি। যখন জানতে পারি ও ৩০ রান করে আউট হয়ে গেছে, তখনই দলটা আমরা চূড়ান্ত করে ফেলি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ও এখন সাময়িক ব্যর্থতার চাপে আছে। সেই চাপটা সে কাটাতে পারছে না।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১০৭ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান করে রকিবুল হাসান দলে তার জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেন। কিন্তু আফতাব, জুনায়েদ ও আশরাফুল—এই তিনজনের মধ্যে কোন দু’জন টেস্ট দলে থাকবেন সেই সিদ্ধান্তের জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন নির্বাচকরা।
আশরাফুল কাল সকালে ৮০ বলে ৩০ রান করে আজমল শেহজাদের বলে বোল্ড হয়ে নির্বাচকদের অপেক্ষা কমিয়ে দেন।
আশরাফুলের বাদ পড়ার দিনে সুখবর শুনেছেন স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। দলে ফিরে এসেছেন তিনিও। গত বছর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর আবার জাতীয় দলে ফিরলেন এনামুল। তবে দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে তিনি থাকছেন মূলত ব্যাকআপ বোলার হিসেবেই। নির্বাচকরা জানিয়েছেন—আব্দুর রাজ্জাক ও এনামুলের মধ্যে যে কোনো একজন সেরা একাদশে খেলবেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ফর্মটা বিবেচনায় আনলে এক্ষেত্রে রাজ্জাকই বেশি নম্বর পাচ্ছেন।
আশরাফুল বাদ পড়ায় তার পাঁচ নম্বর পজিশনে কে ব্যাট করবেন—কাল সেই প্রশ্নের উত্তরে অনেকগুলো নাম উচ্চারণ করলেন প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম—‘পাঁচ নম্বরে এখন আফতাব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিম্বা নাইম ইসলামের যে কেউ ব্যাট করতে পারেন। তবে এই ব্যাটিং পজিশন সাজানোর বিষয়ে অধিনায়কের মতামত নেয়াটাই শ্রেয়।’
বাংলাদেশের হয়ে ৬৪টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৫৩টি টেস্ট খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দলে আরেক অভিজ্ঞ মাশরাফি বিন মর্তুজাও নেই। এই দু’জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ছাড়া টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইটা যে বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে গেল। এ প্রসঙ্গে রকিবুল বললেন—‘আশরাফুল এবং মাশরাফি দু’জনেই অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আমরা চাই ওরা দ্রুত বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরুক। তবে এখন বর্তমান দলে যারা আছে তারাও ক্রমেই বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। যে কোনো পরিস্থিতি তারাও সামাল দিতে সমর্থ হবে বলে আমি আশা করছি।’টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, রকিবুল হাসান, আফতাব আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (সহ-অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), নাইম ইসলাম, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন,
আব্দুর রাজ্জাক ও এনামুল হক জুনিয়র।
-
খেলাধুলা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


