Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ওএমএসের চাল : চলছে দলীয়করণ ও কালোবাজারি

আমার দেশ ডেস্ক
চালের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি নিয়ে চলছে দলীয়করণ ও কালোবাজারি। এতে করে দলীয় পরিচয়ে এ চাল বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে ওএমএসের চাল পাচার করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটেই দু’বার চাল পাচারকালে ট্রাকসহ আটক হয়েছে। বিস্তারিত খবর প্রতিনিধিদের :
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের অবহেলা ও তদারকির অভাবে ওএমএসের চাল প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গরিব, নিরীহ ও সাধারণ জনগোষ্ঠী। পক্ষান্তরে কালোবাজারে চাল বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে ওএমএস ডিলাররা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গরিব, অসহায় শ্রমিক ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সরকার কালিয়াকৈর উপজেলার শ্রমঘন এলাকায় অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে ২২ টাকা দরে মাথাপিছু ৫ কেজি পরিমাণ চাল খোলাবাজারে বিক্রির জন্য ২৬ জানুয়ারি ১৫ জন এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫ জন মোট ২০ ডিলার নিয়োগ দিয়ে চাল বিক্রি শুরু করেছে। এসব ডিলারকে তত্ত্বাবধানের জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তাদের অবহেলা ও তদারকির অভাবে ওএমএস ডিলাররা স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বস্তা বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে নিজেদের অর্থভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ওএমএসের চাল বিক্রয় কেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ডিলারদের পোষ্যরা বিভিন্ন লোকের নাম ও টিপসই জাল করে খাদ্যগুদামের মাস্টার রোলের ফরম পূরণ করছে। এ ব্যাপারে সূত্রাপুর বোর্ডঘর এলাকায় স্থাপিত ওএমএসের চাল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পরেশ চন্দ্র সরকারের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, চাল বিতরণকারী আলমাস উদ্দিন নিজেই ক্রেতাদের নাম স্বাক্ষর করছে ও টিপসই দিচ্ছে। বিষয়টি জানতে চাইলে আলমাস জানান, ডিলারের নির্দেশে স্বাক্ষর করছি। এভাবে সব ডিলারই মাস্টার রোলের ফরম পূরণ করে গুদামে জমা দিচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা আসেন কিনা জানতে চাইলে সহজ ভঙ্গিতে বলেন, প্রতিদিন সকালে স্যার এসে কাগজে স্বাক্ষর করে চলে যান, তাদের তো অনেক কাজ তাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাধিক ডিলার তাদের নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে ৫-৭ কিলোমিটার দূরত্বে চাল বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করে গাড়ি ভাড়া সাশ্রয় করছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা নিজেদের স্বার্থটা বড় করে দেখলেও আমাদের তেমন কিছু করার নেই।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে আবারও পাচারকালে ট্রাকবোঝাই ওএমএসের চাল আটক হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দাবাজার গার্লস স্কুলের মোড় থেকে এ চালবোঝাই ট্রাক আটক করে।
কোস্টগার্ড শরণখোলা ইউনিট কমান্ডার আবদুল কাদের জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালোবাজারে বিক্রির জন্য পাচারকৃত ওএমএসের চালবোঝাই একটি ট্রাক আটক করা হয়। এতে ওএমএসের ৯৫ বস্তা চাল পাওয়া গেছে। ট্রাকবোঝাই এ চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য শরণখোলা থেকে খুলনায় পাচার করা হচ্ছিল। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। আটক চালসহ ট্রাকটি শরণখোলা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। চালের মালিক কে বা কারা এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান। তবে জনশ্রুতি মতে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার ছেলে এই ওএমএসের পাচারকৃত চালের সঙ্গে জড়িত। উল্লেখ্য, গত একপক্ষকাল আগে বাগেরহাট বিসিক শিল্প নগরী থেকে অনুরূপ পাচারকালে চালবোঝাই ট্রাক আটক হয়। এতে ২৫০ বস্তা চাল ছিল।
সম্প্রতি নিয়োগকৃত ওএমএস ডিলারদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকনের ছেলে রায়হান উদ্দিন শান্ত একজন ওএমএস ডিলার হিসেবে ওই চাল সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলন করে। পরে একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে ট্রাকযোগে ওই চাল খুলনায় পাচার করছিল বলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে গুণজন রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?