Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ২ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৮ সফর ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

গৌরীপুরের ভাষাসৈনিকদের কেউ মনে রাখেনি

ইকবাল হোসেন জুয়েল গৌরীপুর
ময়মনসিংহের উত্তর জনপদ গৌরীপুরে পুলিশের হুলিয়া মাথায় নিয়ে যে ১৯ জনের নেতৃত্বে এ অঞ্চলে ভাষা আন্দোলন জোরদার হয়েছিল তারা অনেকেই দেখে যেতে পারেননি বাঙালির মাতৃভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষণটি। ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানী প্রথম সারির নেতৃত্বদানকারী ১৯ ভাষা সৈনিকের মাঝে বর্তমানে জীবিত আছেন মাত্র ৪ জন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই এ অঞ্চলে তত্কালীন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অধীনে গৌরীপুর ছিল আন্দোলনের মূল কেন্দ্রস্থল। গৌরীপুর থেকেই পরিচালিত হতো আন্দোলনের সব সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতি। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নির্দেশে ময়মনসিংহের ভাষা সৈনিক রফিক উদ্দিন ভূঞা এমপি, সামছুল হক এমপি, হাতেম আলী এমপির নেতৃত্বে গৌরীপুর আরকে হাইস্কুল, রামগোপালপুর পি,জে,কে হাইস্কুল, শ্যামগঞ্জ হাইস্কুল, ঈশ্বরগঞ্জ চরনিলক্ষিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বেশ্বরী হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠিত করে ভাষার দাবিতে প্রতিদিন মিছিল-মিটিং, পথসভা, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, ধর্মঘটসহ নানমুখী আন্দোলন অব্যাহত রাখে। ভাষা আন্দোলনে গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জের ১৯ নেতার নামে তত্কালীন পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন সরকার হুলিয়া জারি করেছিল। তারা হলেন—গৌরীপুরের কৃষক প্রজা পার্টির নেতা আঃ ওয়াহেদ বোকাইনগরী এমএলএ, আঃ কদ্দুছ বোকাইনগরী, জমশেদ আলী, আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি খালেদুজ্জামান, হাতেম আলী মিয়া এমসিএ, ছাত্রলীগ নেতা ডা. এমএ সোবহান, আব্দুস সামাদ, হায়দার আলী, আমির উদ্দিন, ছফির উদ্দিন, শ্যামগঞ্জের মোজাহের উদ্দিন, বিড়ি শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক উদ্দিন ফকির, কমিউনিস্ট নেতা মোঃ আবুল হোসেন, জাতীয় কংগ্রেসের দফতর সম্পাদক আশুতোষ রায় ও ঈশ্বরগঞ্জের মুসলেমউদ্দিন খান, সদর মহকুমার আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি আঃ আজিজ মণ্ডল, আঠারবাড়ীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রমুখ। হুলিয়া মাথায় নিয়ে ভাষা আন্দোলনের স্বপক্ষে গ্রামের হাটবাজারে টিনের চোঙা ফুঁকিয়ে পথসভা, সমাবেশ চালিয়ে গেছেন। এ সময় ভাষা সৈনিকরা কখনও পায়ে হেঁটে বা গরুর গাড়ি দিয়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাংগঠনিক কাজকর্ম চালিয়েছেন। ২১ ফেবুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী ছাত্র-জনতার মিছিলের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর বর্বরতার খবর দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ওইদিন বিকালে গৌরীপুরের ছাত্র-জনতা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ২৩ ফেব্রুয়ারি গৌরীপুরে ধর্মঘটের ডাক দিলে স্থানীয় আর,কে হাইস্কুলের ছাত্ররা গৌরীপুর-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ময়মনসিংহের দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে রেলপথ মুক্ত করে। এরপর ফেব্রুয়ারির ২৮-২৯ তারিখে গৌরীপুরের তত্কালীন বাজার ময়দানে ইটের পর ইট স্থাপন করে সালু কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। কিন্তু পরক্ষণেই পুলিশ ছুটে এসে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এ রকম দু’দিন একই ঘটনা ঘটায় পুলিশ বাহিনী। এ সময় গৌরীপুরের এমসিএ হাতেম আলী মিয়া, খালেদুজ্জামান, আঃ কদ্দুছ বোকাইনগরীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?