এসইসির হস্তক্ষেপে শেয়ারবাজার অস্থির : অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্চেন্ট এবং ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ সুবিধা কমিয়ে দেয়া, গ্রামীণফোনের শেয়ারের বিপরীতে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা (নেটিং) বন্ধ, শেয়ারের ফেসভ্যালু পরিবর্তনে নতুন ঘোষণা, মিউচুয়াল ফান্ডের রাইট ও বোনাস শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন না দেয়া, ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নিয়ে অহেতুক হস্তক্ষেপসহ নানা সিদ্ধান্তের কারণে বাজার লেনদেনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসইসির এসব সিদ্ধান্তের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ অব্যাহতভাবে লেনদেন এবং সূচকের পতন ঘটছে। লেনদেন কমতে কমতে তা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। আগের দিনের তুলনায় গতকাল সে লেনদেনের পরিমাণ আরও কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬২৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে গতকাল। ডিএসই সাধারণ সূচক কমেছে ৮৬ পয়েন্ট। আগের দিন এ সূচকের পতন হয়েছিল ১১৬ পয়েন্ট। শেয়ারবাজারে লেনদেন এবং সূচকের অব্যাহত পতনের প্রতিবাদে গতকাল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা এসইসি চেয়ারম্যান এবং ডিএসই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন।
ডিএসইর লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, সূচকের পতন দিয়েই গতকাল শুরু হয়েছে দিনের লেনদেন। মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানেই ডিএসইর সূচকের পতন ঘটে প্রায় ২৫ পয়েন্টের মতো। এ সময় লেনদেনকৃত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটে। তবে পরে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসে এবং এ সময় আগের দিনের তুলনায় সূচক বেড়ে যায় ৪০ পয়েন্টের মতো। কিন্তু বেলা পৌনে বারোটার পর থেকে একটানা পতন ঘটতে থাকে সূচকের। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের পতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বেলা ১টার দিকে শতাধিক বিনিয়োগকারী রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা বাজারের সূচকের ক্রমাবনতির জন্য ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান ও এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকারকে দায়ী করে নানা ধরনের স্লোগান দেয় এবং এ দু’জনের পদত্যাগও দাবি করেন। এ সময় সেখানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ডিএসইর সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে পরিকল্পিতভাবে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমানো হচ্ছে। তারা বলেন, বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে এসইসি লাগাম টেনে ধরতে নানা পদক্ষেপ নেয় কিন্তু নিম্নমুখী হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। তারা এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের রাইট ও বোনাস শেয়ার ইস্যুর আবেদন নাকচ করায় এসইসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনতিবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিও জানান তারা। একইসঙ্গে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়াতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউনগুলোর ঋণ প্রদানের সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।
এদিকে শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের বিষয়ে এবি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, বাজারে যখন লেনদেন বেড়ে যায় তখন আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি আবার যখন কমে যায় তখন হতাশ হয়ে পড়ি। এটা আমাদের একটি চরিত্র দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাজারে একসময় লেনদেন বাড়বে, একসময় কমবে এটিই স্বাভাবিক। সম্প্রতি বাজারের দরপতনকে ‘মূল্য সংশোধন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন বিষয়ে এসইসির পদক্ষেপের বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে যে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি। তা না হওয়ায় বারবার হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটছে এবং বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন সিদ্ধান্ত এসইসির নেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে লেনদেনকৃত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ২৪৩টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ১৭৮টির, বেড়েছে মাত্র ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর। আগের দিন ৭৪৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও গতকাল ১১৬ কোটি টাকা কমে তা হয়েছে ৬২৯ কোটি টাকা। গত সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে সর্বনিম্ন ৪৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এ বছরের শুরু থেকেই ডিএসইতে দৈনিক এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। একপর্যায়ে তা ১৭শ’ কোটি টাকার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছে। ওই সময় এসইসি মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ সুবিধা কমিয়ে দেয় এসইসি। মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে শেয়ারের মূল্য আয়-অনুপাতের (পিই) সীমাও বেঁধে দেয়া হয়। এছাড়া গ্রামীণফোনের শেয়ারের নেটিং সুবিধা বন্ধ করে দেয় এসইসি। এসইসির এসব সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লেনদেন কমে আসে অর্ধেকেরও বেশি। এদিকে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল সাভার রিফ্রেক্টরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, তৃতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক, চতুর্থ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ-১ মিউচুয়াল ফান্ড, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সপ্তম আইসিবি ও প্রথম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে ১০টি কোম্পানি ছিল এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ওসিএল, রহিম টেক্সটাইল, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কোহিনূর কেমিক্যাল, দ্বিতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, এশিয়া প্যাসেফিক, সিঙ্গার ও নিলয় সিমেন্ট।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো, গ্রামীণফোন, বেক্সটেক্স, লঙ্কাবাংলা, ওসিএল, সামিট পাওয়ার, ডেসকো, এবি ব্যাংক, নাভানা সিএনজি ও কনফিডেন্স সিমেন্ট।
ডিএসইর লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, সূচকের পতন দিয়েই গতকাল শুরু হয়েছে দিনের লেনদেন। মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানেই ডিএসইর সূচকের পতন ঘটে প্রায় ২৫ পয়েন্টের মতো। এ সময় লেনদেনকৃত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটে। তবে পরে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসে এবং এ সময় আগের দিনের তুলনায় সূচক বেড়ে যায় ৪০ পয়েন্টের মতো। কিন্তু বেলা পৌনে বারোটার পর থেকে একটানা পতন ঘটতে থাকে সূচকের। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের পতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বেলা ১টার দিকে শতাধিক বিনিয়োগকারী রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা বাজারের সূচকের ক্রমাবনতির জন্য ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান ও এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকারকে দায়ী করে নানা ধরনের স্লোগান দেয় এবং এ দু’জনের পদত্যাগও দাবি করেন। এ সময় সেখানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ডিএসইর সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে পরিকল্পিতভাবে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমানো হচ্ছে। তারা বলেন, বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে এসইসি লাগাম টেনে ধরতে নানা পদক্ষেপ নেয় কিন্তু নিম্নমুখী হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। তারা এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের রাইট ও বোনাস শেয়ার ইস্যুর আবেদন নাকচ করায় এসইসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনতিবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিও জানান তারা। একইসঙ্গে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়াতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউনগুলোর ঋণ প্রদানের সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।
এদিকে শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের বিষয়ে এবি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, বাজারে যখন লেনদেন বেড়ে যায় তখন আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি আবার যখন কমে যায় তখন হতাশ হয়ে পড়ি। এটা আমাদের একটি চরিত্র দাঁড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাজারে একসময় লেনদেন বাড়বে, একসময় কমবে এটিই স্বাভাবিক। সম্প্রতি বাজারের দরপতনকে ‘মূল্য সংশোধন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন বিষয়ে এসইসির পদক্ষেপের বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে যে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি। তা না হওয়ায় বারবার হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটছে এবং বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন সিদ্ধান্ত এসইসির নেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে লেনদেনকৃত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ২৪৩টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ১৭৮টির, বেড়েছে মাত্র ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর। আগের দিন ৭৪৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও গতকাল ১১৬ কোটি টাকা কমে তা হয়েছে ৬২৯ কোটি টাকা। গত সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে সর্বনিম্ন ৪৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এ বছরের শুরু থেকেই ডিএসইতে দৈনিক এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। একপর্যায়ে তা ১৭শ’ কোটি টাকার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছে। ওই সময় এসইসি মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ সুবিধা কমিয়ে দেয় এসইসি। মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে শেয়ারের মূল্য আয়-অনুপাতের (পিই) সীমাও বেঁধে দেয়া হয়। এছাড়া গ্রামীণফোনের শেয়ারের নেটিং সুবিধা বন্ধ করে দেয় এসইসি। এসইসির এসব সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লেনদেন কমে আসে অর্ধেকেরও বেশি। এদিকে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল সাভার রিফ্রেক্টরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, তৃতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক, চতুর্থ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ-১ মিউচুয়াল ফান্ড, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সপ্তম আইসিবি ও প্রথম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে ১০টি কোম্পানি ছিল এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ওসিএল, রহিম টেক্সটাইল, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কোহিনূর কেমিক্যাল, দ্বিতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, এশিয়া প্যাসেফিক, সিঙ্গার ও নিলয় সিমেন্ট।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো, গ্রামীণফোন, বেক্সটেক্স, লঙ্কাবাংলা, ওসিএল, সামিট পাওয়ার, ডেসকো, এবি ব্যাংক, নাভানা সিএনজি ও কনফিডেন্স সিমেন্ট।
-
মহানগর


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


