Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ ২০১০, ২০ ফাল্গুন ১৪১৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শেখ হাসিনা গণভবনে উঠছেন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে উঠছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে গণভবনের সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, গণভবনে ব্যাঙ্কারসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ব্যাঙ্কোয়েট হলসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, আজ যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে উঠবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদকে উদ্ধৃত করে গতকাল সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিল, বুধবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী গণভবনে উঠছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি গতরাতে গণভবনে উঠেননি। এর আগে দুপুর থেকেই গণভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা যায়।
শেখ হাসিনা গত বছর ৬ জানুয়ারি শপথ নেয়ার কিছুদিন পর তার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার ব্যক্তিগত বাসভবন সুধা সদন থেকে ‘যমুনায়’ ওঠেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখেই তখন হঠাত্ করে প্রধানমন্ত্রীকে যমুনায় স্থানান্তর করা হয়। তার ক’দিন পরই পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। গণভবনে ওঠার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যমুনায় ছিলেন। ৩০, হেয়ার রোডের এই ভবনটি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য গত এরশাদ সরকারের সময় নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে এটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শেখ হাসিনা ওঠার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ এ ভবনে ছিলেন।
শেখ হাসিনা প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় গণভবনেই ছিলেন। ক্ষমতা ছাড়ার আগে জাতির জনকের পরিবারের সদস্যদের জন্য আজীবনের নিরাপত্তা আইনের আলোকে নামমাত্র মূল্যে তিনি গণভবন তার জন্য বরাদ্দ নিয়ে নেন। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আইনটি বাতিল করে এবং শেখ হাসিনার নামে গণভবনের বরাদ্দও বাতিল হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আবারও জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা আইন পাস করেছে। এই আইনের আওতায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ তাদের সন্তানদের জন্য এসএসএফ সুবিধা ও বাসস্থানসহ নিরাপত্তার খাতিরে অন্যান্য সুবিধার বিধান রয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংস্কার কাজের জন্য তিনি এতদিন শেরেবাংলা নগরের অবস্থিত গণভবনে ওঠেননি। গত মধ্য অক্টোবর ও পরবর্তীতে পয়লা জানুয়ারি আরেক দফায় প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে ওঠেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গণভবনের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় হয়েছে তা জানা যায়নি। ইতোমধ্যে ভেতরের ডেকোরেশন, পেইন্টিং, ইন্টেরিয়র কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাঙ্কোয়েট হলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ব্যাঙ্কোয়েট হলে বৈঠকখানা ও সভাকক্ষ রয়েছে।
সরকারি সূত্র বলেছে, ২০০১ সাল থেকে ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে গণভবন ব্যবহার হয়নি। তাই ভেতরের অনেক কিছুই নষ্ট হয়েছিল। ফার্নিচারে ময়লা-আবর্জনা পড়েছিল। দীর্ঘদিন ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ভেতরে ময়লা ও ধুলোবালির পাহাড় জমেছিল। ব্যবহার না হওয়ায় বেশিরভাগ আসবাবপত্র, জানালার পর্দা ও দেয়ালের রঙ নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে সংস্কার না করা পর্যন্ত এটি ব্যবহার সম্ভব ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভবনটি নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। গণভবন সংস্কারের জন্য নকশা তৈরি করে গত জুন থেকে কাজ শুরু করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ভবনটির নাম নতুন করে গণভবন করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত ২০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বি-ব্লকের ৫নং প্লটটিতে অবস্থিত ভবনটিকে গণভবন হিসেবে নামকরণ করা হলো। গণভবনের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মিন্টো রোডের প্রেসিডেন্ট হাউসে অফিস করতেন। তিনি সকালের দিকে আসতেন আর চলে যেতেন দুপুরের পর। প্রেসিডেন্ট হাউস তখন গণভবন নামে পরিচিত ছিল। এখন সেই ভবনটি সুগন্ধা ভবন নামে পরিচিত। বেগম খালেদা জিয়া ’৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এখানেই সান্ধ্যকালীন অফিস করতেন। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভবনটিতে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি স্থাপন করা হয়েছিল। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। রানী এলিজাবেথ এ ভবনেই রাত যাপন করেছিলেন।
শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে মিন্টো রোডের প্রেসিডেন্ট হাউস ছিল প্রয়োজনের তুলনায় ছোট। সেখানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সব কর্মকর্তার বসার জায়গা হতো না। অফিস ছোট হওয়ার কারণেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবনের পাশে তার বাসভবন ও সচিবালয় নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। গণভবন বঙ্গবন্ধুর বাসভবন হলেও সেখানে তিনি কখনও রাত যাপন করেননি। তিনি থাকতেন তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে।
নানা নামে গণভবন : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভবনটি গণভবন হিসেবেই পরিচিত ছিল। তারপর গণভবন একেক সরকারের সময় একেকভাবে ব্যবহার হয়েছে। ভবনটি সংস্কারের পর এরশাদ গণভবনের নাম পাল্টে ফেলেন। তিনি নতুন করে ভবনটির নাম রাখেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করতোয়া। রাজীব গান্ধী একই বছর বাংলাদেশ সফরকালে করতোয়াতেই রাত যাপন করেন। পরে ১৯৮৮ সালে এরশাদ করতোয়াকে নতুন করে সাজান। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। তখনও গণভবন করতোয়া নামেই পরিচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম রোজায় সেখানে এতিমদের ইফতারির আয়োজন করেছিলেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন এখানে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও এটির নাম করে গণভবন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন গণভবনকে তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার প্রাক্কালে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি গণভবন ১ টাকার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নামে লিখে নেন। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ২০০১ সালের অক্টোবরে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর এটির বরাদ্দ বাতিল করে। একইসঙ্গে আবার নাম পাল্টে করা হয় প্রধানমন্ত্রী ভবন। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভবনটিতে বাস করেননি। জোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ভবনটির নাম করা হয় প্রধান উপদেষ্টা ভবন। তবে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ গণভবনে থাকেননি।
গণভবনের দক্ষিণ পাশে নির্মিত হয়েছে ব্যাঙ্কোয়েট হল। এখানে রয়েছে বৈঠকখানা ও সভাকক্ষ, রয়েছে প্রেস রেফারেন্স সেন্টার। বিশেষ নিরাপত্তারক্ষীদের অবস্থানের স্থানও। এ হল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মূল ভবনে পেইন্টিং বাবদ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকা।
গণভবনের আয়তন : গণপূর্ত অধিদফতর সূত্র জানায়, গণভবনের আয়তন ২২ একর। মূল ভবনের আয়তন ১৫ একর। গণভবন রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য ৪ একর জায়গা এবং পিয়ন, দারোয়ান, ঝাড়ুদার, মালি ও অন্যান্য কর্মচারীর আবাসনের জন্য রয়েছে ৩ একর। লুই আই কানের মূল পরিকল্পনার মধ্যে গণভবন ছিল। ওপর ও নিচতলা মিলিয়ে সিরামিক ইটের তৈরি ভবনটির আয়তন ৩৭ হাজার বর্গফুট। মূল গণভবন বর্ধিত করে ব্যাঙ্কোয়েট হল নির্মাণের ফলে গণভবনের আয়তন দাঁড়ায় ৫৭ হাজার বর্গফুট। দোতলা গণভবনের ওপর ও নিচতলায় রয়েছে তিনটি করে বড় ৬টি রুম। ওপরতলায় রয়েছে ৫টি স্যুট। একইভাবে নিচেও রয়েছে ৬টি স্যুট। রয়েছে সেন্ট্রাল ও কনফারেন্স লাউঞ্জ। নিচতলায় প্রধানমন্ত্রীর অফিসের জন্য রয়েছে বড় একটি কক্ষ। রুমের ভেতরটি মোজাইক করা হলেও দু’পাশের দুটি করিডোর এবং লাউঞ্জ মার্বেল পাথরের। ভবনটিতে কিচেনরুম, ড্রইংরুম, মালখানা ছাড়াও রয়েছে তিনটি রুুম।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সচিব, সামরিক সচিব ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে আলাদা কয়েকটি রুম। ভবনের ভেতরে হেলিকপ্টার অবতরণের ব্যবস্থাও আছে। ভেতরে রয়েছে কয়েকটি বাগান। অন্যান্য ফুলের বাগানও রয়েছে সেখানে। বিশাল লনও রয়েছে গণভবনে। গণভবনে রয়েছে একটি আরবরিকালচার। সেটি এখনও চালু রয়েছে। আরবরিকালচারে এখনও ফুলের চাষ হচ্ছে। গণভবনের পূর্বপ্রান্তে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত রয়েছে একটি লেক। লেকের পশ্চিম দিকে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট।
ব্যাপক নিরাপত্তা : গণভবন প্রস্তুত হওয়ার পরই সেখানে মোতায়ন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। ডিজিএফআই, এনএসআই, এসএসএফ, পিজিআরসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই এলাকায় এরই মধ্যে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতদিন সেখানে বাড়িটি পাহারা দেয়া ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে পড়েনি। এখন এ এলাকায় সকাল-বিকাল র্যাব, পুলিশের পাহারা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছেন র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?