গাবুরায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে অনিশ্চয়তা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি শুষ্ক মৌসুমে এ ইউনিয়নের বাঁধ নির্মিত না হলে ইউনিয়নটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত এ ইউনিয়ন। গত ২৫ মে’র আইলায় এ ইউনিয়নের ৩৭ হাজার মানুষ বসতভিটা ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী থেকে ছোট ছোট ৫টি নদীর সৃষ্টি হয়ে ইউনিয়নের ভেতরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে নদীর পানিতে তলিয়ে আছে ইউনিয়নটি। ইউনিয়নের অধিবাসীরা এখনও বসতভিটায় ফিরে যেতে পারেনি। দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন হিসেবে এটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এ ইউনিয়নের ৫টি ছোট ছোট নদীতে বাঁধ দেয়ার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এদিকে প্রত্যেক ভাঙনের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে পৃথক পৃথক ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মূল ঠিকাদার কাজ করার পরিবর্তে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সেটিকে সাব কন্ট্রাক্ট দেয়া হয়েছে। এ ইউনিয়নের ৩নং জেলেখালী খলিষাবুনিয়া ভাঙনের কাজের মূল ঠিকাদার জাকির খান নিজে কাজ না করে সেটা স্থানীয় চেয়ারম্যান শফিউল আযম লেলিনকে সাব কন্ট্রাক্ট দিয়েছেন। ঠিক একইভাবে চকবারা ক্লোজারের মূল ঠিকাদার নূর কনস্ট্রাকশনের মালিক নূর মুহাম্মদ কাজ না করে দিয়েছেন হযরতকে। ৯নং সোরা ক্লোজারের মূল ঠিকাদার ওই একই ব্যক্তি কাজ না করে তা দিয়েছেন মাসুমকে। স্থানীয় চেয়ারম্যান সরকারদলীয় হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে কাজ করছেন। ক্লোজারগুলোতে যেভাবে করার কথা সেভাবে কাজ হচ্ছে না। শ্রমিকদের মজুরি বাবদ প্রতিদিন ১৫০ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকা। বাকি ৫০ টাকা সাব ঠিকাদাররা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ফলে যেভাবে বাঁধের কাজ করা প্রয়োজন ছিল সেভাবে হচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুন্দরবনের কাঠ দিয়ে জেলেখালী খলিষাবুনিয়ায় কাজ চলছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি লেলিন চেয়ারম্যান পরিষদের ইউপি সদস্যদের জানিয়ে দেন এলাকার ভিজিএফ কার্ডধারীদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ৩ দিন কাজ করে দিতে হবে, নইলে ভিজিএফের চাল দেয়া হবে না। এলাকার ইউপি মেম্বার শামছুর জোয়ার্দার মঞ্জু স্থানীয়দের কাজ করতে বাধ্য করছেন। আইলার আঘাত হানার আগে ৪৬৯ মেট্রিক টন চাল পাউবো বেড়িবাঁধের মেরামতের জন্য দেয়া হয়। শিডিউল অনুযায়ী ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি করে মাটি দেয়ার কথা থাকলেও ৩ ইঞ্চি উচ্চতায় করা হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লেলিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কৃষ্ণ নন্দন বাবুর যোগসাজশে ৪৬৯ মেট্রিক টন চল আত্মসাত্ করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


