খাগড়াছড়িতে ত্রাণ বণ্টনে নেতৃত্ব দিচ্ছে হামলাকারী : পালিয়ে বেড়াচ্ছে গুলিবিদ্ধ দুই বাঙালি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন বাঙালি পরিচয়টাই যেন অপরাধ। বাঘাইহাট ও গঙ্গারামের ঘটনায় উপজাতি সন্ত্রাসী দ্বারা গুলিবিদ্ধ ও নির্যাতিত বাঙালি আবুল কাশেম ও আবদুল হাই চিকিত্সা সাহায্য তো পায়ইনি বরং আশ্রয় ও নিরাপত্তার অভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইউএনওর ওপর হামলার নেতৃত্বদানকারী আনন্দ চাকমা এখন গঙ্গারামে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে থেকেই উপজাতিদের মাঝে রিলিফ বণ্টনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাঘাইছড়ির বাঘাইহাট ও গঙ্গারাম এলাকায় সরেজমিন ঘুরে পার্বত্যাঞ্চলে বর্তমান প্রশাসনের এসব একচোখা নীতি চোখে পড়ে। এদিকে খাগড়াছড়ি শহরের ঘটনায় গতকাল দুই বিএনপি নেতাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাঘাইহাটের ডানে বাইবাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ চাকমা এ অঞ্চলের বাঙালিদের জন্য মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমানাছড়া ও গঙ্গারাম থেকে বাঙালি উচ্ছেদের নেপথ্যে তার বিশেষ ভূমিকার কথা সবারই জানা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরে বাঙালি ছাত্র পরিষদে যোগদানকারীদের ওপর সে হামলা চালায়। বাঘাইছড়ির বদলি হয়ে যাওয়া ইউএনও এএইচএম হুমায়ুনের ওপর ২১ জানুয়ারি উপজাতীয়দের হামলাটি আনন্দ চাকমার নেতৃত্বেই হয়েছে। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। বরং প্রশাসনকে এখন দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছে এ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ পর্যন্ত নেই। জানা যায়, ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায়ও থানায় কোনো নাম উল্লেখ না করেই একটি জিডি করে ক্ষান্ত হয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও সাজেক এলাকার সব উপজাতির জন্য ত্রাণের ব্যাপক আয়োজন রেখেছে প্রশাসন। অপরদিকে সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটে সর্বস্ব হারিয়েও বাঙালিদের কোনো আশ্রয় নেই। উপজাতীয়দের গুলিতে আহত বাঙালি আবুল কাশেম ও আবদুল হাইকে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে আত্মীয়স্বজনের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। অন্য আহতরা প্রশাসনের কাছে নিজেদের আহত বলারও সুযোগ পায়নি। গুলিবিদ্ধ কাশেম ও আবদুল হাইয়ের কাছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ভাই আমরা কি বাংলাদেশের নাগরিক না? আমরা কি বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য পাব না? আমাদের চিকিত্সা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের নয়? এ সময় গুলিবিদ্ধ কাশেম আর আবদুল হাইয়ের পাশে থাকা স্বজনদের আকুতি মিনতিতে যে কোনো কঠিন হৃদয়ের মানুষও বিচলিত না হয়ে পারবে না। অথচ তাদের পাশ দিয়েই প্রশাসনের যাতায়াত, ত্রাণ নিয়ে ব্যস্ততা দেখা গেলেও তারা কেউ খবর রাখছেন না বাঙালিদের। বরং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে বাঙালিদের প্রতি কোনোরকম সহানুভূতি দেখালে তারা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কায় তটস্থ থাকছেন।
এদিকে বাঘাইছড়ির ইউএনওর ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ উল হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে জিডি আছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বাঙালিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বলেছেন, সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কে এই জ্ঞানেন্দ্র চাকমা?
এদিকে সাজেক ভূমিরক্ষা কমিটি নাম দিয়ে রাজধানী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজনসহ বাঙালিবিরোধী নানা প্রপাগান্ডা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে খাগড়াছড়ি শহরে। জানা যায়, শহরের মিলনপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জ্ঞানেন্দ্র চাকমা এখন সাজেক ভূমিরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন। অথচ সে কখনোই সাজেকের বাসিন্দা ছিল না। এছাড়া যে ভূমিরক্ষার কথা তারা বলছে তা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জ্ঞানেন্দ্র নিজেকে এখন সীমানাছড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবেশগত উদ্বাস্তু বলে পরিচয় দিচ্ছে।
বিএনপির দুই নেতা রিমান্ডে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র কর্মীরা অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনার সূত্রপাত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের। উপরন্তু আত্মরক্ষার্থে যারা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তাদের বিরুদ্ধে সব হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। মহাজনপাড়ায় অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতরা খাগড়াছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রব রাজা এবং শ্রমিক নেতা আবুল কাশেমকে গতকাল রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। অথচ সেদিন প্রতিরোধের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ব্যবসায়ী নির্বিশেষে সব দলের বাঙালিই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু হয়রানির শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সমর্থকরা।
স্থানীয়রা জানান, বাঘাইহাটের ডানে বাইবাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ চাকমা এ অঞ্চলের বাঙালিদের জন্য মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমানাছড়া ও গঙ্গারাম থেকে বাঙালি উচ্ছেদের নেপথ্যে তার বিশেষ ভূমিকার কথা সবারই জানা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরে বাঙালি ছাত্র পরিষদে যোগদানকারীদের ওপর সে হামলা চালায়। বাঘাইছড়ির বদলি হয়ে যাওয়া ইউএনও এএইচএম হুমায়ুনের ওপর ২১ জানুয়ারি উপজাতীয়দের হামলাটি আনন্দ চাকমার নেতৃত্বেই হয়েছে। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। বরং প্রশাসনকে এখন দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছে এ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ পর্যন্ত নেই। জানা যায়, ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায়ও থানায় কোনো নাম উল্লেখ না করেই একটি জিডি করে ক্ষান্ত হয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও সাজেক এলাকার সব উপজাতির জন্য ত্রাণের ব্যাপক আয়োজন রেখেছে প্রশাসন। অপরদিকে সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটে সর্বস্ব হারিয়েও বাঙালিদের কোনো আশ্রয় নেই। উপজাতীয়দের গুলিতে আহত বাঙালি আবুল কাশেম ও আবদুল হাইকে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে আত্মীয়স্বজনের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। অন্য আহতরা প্রশাসনের কাছে নিজেদের আহত বলারও সুযোগ পায়নি। গুলিবিদ্ধ কাশেম ও আবদুল হাইয়ের কাছে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ভাই আমরা কি বাংলাদেশের নাগরিক না? আমরা কি বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য পাব না? আমাদের চিকিত্সা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের নয়? এ সময় গুলিবিদ্ধ কাশেম আর আবদুল হাইয়ের পাশে থাকা স্বজনদের আকুতি মিনতিতে যে কোনো কঠিন হৃদয়ের মানুষও বিচলিত না হয়ে পারবে না। অথচ তাদের পাশ দিয়েই প্রশাসনের যাতায়াত, ত্রাণ নিয়ে ব্যস্ততা দেখা গেলেও তারা কেউ খবর রাখছেন না বাঙালিদের। বরং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে বাঙালিদের প্রতি কোনোরকম সহানুভূতি দেখালে তারা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কায় তটস্থ থাকছেন।
এদিকে বাঘাইছড়ির ইউএনওর ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ উল হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে জিডি আছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বাঙালিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বলেছেন, সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কে এই জ্ঞানেন্দ্র চাকমা?
এদিকে সাজেক ভূমিরক্ষা কমিটি নাম দিয়ে রাজধানী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজনসহ বাঙালিবিরোধী নানা প্রপাগান্ডা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে খাগড়াছড়ি শহরে। জানা যায়, শহরের মিলনপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জ্ঞানেন্দ্র চাকমা এখন সাজেক ভূমিরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন। অথচ সে কখনোই সাজেকের বাসিন্দা ছিল না। এছাড়া যে ভূমিরক্ষার কথা তারা বলছে তা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জ্ঞানেন্দ্র নিজেকে এখন সীমানাছড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবেশগত উদ্বাস্তু বলে পরিচয় দিচ্ছে।
বিএনপির দুই নেতা রিমান্ডে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র কর্মীরা অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনার সূত্রপাত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের। উপরন্তু আত্মরক্ষার্থে যারা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তাদের বিরুদ্ধে সব হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। মহাজনপাড়ায় অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতরা খাগড়াছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রব রাজা এবং শ্রমিক নেতা আবুল কাশেমকে গতকাল রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। অথচ সেদিন প্রতিরোধের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ব্যবসায়ী নির্বিশেষে সব দলের বাঙালিই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু হয়রানির শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সমর্থকরা।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


