Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বোরোর আবাদ নিয়ে শঙ্কিত কৃষক : সেচ সঙ্কট

শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার সব এলাকায় বোরো রোপণ শেষ করেছে চাষীরা। চারা সঙ্কটসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে প্রথমদিকে এ জেলায় বোরো রোপণ কিছুটা ব্যাহত হলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে প্রকৃতি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, খাল-বিলসহ অন্যান্য পানির উত্স শুকিয়ে যাওয়ায় এবং গভীর-অগভীর নলকূপগুলোতে পরিমাণমত পানি না ওঠায় ভরা মৌসুমে সেচ নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। ঝিনাইদহের বিভিন্ন বোরো মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে চলতি বোরো মৌসুমের রোপণ ও আবাদের কাজ শেষ করে ফেলেছে কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ সবুজে ছেয়ে গেছে। চাষীরা এখন আগাছা বাছাই, সার, কীটনাশক ছিটানোসহ বোরো ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পানির সঙ্কট আর বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবারও বোরোতে বাম্পার ফলন ফলবে বলে আশাবাদী চাষীরা। তবে একাধিকবার বীজতলা তৈরি, বীজতলার বাড়তি যত্ন, চড়া মূল্যে চারা ক্রয়সহ বিভিন্ন কারণে বিগত বছরগুলো থেকে উত্পাদন ব্যয় বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হবে বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহের বোরো চাষীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় ৮৯ হাজার ১৯ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরুতে অর্থাত্ বীজতলা তৈরির সময় (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) মাসে তীব্র শীতের কারণে জেলার অধিকাংশ বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরিতে’ আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধানের চারার মারাত্মক সঙ্কট দেখা দেয়। বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু চারা এলেও তা অগ্নিমূল্যে বিক্রি হয়। একপর্যায়ে হুমকির মুখে পড়ে যায় বোরো আবাদ। অনেক কৃষককে দ্বিতীয় বারের মতো বীজতলা তৈরি করতে হয়। আর এসব কারণে চাষ কিছুটা ব্যাহত হলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তত্পর ঝিনাইদহের প্রান্তিক চাষীরা। শেষ পর্যন্ত এত প্রতিকূল পরিবেশেও চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৯০ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে। চাষ সমাপ্ত হলেও সেচের পানি নিয়ে কৃষকদের মনে আবার নতুন আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ১১টি নদী, অসংখ্য খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়, ডোবা-নালাসহ পানির উত্সসমূহ শুকিয়ে গেছে। ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলায় ৬৩ হাজার ৯২২টি অগভীর নলকূপ, ৩১২টি গভীর নলকূপ, ৬টি এলএলপির মাধ্যমে সেচ কাজ পরিচালিত হয়। এগুলোতেও পানি কম উঠতে শুরু করেছে। আবার গ্রীষ্মকাল শুরু হতে না হতেই দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড তাপদাহ ও লোডশেডিং। এসব কারণে ভরা মৌসুমে সেচ সঙ্কটের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকেরা। অনেক স্থানে এখনই মাটি খুঁড়ে ৮-১০ ফুট নিচে শ্যালোচালিত ইঞ্জিন বসাতে শুরু করেছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক খোকন চন্দ্র নন্দী জানান, সেচ সঙ্কট এখনও তৈরি হয়নি। জেলার সব নলকূপ এখনও সচল রয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে বীজতলায় কোল্ড ইঞ্জুরির কারণে চাষ একটু বিলম্বিত হয়েছে। এজন্য কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। এ বছর ঝিনাইদহ এলাকার কৃষকেরা ব্রি-২৮, ব্রি-২৯সহ উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ বেশি করেছে। মাঠে মাঠে ধান গাছ দেখে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বোরোতে বাম্পার ফলন ফলবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র নন্দী।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?