চাকরিচ্যুতির আশঙ্কায় ৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা
স্টাফ রিপোর্টার
চাকরি হারানোর আশঙ্কায় গতকাল সকালে ৯তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোঃ হাফিজউদ্দিন (৩৫)। তার আত্মীয়স্বজনের অভিযোগ, বিএনপি জোট সরকারের সময় দৈনিক মজুরিভিত্তিতে চাকরি পান হাফিজউদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়াসহ আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন চিকিত্সক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা শুরু করেন। এছাড়াও তাকে একটি ল্যাপটপ চুরির মিথ্যা অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হচ্ছিল। যাতে সে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু হাফিজ চাকরি ছেড়ে যেতে চায়নি। শেষে জীবনের চাকরি ছেড়েই চলে যেতে হলো তাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মোঃ হাফিজউদ্দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে যান। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের সি ব্লকের চারতলায় তার কর্মস্থলে গিয়ে বেরিয়ে ৯তলায় ওঠেন। পশ্চিম পাশের খোলা জায়গায় দক্ষিণ-পূর্ব পাশ থেকে তিনি লাফিয়ে পড়েন। পচণ্ড শব্দে নিচতলার লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে নিচে থাকা লোকজন দেখেন হাফিজ নিচে পড়ে আছেন। তার মাথার পেছন দিক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ছুটে যান আইসিইউতে। কিন্তু ততক্ষণে হাফিজউদ্দিন আর বেঁচে নেই। কর্তব্যরত চিকিত্সকরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়ার পিয়ন হিসেবে মোঃ হাফিজউদ্দিন কর্মরত ছিলেন।
হাফিজের মৃত্যুর খবর শুনে ছুটে আসেন ঢাকায় থাকা তার স্বজনরা। নিহত হাফিজের ফুফাতো ভাই মনির হোসেন অভিযোগ করে আমার দেশকে বলেন, গত সোমবার হাফিজউদ্দিন মোবাইল ফোনে মনির হোসেনকে জানান, ইউরোলজি বিভাগে একটি ল্যাপ্টপ কম্পিউটার চুরি হয়েছে। এ চুরির অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে বলে তাকে জানানো হয়। এ নিয়ে তিনি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এছাড়াও তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। কিছুদিন ধরে হাফিজকে মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টাও চলছিল। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, হাফিজের খুব শিগগিরই চাকরিচ্যুত হতো। অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়ার কাছে চাকরির ব্যাপারটি হাফিজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি চলে গেলে তিনি কি করবেন? সূত্র জানায়, চিকিত্সকরা হাফিজকে মানসিক রোগী বললেও তার পকেটে পাওয়া গেছে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগের টিকিট। যার ক্রমিক নম্বর ২০৩৩৩১৩। তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মেডিসিনের চিকিত্সক দেখিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাফিজ খুবই ভালো একজন কর্মচারী ছিল। তবে এ ঘটনা সম্পর্কে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আবদুল মজিদ ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, ল্যাপ্টপ কম্পিউটার চুরির কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, হাসপাতালে একটি মোবাইল চুরি হলে তার কাছে লিখিত অভিযোগ আসে কিন্তু ল্যাপ্টপ চুরি হয়েছে অথচ কোনো মৌখিক অভিযোগও পাননি তিনি। হাফিজ সম্পর্কে তিনি বলেন, সে মানসিক রোগে ভুগছিল। তাকে মানসিক বহির্বিভাগের চিকিত্সাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিহত হাফিজের স্বজনরা মনসিক রোগের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছেন, যদি তিনি মানসিক রোগীই হতেন তাহলে সে ডিউটি করতেন কীভাবে?
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। হাফিজকে কোনোভাবেই নির্যাতন করা হতো না। তার কাজ ছিল চিঠিপত্র আনা-নেয়া, চা বানানো আর বাইরে বসে থাকা। সে খুবই নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিল। তবে হাফিজউদ্দিন ডিপ্রেসনে ভুগছিল বলে মনে করেন অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া। কারণ হাফিজ তাকে প্রায় সময়ই বলতেন, ‘তার চাকরি নিয়মিত হচ্ছে না কেন? তাকে চাকরিতে রাখা হবে না।’
ফুফাতো ভাই মনির হোসেন আরও অভিযোগ করে বলেন, হাফিজকে ওপর থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তার ডিউটি ছিল চারতলায়। তিনি ৯তলায় কেন যাবেন? নিহত হাফিজের স্ত্রী আঙ্গুরা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকেই তার স্বামীর ওপর নির্যাতন চলছিল। তাকে তিনি অনেক কথাই বলেছেন। এ কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত হাফিজউদ্দিনের বাবার নাম মৃত সিরাজউদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি বাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার কামাউড়া গ্রামে। তিনি ঢাকায় নাখালপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা ছিলেন। তবে বেশ কয়েক বছর আগে তার একটি সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।
শাহবাগ থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আবদুর রশীদ দুপুর সোয়া ১২টায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে হাফিজউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মোঃ হাফিজউদ্দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে যান। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের সি ব্লকের চারতলায় তার কর্মস্থলে গিয়ে বেরিয়ে ৯তলায় ওঠেন। পশ্চিম পাশের খোলা জায়গায় দক্ষিণ-পূর্ব পাশ থেকে তিনি লাফিয়ে পড়েন। পচণ্ড শব্দে নিচতলার লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে নিচে থাকা লোকজন দেখেন হাফিজ নিচে পড়ে আছেন। তার মাথার পেছন দিক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ছুটে যান আইসিইউতে। কিন্তু ততক্ষণে হাফিজউদ্দিন আর বেঁচে নেই। কর্তব্যরত চিকিত্সকরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়ার পিয়ন হিসেবে মোঃ হাফিজউদ্দিন কর্মরত ছিলেন।
হাফিজের মৃত্যুর খবর শুনে ছুটে আসেন ঢাকায় থাকা তার স্বজনরা। নিহত হাফিজের ফুফাতো ভাই মনির হোসেন অভিযোগ করে আমার দেশকে বলেন, গত সোমবার হাফিজউদ্দিন মোবাইল ফোনে মনির হোসেনকে জানান, ইউরোলজি বিভাগে একটি ল্যাপ্টপ কম্পিউটার চুরি হয়েছে। এ চুরির অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে বলে তাকে জানানো হয়। এ নিয়ে তিনি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এছাড়াও তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। কিছুদিন ধরে হাফিজকে মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টাও চলছিল। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, হাফিজের খুব শিগগিরই চাকরিচ্যুত হতো। অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়ার কাছে চাকরির ব্যাপারটি হাফিজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি চলে গেলে তিনি কি করবেন? সূত্র জানায়, চিকিত্সকরা হাফিজকে মানসিক রোগী বললেও তার পকেটে পাওয়া গেছে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগের টিকিট। যার ক্রমিক নম্বর ২০৩৩৩১৩। তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মেডিসিনের চিকিত্সক দেখিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাফিজ খুবই ভালো একজন কর্মচারী ছিল। তবে এ ঘটনা সম্পর্কে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আবদুল মজিদ ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, ল্যাপ্টপ কম্পিউটার চুরির কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, হাসপাতালে একটি মোবাইল চুরি হলে তার কাছে লিখিত অভিযোগ আসে কিন্তু ল্যাপ্টপ চুরি হয়েছে অথচ কোনো মৌখিক অভিযোগও পাননি তিনি। হাফিজ সম্পর্কে তিনি বলেন, সে মানসিক রোগে ভুগছিল। তাকে মানসিক বহির্বিভাগের চিকিত্সাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিহত হাফিজের স্বজনরা মনসিক রোগের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছেন, যদি তিনি মানসিক রোগীই হতেন তাহলে সে ডিউটি করতেন কীভাবে?
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। হাফিজকে কোনোভাবেই নির্যাতন করা হতো না। তার কাজ ছিল চিঠিপত্র আনা-নেয়া, চা বানানো আর বাইরে বসে থাকা। সে খুবই নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিল। তবে হাফিজউদ্দিন ডিপ্রেসনে ভুগছিল বলে মনে করেন অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া। কারণ হাফিজ তাকে প্রায় সময়ই বলতেন, ‘তার চাকরি নিয়মিত হচ্ছে না কেন? তাকে চাকরিতে রাখা হবে না।’
ফুফাতো ভাই মনির হোসেন আরও অভিযোগ করে বলেন, হাফিজকে ওপর থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তার ডিউটি ছিল চারতলায়। তিনি ৯তলায় কেন যাবেন? নিহত হাফিজের স্ত্রী আঙ্গুরা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকেই তার স্বামীর ওপর নির্যাতন চলছিল। তাকে তিনি অনেক কথাই বলেছেন। এ কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত হাফিজউদ্দিনের বাবার নাম মৃত সিরাজউদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি বাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার কামাউড়া গ্রামে। তিনি ঢাকায় নাখালপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা ছিলেন। তবে বেশ কয়েক বছর আগে তার একটি সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।
শাহবাগ থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আবদুর রশীদ দুপুর সোয়া ১২টায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে হাফিজউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


