ঝিনাইদহে সড়ক চাঁদাবাজি বেপরোয়া : শ্রমিক কল্যাণের টাকা যাচ্ছে আ’লীগ নেতাদের পকেটে
আরিফুল আবেদীন টিটো, ঝিনাইদহ
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের নামে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন রুটে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। তথাকথিত শ্রমিক কল্যাণ সমিতির চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অসহায় হয়ে পড়েছে এখানকার বাস ও ট্রাকের ড্রাইভাররা। অভিযোগ উঠেছে আদায়কৃত চাঁদার বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে কতিপয় মহলের মধ্যে লুটপাটের মহোত্সব চলছে।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের উপর দিয়ে গড়ে তিন হাজার ট্রাক ও ৭শ’ যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের পথিমধ্যে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ড ও আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিটি ট্রাক, বাস ও নসিমন থেকে জোরপূর্বক ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা আদায়ের পর দেয়া হচ্ছে একটি রসিদ। তাতে লেখা রয়েছে পঙ্গু, দুস্থ, বেকার, বৃদ্ধ, অক্ষম শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের সাহায্যার্থে দৈনন্দিন আদায়। কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক আইল্যান্ডের দক্ষিণে কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে অবৈধভাবে বাস এবং ট্রাক থেকে প্রতিনিয়ত ২৪ ঘণ্টা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ ট্রাফিক আইল্যান্ডের সামনে, আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডে ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে।
একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রতিদিন ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী গড়ে তিন হাজার ট্রাক থেকে তিনটি পয়েন্টে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন চাঁদা উঠানো হচ্ছে ৯০ হাজার টাকা। যা প্রতি মাসে দাঁড়ায় ২৭ লাখ টাকার মতো। আর যাত্রবাহী বাস থেকে প্রতিমাসে চাঁদা তোলা হচ্ছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সূত্রটি দাবি করেছে, বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত ১৩ মাসে এই সেক্টর থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার উপরে অবৈধ চাঁদা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার না করে লুটপাট করা হচ্ছে, যা শ্রমিকনেতা, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটস্থ হচ্ছে।
ট্রাক ড্রাইভারদের বক্তব্য : ঝিনাইদহ শহরের উপর দিয়ে ঢাকাগামী যশোর সদর উপজেলার নরন্দপুর ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের ট্রাক ড্রাইভার রবিউল ইসলাম জানান, সড়কপথে আওয়ামীপন্থী শ্রমিক ও পুলিশের দৌরাত্ম্যে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যশোর থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকায় যেতে অন্তত ৩০টি স্পটে তিনশ’ টাকা অবৈধভাবে ইউনিয়নকে দিতে হচ্ছে। আর পুলিশকে ৬টি স্পটে দিতে হচ্ছে ৬শ’ টাকা। সব মিলিয়ে পণ্য পরিবহনে বর্তমান সময়ে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিগত জোট সরকারের আমলে সড়কপথে এই চাঁদাবাজি ছিল না। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম মাস থেকেই প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। অপরদিকে বগুড়ার ট্রাক ড্রাইভার রমজান আলী বললেন, চাঁদা না দিলে চাঁদাবাজরা গাড়ি ভাংচুর করে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়ি আটকে রেখে ড্রাইভারদের মারধর করা হয়। মূলত এই টাকা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় লুটপাট করা হচ্ছে মাত্র।
চাঁদা আদায়কারী শ্রমিকদের কথা : গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত শ্রমিক ব্যাপারী পাড়ার আবদুর রাজ্জাক, রেজাউল ইসলাম, লিজা মিয়া, আলমগীর হোসেন ও ওমর আলী জানালেন, আদায়কৃত ১০ টাকায় আমরা দায়িত্বরত শ্রমিকরা পাই ৪ টাকা আর ইউনিয়ন নেতারা পান ৬ টাকা। তারা দুঃখের সঙ্গে জানালেন, কিছুদিন আগে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক আইল্যান্ডের দক্ষিণে চাঁদা আদায় করার সময় তাদের সহকর্মী রবিউল ইসলাম নামে এক শ্রমিক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান।
শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতির বক্তব্য : ঝিনাইদহ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হবিবুর রহমান হবু জানান, আমরা ইউনিয়নের পঙ্গু, দুস্থ, বেকার, বৃদ্ধ, অক্ষম শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল গঠনের লক্ষ্যে এই অর্থ সংগ্রহ করছি। এতে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়নের বৃদ্ধ শ্রমিকদের এককালীন ৪০ হাজার ও মৃত শ্রমিককে এককালীন ৫০ হাজার টাকা দানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬-এর বক্তব্য : ঝিনাইদহ র্যাব-৬-এর কমান্ডার মোসাদ্দেক আবু সায়েক জানান, আমরা এ ব্যাপারে সবসময় তত্পর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করছে। আমরা এক্ষেত্রে ৪-৫ জনকে আটক করেছি।
জেলা প্রশাসকের কথা : ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক রমা রাণী রায় এই প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সড়ক পথে চাঁদা আদায়ের কোনো অনুমতি দেননি। তিনি জোর দিয়ে বললেন, যদি এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের উপর দিয়ে গড়ে তিন হাজার ট্রাক ও ৭শ’ যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের পথিমধ্যে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ড ও আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিটি ট্রাক, বাস ও নসিমন থেকে জোরপূর্বক ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা আদায়ের পর দেয়া হচ্ছে একটি রসিদ। তাতে লেখা রয়েছে পঙ্গু, দুস্থ, বেকার, বৃদ্ধ, অক্ষম শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের সাহায্যার্থে দৈনন্দিন আদায়। কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক আইল্যান্ডের দক্ষিণে কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে অবৈধভাবে বাস এবং ট্রাক থেকে প্রতিনিয়ত ২৪ ঘণ্টা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ ট্রাফিক আইল্যান্ডের সামনে, আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডে ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে।
একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রতিদিন ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী গড়ে তিন হাজার ট্রাক থেকে তিনটি পয়েন্টে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন চাঁদা উঠানো হচ্ছে ৯০ হাজার টাকা। যা প্রতি মাসে দাঁড়ায় ২৭ লাখ টাকার মতো। আর যাত্রবাহী বাস থেকে প্রতিমাসে চাঁদা তোলা হচ্ছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সূত্রটি দাবি করেছে, বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত ১৩ মাসে এই সেক্টর থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার উপরে অবৈধ চাঁদা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যবহার না করে লুটপাট করা হচ্ছে, যা শ্রমিকনেতা, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটস্থ হচ্ছে।
ট্রাক ড্রাইভারদের বক্তব্য : ঝিনাইদহ শহরের উপর দিয়ে ঢাকাগামী যশোর সদর উপজেলার নরন্দপুর ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের ট্রাক ড্রাইভার রবিউল ইসলাম জানান, সড়কপথে আওয়ামীপন্থী শ্রমিক ও পুলিশের দৌরাত্ম্যে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যশোর থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকায় যেতে অন্তত ৩০টি স্পটে তিনশ’ টাকা অবৈধভাবে ইউনিয়নকে দিতে হচ্ছে। আর পুলিশকে ৬টি স্পটে দিতে হচ্ছে ৬শ’ টাকা। সব মিলিয়ে পণ্য পরিবহনে বর্তমান সময়ে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিগত জোট সরকারের আমলে সড়কপথে এই চাঁদাবাজি ছিল না। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম মাস থেকেই প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। অপরদিকে বগুড়ার ট্রাক ড্রাইভার রমজান আলী বললেন, চাঁদা না দিলে চাঁদাবাজরা গাড়ি ভাংচুর করে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়ি আটকে রেখে ড্রাইভারদের মারধর করা হয়। মূলত এই টাকা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় লুটপাট করা হচ্ছে মাত্র।
চাঁদা আদায়কারী শ্রমিকদের কথা : গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত শ্রমিক ব্যাপারী পাড়ার আবদুর রাজ্জাক, রেজাউল ইসলাম, লিজা মিয়া, আলমগীর হোসেন ও ওমর আলী জানালেন, আদায়কৃত ১০ টাকায় আমরা দায়িত্বরত শ্রমিকরা পাই ৪ টাকা আর ইউনিয়ন নেতারা পান ৬ টাকা। তারা দুঃখের সঙ্গে জানালেন, কিছুদিন আগে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক আইল্যান্ডের দক্ষিণে চাঁদা আদায় করার সময় তাদের সহকর্মী রবিউল ইসলাম নামে এক শ্রমিক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান।
শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতির বক্তব্য : ঝিনাইদহ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হবিবুর রহমান হবু জানান, আমরা ইউনিয়নের পঙ্গু, দুস্থ, বেকার, বৃদ্ধ, অক্ষম শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল গঠনের লক্ষ্যে এই অর্থ সংগ্রহ করছি। এতে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়নের বৃদ্ধ শ্রমিকদের এককালীন ৪০ হাজার ও মৃত শ্রমিককে এককালীন ৫০ হাজার টাকা দানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ র্যাব-৬-এর বক্তব্য : ঝিনাইদহ র্যাব-৬-এর কমান্ডার মোসাদ্দেক আবু সায়েক জানান, আমরা এ ব্যাপারে সবসময় তত্পর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করছে। আমরা এক্ষেত্রে ৪-৫ জনকে আটক করেছি।
জেলা প্রশাসকের কথা : ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক রমা রাণী রায় এই প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সড়ক পথে চাঁদা আদায়ের কোনো অনুমতি দেননি। তিনি জোর দিয়ে বললেন, যদি এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


