Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ ২০১০, ২০ ফাল্গুন ১৪১৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মাহমুদুর রহমানকে সতর্ক করা হয়েছে সংসদে সাজেদা : সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি চাই : মওদুদ

সংসদ রিপোর্টার
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী আমার দেশ-এর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল জাতীয় সংসদে বলেছেন, আমার দেশ কী লিখছে আর কী লিখছে না সেজন্য পত্রিকাটির সম্পাদক মাহুমুদুর রহমানকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার উত্তরও খারাপ ভাষায় লিখেছেন মাহমুদুর রহমান। পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বর্তমান সরকারের ১৪ মাসে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে এর প্রতিকার চাইলে জবাবে সাজেদা চৌধুরী ওই মন্তব্য করেন।
গতকাল মাগরিবের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চান। স্পিকার তাকে ফ্লোর দেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গণতন্ত্রের স্তম্ভ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, অব্যাহতভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চলছে। মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট উদ্ধৃত করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বর্তমান সরকারের ১৪ মাসে ৩২৪ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। পত্রিকার সম্পাদকও রেহাই পাচ্ছেন না। আমার দেশ সম্পাদকের ওপর হামলা হয়েছে। নিউ এজ সম্পাদককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩৩ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ২০০৯ সালের মাসওয়ারি সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দেয়ার পরও সাংবাদিক নির্যাতন কমেনি। সাংবাদিকদের আজ কোনো নিরাপত্তা নেই। ডিজিটাল হারে নির্যাতন বাড়ছে। দিনবদলের পালা নয়, সাংবাদিক নির্যাতনের পালা চলছে। এটা বন্ধ করতে হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন।
ব্যারিস্টার মওদুদের পুরো বক্তব্যের সময় সরকারদলীয় সদস্যরা হৈচৈ করে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আপনারা হৈচৈ করলে আমরাও করতে পারি, এটা কোনো সমাধান নয়। অনেক নতুন সদস্য আছেন। তারা সংসদের শিষ্টাচার জানেন না। চিত্কার করার জায়গা পল্টন ময়দান, পার্লামেন্ট নয়। পার্লামেন্টারিয়ান হতে চাইলে কথা শোনার অভ্যাস করুন। তিনি স্পিকারের প্রোটেকশন চান।
ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্য শেষে সরকারি দল থেকে কে বলবেন তা নিয়ে ঠেলাঠেলি করতে দেখা যায়। এ সময় প্রথম সারিতে সাজেদা চৌধুরী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ। উপনেতা সাজেদা চৌধুরী মওদুদের বক্তব্যের জবাব দিতে তোফায়েল আহমেদকে দাঁড়ানোর জন্য ইশারা দেন। তোফায়েল আহমেদ বক্তব্যে অনীহা প্রকাশ করে পাল্টা সাজেদা চৌধুরীকেই বলতে বলেন। এক রকম বাধ্য হয়ে সাজেদা চৌধুরী বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার মওদুদের সাংবাদিক নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্য-পরিসংখ্যানের কোনো জবাব দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় অনেক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হলে তখন আপনারা কোথায় ছিলেন। তখন আমরা সংসদে আলোচনা করার চেষ্টা করেও সুযোগ পাইনি। হঠাত্ করে সাংবাদিকদের জন্য আপনাদের এত দরদ কেন? সাজেদা চৌধুরী বলেন, মওদুদ সাহেব আমার দেশ সম্পাদকের কথা বলেছেন। তিনি বহুরূপী, নানারূপী। তিনি বলেন, আমার দেশ বিএনপির কাগজ, জনগণের কাগজ নয়। প্রত্যেকটি ঘটনার ব্যাপারে মিথ্যা ও অসত্য সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সতর্ক করার কথা বললে বিরোধীদলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে শেম শেম ধনি তোলেন।
উল্লেখ্য, আমার দেশ-এ গত ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে মার্কিন কোম্পানি শেভরনকে বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ দেয়ার বিনিময়ে ৩৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরদিন আওয়ামী লীগের এক সভায় সংসদ উপনেতার উপস্থিতিতে মন্ত্রীরা আমার দেশ সম্পাদককে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এবং রাস্তায় বের হতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ার করে দেন। এরপর দু’দফা আমার দেশ সম্পাদকের গাড়িতে হামলা হয়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?