ভারতকে ট্রানজিট দেয়ায় হুমকিতে পড়বে পোশাক শিল্প
মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ট্রানজিট সংক্রান্ত চুক্তি হওয়ার আগে চুক্তির শর্তগুলো জনগণকে অবহিত করে স্বচ্ছতা আনার কথা উল্লেখ করে পণ্য পরিবহনের জন্য সড়ক যোগাযোগের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তবে তারা চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার পক্ষে মত দেন। এদিকে বন্দরের ট্রানজিট সুবিধা যদি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় পণ্য আমদানি, রফতানি ও পরিবহনের জন্য দেয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশী শিল্পপতিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। এ ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প বাংলাদেশ থেকে আসাম ত্রিপুরামুখী হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান তারা।
জানা যায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও এ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি এখনও হয়নি বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন।
বন্দর সচিব জানান, বন্দর দিয়ে বর্তমান পণ্য হ্যান্ডলিংসহ উত্পাদনশীলতার যে ক্ষমতা রয়েছে, তার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রানজিট সুবিধা দিলে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে বেশি চাপ পড়বে সড়ক যোগাযোগের ওপর। এতে সড়কপথের অবকাঠামো উন্নয়ন করা দরকার আগে।
চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে গড়ে প্রতিদিন লং ভেহিক্যালসহ প্রায় আড়াই হাজার ট্রাক বন্দরের পণ্য পরিবহন করে থাকে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বন্দর দিয়ে গত এক বছরে আমদানি, রফতানিখাতে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৪ টন পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময় কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে করা হয়েছে ১১ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টিইইউএস।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ট্রানজিট বিষয়ে বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মাহবুব আলী আমার দেশকে বলেন, প্রতিবেশী দেশকে ট্রানজিট দেয়া খারাপ কিছু নয়। তবে তা কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা দেখতে হবে। বন্দর দিয়ে ট্রানজিট দেয়ার আগে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনের রুট উন্নয়নের জন্য একটি রোডম্যাপ থাকতে হবে। ট্রানজিটের ফলে কি পরিমাণ যানবাহন বাড়বে তার প্যাকেজ প্লান থাকতে হবে বলে জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
এ ছাড়া মাহবুব আলী বলেন, ট্রানজিট দেয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। জনগণের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্ধ রয়েছে তা দূর করা সরকারের দায়িত্ব। বন্দরকে সব ধরনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে এর উত্পাদনশীলতার নিশ্চয়তার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিপার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও বন্দর ব্যবহারকারীদের নেতা এমএ লতিফ এমপি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রতিবেশী দেশ ট্রানজিট দেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য ভারত সরকার যে ট্রানজিট সুবিধা চাচ্ছে, তাতে দেশের শিল্প উত্পাদিত পণ্যের বাজারের তৈরির সম্ভাবনার কথা জানান চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি।
অবশ্য চেম্বার সভাপতির বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু ব্যবসায়ী। তারা বলেছেন, বৈধভাবে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিধিবিধান ও নিয়মনীতির কারণে বাংলাদেশী পণ্য সহজভাবে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে চোরাইপথে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের বাজার দখল করে নিয়েছে এ দেশের শিল্পপণ্য।
ভারতের বাণিজ্য সম্প্রসারণে তাদের কূটনৈতিক ক্ষেত্রের যে তত্পরতা চালায় তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রানজিট সুবিধা বাংলাদেশের গার্মেন্টসখাতকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এসব ব্যবসায়ীর ধারণা, বর্তমানে স্বল্পমূল্যে শ্রম সহজলভ্যের কারণে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।
ট্রানজিট সুবিধার পর এ গার্মেন্টসখাত বাংলাদেশ থেকে আসাম ত্রিপুরামুখী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। তারা বলেন, আসাম ত্রিপুরাসহ পূর্ব ভারতীয় রাজ্যের শ্রমিক মূল্য বাংলাদেশের চেয়ে কম। এ সস্তা শ্রমিকপ্রাপ্তিকে কাজে লাগানোর জন্য এসব রাজ্যে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে উঠবে। এ ছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে কাঁচামাল পরিবহনের মাধ্যমে নিজেরাই পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় কারখানা গড়ে তুলবে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের গার্মেন্টসখাত।
এমএ লতিফ এমপি বলেছেন, বর্তমান পণ্য পরিবহনের জন্য যেসব জাহাজ রয়েছে, তা থেকে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করে লাইটারেজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে আশুগঞ্জে পৌঁছানোটা কঠিন কিছু নয়। তিনি বলেন, আশুগঞ্জ নদীবন্দর হয়ে এসব পণ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা আখাউড়া দিয়ে সহজে আসামে পৌঁছানো যাবে। তিনি বলেন, সড়কপথের চেয়ে নৌপরিবহনখাতে পণ্য পরিবহন ব্যয় অর্ধেকের চেয়ে কম। তাই তিনি মনে করেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথের পরিবর্তে নৌপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেবে।
এদিকে বন্দর সচিব জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকা। সদরঘাট জেটি থেকে উজানে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবোঝাই হয়ে আসা কন্টেইনারগুলো বর্তমানে বন্দরের বাইরে প্রায় ১২টি ইয়ার্ডে রাখা হয়। ট্রানজিট চালু করা হলে নতুন করে কন্টেইনার ইয়ার্ড গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও এ সংক্রান্ত কোনো চুক্তি এখনও হয়নি বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন।
বন্দর সচিব জানান, বন্দর দিয়ে বর্তমান পণ্য হ্যান্ডলিংসহ উত্পাদনশীলতার যে ক্ষমতা রয়েছে, তার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রানজিট সুবিধা দিলে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে বেশি চাপ পড়বে সড়ক যোগাযোগের ওপর। এতে সড়কপথের অবকাঠামো উন্নয়ন করা দরকার আগে।
চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে গড়ে প্রতিদিন লং ভেহিক্যালসহ প্রায় আড়াই হাজার ট্রাক বন্দরের পণ্য পরিবহন করে থাকে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বন্দর দিয়ে গত এক বছরে আমদানি, রফতানিখাতে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৪ টন পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময় কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে করা হয়েছে ১১ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টিইইউএস।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ট্রানজিট বিষয়ে বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মাহবুব আলী আমার দেশকে বলেন, প্রতিবেশী দেশকে ট্রানজিট দেয়া খারাপ কিছু নয়। তবে তা কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা দেখতে হবে। বন্দর দিয়ে ট্রানজিট দেয়ার আগে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনের রুট উন্নয়নের জন্য একটি রোডম্যাপ থাকতে হবে। ট্রানজিটের ফলে কি পরিমাণ যানবাহন বাড়বে তার প্যাকেজ প্লান থাকতে হবে বলে জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
এ ছাড়া মাহবুব আলী বলেন, ট্রানজিট দেয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। জনগণের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্ধ রয়েছে তা দূর করা সরকারের দায়িত্ব। বন্দরকে সব ধরনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে এর উত্পাদনশীলতার নিশ্চয়তার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিপার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও বন্দর ব্যবহারকারীদের নেতা এমএ লতিফ এমপি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রতিবেশী দেশ ট্রানজিট দেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য ভারত সরকার যে ট্রানজিট সুবিধা চাচ্ছে, তাতে দেশের শিল্প উত্পাদিত পণ্যের বাজারের তৈরির সম্ভাবনার কথা জানান চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি।
অবশ্য চেম্বার সভাপতির বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু ব্যবসায়ী। তারা বলেছেন, বৈধভাবে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিধিবিধান ও নিয়মনীতির কারণে বাংলাদেশী পণ্য সহজভাবে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে চোরাইপথে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের বাজার দখল করে নিয়েছে এ দেশের শিল্পপণ্য।
ভারতের বাণিজ্য সম্প্রসারণে তাদের কূটনৈতিক ক্ষেত্রের যে তত্পরতা চালায় তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রানজিট সুবিধা বাংলাদেশের গার্মেন্টসখাতকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এসব ব্যবসায়ীর ধারণা, বর্তমানে স্বল্পমূল্যে শ্রম সহজলভ্যের কারণে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।
ট্রানজিট সুবিধার পর এ গার্মেন্টসখাত বাংলাদেশ থেকে আসাম ত্রিপুরামুখী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। তারা বলেন, আসাম ত্রিপুরাসহ পূর্ব ভারতীয় রাজ্যের শ্রমিক মূল্য বাংলাদেশের চেয়ে কম। এ সস্তা শ্রমিকপ্রাপ্তিকে কাজে লাগানোর জন্য এসব রাজ্যে তৈরি পোশাক শিল্প গড়ে উঠবে। এ ছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে কাঁচামাল পরিবহনের মাধ্যমে নিজেরাই পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় কারখানা গড়ে তুলবে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের গার্মেন্টসখাত।
এমএ লতিফ এমপি বলেছেন, বর্তমান পণ্য পরিবহনের জন্য যেসব জাহাজ রয়েছে, তা থেকে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করে লাইটারেজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে আশুগঞ্জে পৌঁছানোটা কঠিন কিছু নয়। তিনি বলেন, আশুগঞ্জ নদীবন্দর হয়ে এসব পণ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা আখাউড়া দিয়ে সহজে আসামে পৌঁছানো যাবে। তিনি বলেন, সড়কপথের চেয়ে নৌপরিবহনখাতে পণ্য পরিবহন ব্যয় অর্ধেকের চেয়ে কম। তাই তিনি মনে করেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথের পরিবর্তে নৌপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেবে।
এদিকে বন্দর সচিব জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলের ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকা। সদরঘাট জেটি থেকে উজানে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবোঝাই হয়ে আসা কন্টেইনারগুলো বর্তমানে বন্দরের বাইরে প্রায় ১২টি ইয়ার্ডে রাখা হয়। ট্রানজিট চালু করা হলে নতুন করে কন্টেইনার ইয়ার্ড গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


