সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী : অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা এ বছরই
স্টাফ রিপোর্টার
মাধ্যমিক স্তরে গণিত বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি থাকছে না। বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রেক্ষিতে আপাতত এ বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাই আগামী ২০১১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গণিত বিষয়টির পরীক্ষা প্রচলিত প্রশ্নেই অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নতুন নীতিমালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি যখনই দেয়া হোক না কেন, এর বেতন-ভাতা এ বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এ বছর থেকে শুরু হবে অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার সর্বশেষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্র ও ধর্ম শিক্ষা বিষয় দুটি প্রথমবারের মতো সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
এমপিওভুক্তির বিষয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আগামী ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন ফরমে এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়া হবে। এরপর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্ত করা হবে। তবে যখনই এমপিওভুক্ত করা হোক না কেন, এর বেতন-ভাতা কার্যকর হবে জানুয়ারি থেকে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্তির বাইরে চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে এমপিওভুক্তির জন্য ১১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে অপেক্ষমাণ এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওর আওতায় আনা সম্ভব হবে না। তাছাড়া পদ্ধতিগত কিছু সমস্যাও রয়েছে। তবে শিক্ষায় অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি এলাকা, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারী শিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচিত হবে। তাছাড়া এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি সূচকের আলোকে গ্রেডিং পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একাডেমিক স্বীকৃতি তারিখে ২৫, শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ২৫, পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ২৫ ও পাসের হারে ২৫ করে মোট ১০০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ন্যায় ও নিয়মনীতির ভিত্তিতেই আমরা এই কাজ করব।
এমপিওভুক্তির নতুন নীতিমালায় জনবল কাঠামো ও শিক্ষকদের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নতুন জনবল কাঠামোর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি এমপিওভুক্তির অতিরিক্ত জনবল থাকে তারা বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ পেতে থাকবেন। কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে সরাসরি তার এমপিও স্থগিত, কর্তন, বাতিল না করে সময় দিয়ে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ রয়েছে।
নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের বেতন স্কেল আপগ্রেড করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তিন হাজার ১১৮ জন প্রধান শিক্ষক, ১২ হাজার ৪শ’ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, পাঁচ হাজার ১৪১ জন সুপারিনটেনডেন্ট ও সমসংখ্যক সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট উচ্চতর স্কেলের সুবিধা পাবেন। নিম্ন মাধ্যমিক/মাধ্যমিক স্কুলের টাইমস্কেল প্রাপ্ত শিক্ষকরা সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছর থেকেই অষ্টম শ্রেণীতে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হবে। এতে এ পর্যায়েও শিক্ষার মান বাড়বে ও এর সার্টিফিকেট কাজে লাগিয়ে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা কাজে যোগ দিতে পারবে। তাছাড়া করিগরির মতো বিশেষ কোনো পেশাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার মাত্র তিন বছরের মাথায় এ সনদপত্র পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে। আবার এর দুই বছর পর এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় সেখানে অংশগ্রহণ করতেও উত্সাহিত হবে ছাত্রছাত্রীরা।
বিনামূল্যের বই বিতরণ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে চাহিদা দেয়া সব প্রতিষ্ঠানেই যথাসময়ে বই পৌঁছানো হয়েছে। ক্লাস শুরুর আগেই আমরা বই বিতরণ করেছি। সেন্টমার্টিন, উখিয়া, টেকনাফসহ বাংলাদেশের দুর্গম এলাকাতেও বই সময়মত চলে গেছে। শুধু ঢাকার কিছু অঞ্চলে যথাসময়ে বই পৌঁছায়নি। এর জন্য ঢাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতি ও অসত্ উদ্দেশ্যকে দায়ী করে তিনি বলেন, এর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঢাকার ৫০টি স্কুল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। এখন আর চাহিদা দিয়েছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বই পাওয়ার বাইরে নেই। বিতরণের সমস্যা ছাড়াও বিনামূল্যের বই দেয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকায় গত অক্টোবর মাসে মাধ্যমিকের বইয়ের চাহিদা ছিল ৩১ হাজার ২৬১টি। এখন আবার নতুন চাহিদা পাওয়ার পর এই সংখ্যা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫১৩টি। দেশের ৩০টি জেলায় জরিপ করে দেখা গেছে, আগের চেয়ে বর্তমানে ৪৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১টি বইয়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই সমস্যাটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি।
ইংরেজি ভার্সনের বইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এ মাধ্যমে বইয়ের চাহিদা ছিল এক লাখ ৭৫ হাজার। এর মধ্যে ৭৬ হাজার বই ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বাকি বই খুব শিগগিরই ছাপানোর প্রক্রিয়া শেষ করে দিয়ে দেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষার মান বাড়ানো।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার সর্বশেষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্র ও ধর্ম শিক্ষা বিষয় দুটি প্রথমবারের মতো সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
এমপিওভুক্তির বিষয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আগামী ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন ফরমে এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়া হবে। এরপর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্ত করা হবে। তবে যখনই এমপিওভুক্ত করা হোক না কেন, এর বেতন-ভাতা কার্যকর হবে জানুয়ারি থেকে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্তির বাইরে চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে এমপিওভুক্তির জন্য ১১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে অপেক্ষমাণ এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওর আওতায় আনা সম্ভব হবে না। তাছাড়া পদ্ধতিগত কিছু সমস্যাও রয়েছে। তবে শিক্ষায় অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি এলাকা, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারী শিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচিত হবে। তাছাড়া এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি সূচকের আলোকে গ্রেডিং পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একাডেমিক স্বীকৃতি তারিখে ২৫, শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ২৫, পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ২৫ ও পাসের হারে ২৫ করে মোট ১০০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ন্যায় ও নিয়মনীতির ভিত্তিতেই আমরা এই কাজ করব।
এমপিওভুক্তির নতুন নীতিমালায় জনবল কাঠামো ও শিক্ষকদের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নতুন জনবল কাঠামোর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি এমপিওভুক্তির অতিরিক্ত জনবল থাকে তারা বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ পেতে থাকবেন। কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে সরাসরি তার এমপিও স্থগিত, কর্তন, বাতিল না করে সময় দিয়ে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ রয়েছে।
নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের বেতন স্কেল আপগ্রেড করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তিন হাজার ১১৮ জন প্রধান শিক্ষক, ১২ হাজার ৪শ’ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, পাঁচ হাজার ১৪১ জন সুপারিনটেনডেন্ট ও সমসংখ্যক সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট উচ্চতর স্কেলের সুবিধা পাবেন। নিম্ন মাধ্যমিক/মাধ্যমিক স্কুলের টাইমস্কেল প্রাপ্ত শিক্ষকরা সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে গণ্য হবেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছর থেকেই অষ্টম শ্রেণীতে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হবে। এতে এ পর্যায়েও শিক্ষার মান বাড়বে ও এর সার্টিফিকেট কাজে লাগিয়ে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা কাজে যোগ দিতে পারবে। তাছাড়া করিগরির মতো বিশেষ কোনো পেশাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার মাত্র তিন বছরের মাথায় এ সনদপত্র পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে। আবার এর দুই বছর পর এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় সেখানে অংশগ্রহণ করতেও উত্সাহিত হবে ছাত্রছাত্রীরা।
বিনামূল্যের বই বিতরণ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে চাহিদা দেয়া সব প্রতিষ্ঠানেই যথাসময়ে বই পৌঁছানো হয়েছে। ক্লাস শুরুর আগেই আমরা বই বিতরণ করেছি। সেন্টমার্টিন, উখিয়া, টেকনাফসহ বাংলাদেশের দুর্গম এলাকাতেও বই সময়মত চলে গেছে। শুধু ঢাকার কিছু অঞ্চলে যথাসময়ে বই পৌঁছায়নি। এর জন্য ঢাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতি ও অসত্ উদ্দেশ্যকে দায়ী করে তিনি বলেন, এর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ঢাকার ৫০টি স্কুল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। এখন আর চাহিদা দিয়েছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বই পাওয়ার বাইরে নেই। বিতরণের সমস্যা ছাড়াও বিনামূল্যের বই দেয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকায় গত অক্টোবর মাসে মাধ্যমিকের বইয়ের চাহিদা ছিল ৩১ হাজার ২৬১টি। এখন আবার নতুন চাহিদা পাওয়ার পর এই সংখ্যা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫১৩টি। দেশের ৩০টি জেলায় জরিপ করে দেখা গেছে, আগের চেয়ে বর্তমানে ৪৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১টি বইয়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই সমস্যাটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি।
ইংরেজি ভার্সনের বইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এ মাধ্যমে বইয়ের চাহিদা ছিল এক লাখ ৭৫ হাজার। এর মধ্যে ৭৬ হাজার বই ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বাকি বই খুব শিগগিরই ছাপানোর প্রক্রিয়া শেষ করে দিয়ে দেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষার মান বাড়ানো।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


