Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কক্সবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নাম ভাঙিয়ে জমি দখলের চেষ্টা

আনছার হোসেন কক্সবাজার
‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি’র নামে কক্সবাজারে কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। একদল যুবক ও কিছু মহিলা জাতীয় পতাকা এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উড়িয়ে শহরের কলাতলী টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় রোববার এই দখল প্রচেষ্টা চালায়। যদিও কক্সবাজার বন বিভাগ ও স্থানীয় কয়েকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উচ্ছেদ করেছে। দখলদারদের নির্মাণ করা বাঁশের তৈরি ঘরটিও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হাসিনা বেগম (৪০) নামের এক মহিলার নেতৃত্বে অন্তত ২০ জনের একটি দল রোববার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি’র নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উড়িয়ে ঘর তৈরির কাজ শুরু করে।
তিনি জানান, দুপুর ২টার দিকে সেখানে হাজির হন কক্সবাজারের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান।
ওই সময় জেলা কালেক্টরেট তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদ আলীসহ জেলা কালেক্টরেটের কয়েকজন কর্মচারীও উপস্থিত ছিলেন। পরে ওখানে আসেন মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডের আহ্বায়ক ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুস সোবহান, জহর লাল পাল, সুনীল বড়ুয়াসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রশিদ জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতারা ঘটনাস্থলে এলে দখলবাজদের সঙ্গে তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা বাদানুবাদ চলে।
ওই জমির দখল চেষ্টা প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা কালেক্টরেট তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদ আলী জানান, জমিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত। এই জমিতে বন বিভাগসহ অন্যদের প্রবেশের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য সরকারের কাছে আলাদা প্রস্তাবনা আছে—যা এখনো বিবেচনাধীন আছে। কিন্তু এভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে জমি জবরদখল হলে মুক্তিযোদ্ধাদের বদনাম হবে।
তিনি মনে করেন, এতে শুধু মুক্তিযোদ্ধা নয়, সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। ওই কারণেই মুক্তিযোদ্ধারাই অবৈধ ঘর নির্মাণকারীদের নিবৃত্ত করতে গিয়েছিলেন। ঘটনার ব্যাপারে জমি দখল করতে যাওয়া হাসিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই জমিটি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটির নামেই প্রস্তাবিত। এ জমিতে আমাদের পক্ষে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাও আছে।’ তবে কালেক্টরেট কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদ আলী দাবি করছেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটির নামে প্রস্তাবিত জমিটির অবস্থান এই জমি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, হাসিনা নামের এক মহিলা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙিয়ে জমি জবরদখল করতে গিয়েছিল। তবে সফল হতে পারেনি।
তিনি জানান, জমিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত হলেও বন বিভাগ অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?