সংসারের দৈন্য ঘুচাতে জেসমিনের সংগ্রামী জীবন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের সংগ্রামী জেসমিন শুধু সংসারের নয়, মাঠেরও হাল ধরেছে। যখন বান্ধবীদের সঙ্গে দল বেঁধে হৈহুল্লোড় করে স্কুল যাওয়ার কথা, ঠিক সেই সময় বাবার অকাল মৃত্যু আর অভাবের তাড়নায় সংসারের হাল ধরতে হয়েছে কঠিন পরিশ্রমী কিশোরী জেসমিনকে। যে নরম হাতে বই, খাতা আর কলম ধরার কথা, তা না হয়ে বাস্তবতার দরুন মাঠে হাল (লাঙ্গল) ধরতে হয়েছে জেসমিনকে। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর হরিণমারী নয়াপাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে জেসমিন। বয়স ১৩ বছর। তিন বছর আগে সাপের কামড়ে তার বাবা রফিকুল ইসলাম মারা যান। তখন থেকে জেসমিনদের সংসারের চাকা থেমে যায়। সংসারে নেমে আসে অভাব আর দৈন্য। জেসমিনের মা আবেদা সংসার চালাতে হিমসিম খেতে থাকেন। তিন মেয়ে, এক ছেলে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হতো বিধবা আবেদাকে। এক সময় বড় মেয়ে জেসমিন সিদ্ধান্ত নেয় মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করার। কিন্তু ঝিয়ের কাজ করে তার ছোট ভাই-বোনদের কোনো উপকারে আসবে না এটা বুঝে জেসমিন সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে। সে পুরুষের মতো মাঠে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ধীরে ধীরে মাঠে পুরুষদের সঙ্গে কাজ করতে করতে কৃষি কাজের সব কৌশল আয়ত্ব করে ফেলে। সে এখন মাঠে শুধু জমি চাষই নয়, বীজতলা থেকে বীজ তুলে রোপা লাগানোসহ সব কাজই করতে পারে। জেসমিনের সঙ্গে কথা বললে সে ছলছল চোখে জানায়, বাবার অকাল মৃত্যু আর অভাবের কারণে এ কঠিন কাজগুলো তাকে করতে হয়। সে আরও জানায়, কারও সহযোগিতা পেলে সে লেখাপড়া করতে ইচ্ছুক।
জেসমিনের মা আবেদা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে অভাব আঘাত হানে। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বারবার ঘুরেও একটি বিধবা ভাতার কার্ড পাননি। ভিটেমাটি ছাড়া আবাদি কোনো জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে।
জেসমিনের মা আবেদা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে অভাব আঘাত হানে। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বারবার ঘুরেও একটি বিধবা ভাতার কার্ড পাননি। ভিটেমাটি ছাড়া আবাদি কোনো জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


