Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৪ মার্চ ২০১০, ২০ ফাল্গুন ১৪১৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সংসদে দু’পক্ষ মারমুখী : হট্টগোল অচলাবস্থা

সংসদ রিপোর্টার
জাতীয় সংসদে গত কয়েকদিন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের একে অপরের বিরুদ্ধে গালিগালাজের রেশ ধরে গতকাল উভয়দলের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়। সরকারি দলের সংসদ সদস্য মেহেরপুরের জয়নাল আবেদীনের বিরোধী দলের সদস্যদের দিকে তেড়ে আসাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে মারমুখী অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ১৫ মিনিটের মতো সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ সময় সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। এদিকে সরকার দলের সদস্যদের মারমুখী আচরণের প্রতিবাদে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। পরে মিডিয়া সেন্টারে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তারা সংসদে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ পরিস্থিতিতে সংসদে যাওয়া না যাওয়ার প্রশ্নে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান। ব্রিফিংয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটি ঐতিহাসিক সত্য বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শাম্মী আকতারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারি দলের সদস্যরা তাকে মারার জন্য এগিয়ে আসেন। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গতকাল জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় একে অপরের জাতীয় নেতাদের নিয়ে কটূক্তি, মিথ্যাচার ও বিতর্কিত বক্তব্য শুরু করলে উভয়দলের মধ্যে হৈ-হট্টগোল, চিত্কার-চেঁচামেচি, বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের এক প্রয়াত নেতার (মালেক উকিল) বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে ‘ফেরাউনের হাত থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে’ এবং বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর কেউ ‘ইন্নালিল্লাহ’ শব্দ পড়েননি বলে উল্লেখ করেন। তার এ বক্তব্যের পরই সংসদের চিত্র পাল্টে যায়। শুরু হয় তুমুল হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা, হইচই। সরকারি দলের বেশিরভাগ সদস্যই সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে শাম্মী আক্তারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় চিফ হুইপ আবদুস শহীদ ফ্লোর নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিরোধী দলের কটূক্তি করা শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানালে স্পিকার তা আমলে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু স্পিকারের প্রতিশ্রুতিতে সরকারি দল সন্তুষ্ট হতে না পেরে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। এ পর্যায়ে স্পিকার সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমকে ফ্লোর দিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সুযোগ দেন। তিনি বক্তব্য শুরু করে বঙ্গবন্ধুকে ‘ফেরাউন’-এর সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গ তুললে বিরোধী দলের সদস্যরা মাইক ছাড়াই বলতে থাকেন, ‘আমরা ফেরাউন বলিনি, আপনার দলের নেতা মালেক উকিল বলেছিলেন।’ এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্য মেহেরপুরের জয়নাল আবদীন বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ করে বলে ওঠেন, ‘চুপ শালারা’ এবং তিনি নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে বিরোধী দলের দিকে তেড়ে আসেন। তার সঙ্গে সরকার দলের আরও দুয়েকজন সদস্য চেয়ার ছেড়ে উঠে আসেন। বিরোধী দলের সদস্যরাও সরকারি দলের সদস্যদের গালিগালাজের জবাব দেয়ার পাশাপাশি চেয়ার ছেড়ে উঠে তেড়ে আসার প্রতিবাদে উল্টো তাদের দিকে তেড়ে যান। একে অপরের দিকে ফাইল ছুড়ে মারেন। এ সময় একে অপরকে হাত ইশারা করে ‘সাহস থাকলে কাছে আয়’ বলে মন্তব্য করেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা ও তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তখন অনেকের মুখ থেকে ‘তুই-তোকারি’, ‘চুপ ব্যাটা বস’ এবং ‘শালা’ ইত্যাদি নানা আপত্তিকর শব্দ বেরিয়ে আসে। সংসদের এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ওপর ভাষণ দিতে থাকা ইকবালুর রহিম চুপ হয়ে যান। ডেপুটি স্পিকারও এ পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। উভয়দলের এ মারমুখী অবস্থানে প্রায় ১৫ মিনিটের মতো সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে চিফ হুইপ আবদুস শহীদ তার আসন ছেড়ে উঠে আসেন এবং উভয়কে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। সরকারি দলের জাহিদ আহসান রাসেল, জাতীয় পার্টির শামীম ওসমান, অ্যাডভোকেট মজিবুল হক চুন্নুসহ বেশ কয়েকজন সদস্য হস্তক্ষেপ করে উভয়কে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তীব্র বাকবিতণ্ডার মধ্যে আওয়ামী লীগের ইকবালুর রহীম বাবু বিএনপির শাম্মী আখতারের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বলেন, আজ সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলে তিনিই ভালো বলতে পারতেন বঙ্গবন্ধু ফেরাউন নাকি ফেরেশতা ছিলেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে ঘরে নিতে চাননি। বঙ্গবন্ধুই জিয়াউর রহমানকে বুঝিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘর-সংসার করতে বাধ্য করেছিলেন। এ সময় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা রাত ৮টা ৮ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। পরে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে মহাজোট সরকারের শরিক সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষ হলে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেন। পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে অ্যাডভোকেট তারানা হালিম এবং মাইনউদ্দিন খান বাদল বিরোধী দলের আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতির ওপর আলোচনায় বিএনপির শাম্মী আক্তার বলেন, জিয়াউর রহমানের নামাজের জানাজায় লাখ লাখ লোক অংশ নিয়েছিল। প্রকারান্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের জানাজা দূরের কথা আওয়ামী লীগের কেউ ইন্নাল্লিলাহ পড়েননি। সবাই মোশতাকের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ’ বলেছিলেন। বলেছিলেন ‘ফেরাউনের’ কবল থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে সহ্য করতে পারে না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ’৭৩ সালের পর আওয়ামী লীগ ৭ বিরোধী দলের সদস্যকে সহ্য করতে না পেরে সংসদ ঘেরাও করে ১১ মিনিটের মধ্যে বাকশাল নামক কালো আইন গঠন করেছিল। শাম্মী আক্তার তার বক্তব্যে বিডিআর বিদ্রোহের জন্য সরকারি দলকে দায়ী করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি বিরোধী দলের প্রতি দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি করেন।
‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ এ স্লোগান দিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনার সমাপ্তি টানেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কাছে ফিদেল ক্যাস্ট্রো ও ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্ব হার মানে। বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে বলেন, আমরা আরেকটি ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট সৃষ্টি করতে পারব না। কিন্তু একটি মুক্তিযুদ্ধ করতে পারব। তিনি তার বক্তব্যে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির গতি স্থির হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন। বর্তমান সরকার দীর্ঘ বছর পরে হলেও সেই ধারায় ফিরে এসেছে। নাসিম ওসমান বলেন, কোনো একটি রাষ্ট্র আমাদের বাঙালি থেকে বাংলাদেশী রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করেছে। তারা কারা আমরা তা জানি। এখনও এ চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমাদের এটা হতে দেয়া যাবে না। নাসিম ওসমান বলেন, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর তুলনা হয় না। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তুলনা হয় মাও সেতুং, লেলিনের। সামরিক শাসনামলে জিয়াউর রহমান যেসব খুন করেছেন সেগুলোর জন্য বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়া উচিত। কিন্তু উনি তো ক্ষমা চাইতে পারেন না। কারণ ক্ষমা চাইলে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হয়।
জোবেদা খাতুন বলেন, বিএনপি সব সময় তোতা পাখির মতো শেখানো বুলি ‘জিয়া ঘোষক জিয়া ঘোষক জিয়া ঘোষক’ বলে যেভাবে বলতে থাকে তাতে মনে হয় বাঁশিতে এক ফুঁ দিয়েই স্বাধীনতা চলে আসে। কিন্তু বাঁশিতে ফুঁ দিলেই স্বাধীনতা আসে না। জিয়াকে এতদিন স্বাধীনতার ঘোষক বলে জাতির কাছে যে মিথ্যাচার করেছে সে জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জোবেদা খাতুন বলেন, জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রমাণ করতে চাইলে আইনের আশ্রয় নিন। আইন এবং ইতিহাস কখনও মিথ্যা বলে না। কারণ সবাই জানে কে কবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। তারপরও কি বলবেন আপনারা খুনি নন? খুনি বললে আপনাদের গায়ে জ্বালা ধরে কেন?
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় পয়েন্ট অব অর্ডারে মওদুদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নিজেরা অসংসদীয় আচরণ করে আমাদের সংসদ শেখাতে এসেছেন। তাদের সময়ে যেভাবে সাংবাদিক নির্যাতন হয়েছে তা তারা কীভাবে ভুলে গেছেন। সাংবাদিক নির্যাতন প্রসঙ্গে মওদুদের বক্তব্যের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, তারা সংসদে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অরাজক ও উত্তেজিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে চালের দাম ১০ টাকা করা হবে বিএনপির এ বক্তব্য সম্পর্কে তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারের কোথায় আছে ১০ টাকা চাল খাওয়ানোর কথা। প্রমাণ করুন। আমরা ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেছি।’
উল্লেখ্য, চলতি নবম জাতীয় সংসদে একাধিকবার বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এই প্রথম।
বিএনপির ব্রিফিং : ওয়াকআউটের পর রাতে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করেননি। আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারকে মারতে আসা এবং গালিগালাজ করেছেন অভিযোগ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।
এ সময় এম কে আনোয়ার বলেন, ডেপুটি স্পিকার তার দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করেননি। তিনি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কোনো চেষ্টাই করেননি। ডেপুটি স্পিকার যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করতে পারেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, আজকের (বুধবার) ঘটনার পর সংসদে আমরা ফিরব কিনা তা আমাদের দলের চেয়ারপার্সনসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। এ সময় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আশরাফউদ্দিন নিজান, শাম্মী আক্তার, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহানা আক্তার রানু, রাশিদা বেগম হীরা, নিলুফার চৌধুরী মনি উপস্থিত ছিলেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?