বরিশালে সংবাদপত্র কার্যালয়ে আওয়ামী ক্যাডারদের ভাংচুর ৫ সাংবাদিককে মারপিট
বরিশাল অফিস
বরিশালে সংবাদপত্র কার্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে আ’লীগ ক্যাডাররা। হামলার সময় সব আসবাবপত্র ভাংচুরসহ ৫ সাংবাদিককে বেধড়ক মারপিট করা হয়। মঙ্গলবার রাতে বরিশাল থেকে প্রকাশিত বাংলার বন পত্রিকা কার্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়। এ হামলার ঘটনায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সংবাদকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। রাতেই ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এদিকে এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় বাংলার বন কর্তৃপক্ষের মামলা দায়েরের অভিযোগ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা বাংলার বনে ‘হুমায়ুন বেসামাল’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করায় ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজনীন বেগম ও তার স্বামী জাগুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবির হাওলাদার ক্ষুব্ধ হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার পর হুমায়ুন ১৫/১৬ জন ক্যাডার নিয়ে হামলা চালায় বাংলার বন কার্যালয়ে। হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে বার্তা বিভাগ, সার্কুলেশন বিভাগ ও নির্বাহী সম্পাদকের কক্ষে থাকা সব আসবাবপত্র ভাংচুর ছাড়াও ফাইলপত্র তছনছ করে। একই সঙ্গে পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এসএইচ সাইফুল্লাহ, প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিব বিপ্লব, সহযোগী বার্তা সম্পাদক আহমেদ কাউসার ক্ষৌনিশকে প্রহার করে। এ সময় তাদের রক্ষায় ছুটে আসা দুই সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার উত্পল দাস মিলু ও শাহিন হাসানকেও বেধড়ক মারপিট করা হয়। বাংলার বন কার্যালয়ে হামলার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নগরীতে। আশপাশের লোকজন বাংলার বন কার্যালয়ে ছুটে এলে হুমায়ুন তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে চলে যায়।
প্রসঙ্গত, ২৩ ফেব্রুয়ারি জাগুয়া এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলের বৌভাতে আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী সিটি কাউন্সিলর নাজনীন বেগমকে দাওয়াত না দেয়ায় তারা চাঁদা তুলে মৃধা বাড়ির আঙ্গিনায় মোরগ-মুরগির বিয়ের আয়োজন করে। বিশাল গরু জবাই করে প্রতিহিংসামূলক এ অনুষ্ঠানে হুমায়ুনের সমর্থকদের ভূরিভোজ করানো হয়। একই সঙ্গে মৃধা পরিবারকে একঘরে করার ফতোয়া জারি করে সে। এ খবর স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বেসামাল হয়ে ওঠে হুমায়ুন।
বাংলার বন পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিব বিপ্লব জানান, মোরগ-মুরগির বিয়ে এবং ফতোয়া জারির বিষয়টি নিয়ে হুমায়ুন তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য গত ক’দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তার কথা না শুনে মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয় ‘বেসামাল হুমায়ুন’ শীর্ষক সংবাদ। এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হুমায়ুন মোবাইল ফোনে বাংলার বন পত্রিকার কর্মকর্তাদের নানারকম হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল এবং তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে এ হামলা চালানো হয়।
আওয়ামী ক্যাডারদের এ হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা রাতেই নগরীর প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। গভীর রাতে বাংলার বন কার্যালয়ে আসেন সিটি মেয়র ও বরিশাল মহানগর আ’লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. শওকত হোসেন হিরন। তিনি সংবাদকর্মীদের সান্ত্বনা দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা সিটি মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন যে, গত আ’লীগ আমলে এই হুমায়ুন কবির বরিশালের বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বপন খন্দকারকেও লাঞ্ছিত করেছিল।
এদিকে এ ঘটনার পর বাংলার বন কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের জন্য রাতেই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করা হয়নি। গতকাল কোতোয়ালি থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলার বন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দাখিলের আগেই হুমায়ুন কবির তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ২টি অভিযোগই যাচাইবাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলার বন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, বরিশাল সিটি মেয়র অ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ, সদর আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, অ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, জেলা ও মহানগর যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আখতারুজ্জামান শামিম ও অন্য নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা বাংলার বনে ‘হুমায়ুন বেসামাল’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করায় ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজনীন বেগম ও তার স্বামী জাগুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবির হাওলাদার ক্ষুব্ধ হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার পর হুমায়ুন ১৫/১৬ জন ক্যাডার নিয়ে হামলা চালায় বাংলার বন কার্যালয়ে। হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে বার্তা বিভাগ, সার্কুলেশন বিভাগ ও নির্বাহী সম্পাদকের কক্ষে থাকা সব আসবাবপত্র ভাংচুর ছাড়াও ফাইলপত্র তছনছ করে। একই সঙ্গে পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এসএইচ সাইফুল্লাহ, প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিব বিপ্লব, সহযোগী বার্তা সম্পাদক আহমেদ কাউসার ক্ষৌনিশকে প্রহার করে। এ সময় তাদের রক্ষায় ছুটে আসা দুই সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার উত্পল দাস মিলু ও শাহিন হাসানকেও বেধড়ক মারপিট করা হয়। বাংলার বন কার্যালয়ে হামলার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নগরীতে। আশপাশের লোকজন বাংলার বন কার্যালয়ে ছুটে এলে হুমায়ুন তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে চলে যায়।
প্রসঙ্গত, ২৩ ফেব্রুয়ারি জাগুয়া এলাকার মৃত আব্দুল মৃধার ছেলের বৌভাতে আ’লীগ নেতা হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী সিটি কাউন্সিলর নাজনীন বেগমকে দাওয়াত না দেয়ায় তারা চাঁদা তুলে মৃধা বাড়ির আঙ্গিনায় মোরগ-মুরগির বিয়ের আয়োজন করে। বিশাল গরু জবাই করে প্রতিহিংসামূলক এ অনুষ্ঠানে হুমায়ুনের সমর্থকদের ভূরিভোজ করানো হয়। একই সঙ্গে মৃধা পরিবারকে একঘরে করার ফতোয়া জারি করে সে। এ খবর স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বেসামাল হয়ে ওঠে হুমায়ুন।
বাংলার বন পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিব বিপ্লব জানান, মোরগ-মুরগির বিয়ে এবং ফতোয়া জারির বিষয়টি নিয়ে হুমায়ুন তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য গত ক’দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তার কথা না শুনে মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয় ‘বেসামাল হুমায়ুন’ শীর্ষক সংবাদ। এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হুমায়ুন মোবাইল ফোনে বাংলার বন পত্রিকার কর্মকর্তাদের নানারকম হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল এবং তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে এ হামলা চালানো হয়।
আওয়ামী ক্যাডারদের এ হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা রাতেই নগরীর প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। গভীর রাতে বাংলার বন কার্যালয়ে আসেন সিটি মেয়র ও বরিশাল মহানগর আ’লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. শওকত হোসেন হিরন। তিনি সংবাদকর্মীদের সান্ত্বনা দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা সিটি মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন যে, গত আ’লীগ আমলে এই হুমায়ুন কবির বরিশালের বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বপন খন্দকারকেও লাঞ্ছিত করেছিল।
এদিকে এ ঘটনার পর বাংলার বন কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের জন্য রাতেই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করা হয়নি। গতকাল কোতোয়ালি থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলার বন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দাখিলের আগেই হুমায়ুন কবির তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ২টি অভিযোগই যাচাইবাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলার বন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, বরিশাল সিটি মেয়র অ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ, সদর আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, অ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, জেলা ও মহানগর যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আখতারুজ্জামান শামিম ও অন্য নেতৃবৃন্দ।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


