আবু বকর হত্যা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উত্তপ্ত ঢাবি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে আবু বকর হত্যার বিচারের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের পদত্যাগ আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন উত্তপ্ত। বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি কর্মসূচিতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফেডারেশন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রমৈত্রী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য নেতারা লাগাতার কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গতকালও ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশের বাধার মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালর প্রক্টর একেএম সাইফুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল বের করে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য। মিছিল শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে তারা কুশপুত্তলিকা দাহ করতে গেলে রমনা জোনের এডিসি নূরুল ইসলাম ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশ কুশপুত্তলিকা ছিনিয়ে নেয়। তবে এসময় প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা পোড়ায় নেতাকর্মীরা।
এসময় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে রাখছে। অথচ সাধারণ ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে সরকার ও ছাত্রলীগ। আজ আমাদের কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছে। রমনা জোনের এডিসি নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঢাবি ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। এতে ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আইনের বাইরে কিছু করা যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা ছিনিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, কারও কুশপুত্তলিকা দাহ করা মানে তার পদকে অপমান করা। আর সেটি যদি রাষ্ট্রপক্ষের কেউ হন, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। আমরা তা হতে দিতে পারি না।
মানববন্ধন : বেলা সাড়ে ১১টায় আবু বকর হত্যার প্রতিবাদে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ‘নির্যাতনবিরোধী ছাত্রছাত্রীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এতে যোগ দেন। মানববন্ধন থেকে আবু বকর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, তদন্ত কমিটি থেকে প্রক্টরকে বাদ দেয়া এবং এএফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং আবু বকরের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানানো হয়।
বেলা ১১টার দিকে কার্জন হল এলাকায় বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ সমাবেশ : আবু বকর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। দুপুরে মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল বের করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে জোট নেতারা আবু বকর হত্যার জন্য পুলিশ, ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানান। নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু কোনোটিরই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। বরং বিচার না করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীসের প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে, যার ফলে একজন নিরীহ ছাত্রকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ছাত্র মৃত্যুর দায়দায়িত্ব ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকেই নিতে হবে। ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মানবেন্দ্র দেব বলেন, লজ্জা থাকলে ব্যর্থতার জন্য প্রক্টরের পদত্যাগ করা উচিত। বক্তারা নিহত আবু বকরের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জোট নেতাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি ফকরুদ্দিন কবির আতিক, ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি আরিফুর ইসলাম, ছাত্রমৈত্রী নেতা শামসুজ্জামান, মেহেদী হাসান প্রমুখ।
তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান : আবু বকরের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কাজে কমিটিকে সহায়তা করার জন্য শিক্ষক, ছাত্র, পুলিশ, কর্মচারী, কর্মকর্তা সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ। গতকাল দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট দিতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।
গতকালও ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশের বাধার মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টার দিকে ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালর প্রক্টর একেএম সাইফুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল বের করে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য। মিছিল শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে তারা কুশপুত্তলিকা দাহ করতে গেলে রমনা জোনের এডিসি নূরুল ইসলাম ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশ কুশপুত্তলিকা ছিনিয়ে নেয়। তবে এসময় প্রক্টরের কুশপুত্তলিকা পোড়ায় নেতাকর্মীরা।
এসময় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে রাখছে। অথচ সাধারণ ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে সরকার ও ছাত্রলীগ। আজ আমাদের কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছে। রমনা জোনের এডিসি নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঢাবি ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। এতে ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আইনের বাইরে কিছু করা যাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা ছিনিয়ে নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, কারও কুশপুত্তলিকা দাহ করা মানে তার পদকে অপমান করা। আর সেটি যদি রাষ্ট্রপক্ষের কেউ হন, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। আমরা তা হতে দিতে পারি না।
মানববন্ধন : বেলা সাড়ে ১১টায় আবু বকর হত্যার প্রতিবাদে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ‘নির্যাতনবিরোধী ছাত্রছাত্রীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এতে যোগ দেন। মানববন্ধন থেকে আবু বকর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, তদন্ত কমিটি থেকে প্রক্টরকে বাদ দেয়া এবং এএফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্ত্রাস ও দখলদারমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং আবু বকরের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানানো হয়।
বেলা ১১টার দিকে কার্জন হল এলাকায় বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ সমাবেশ : আবু বকর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। দুপুরে মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল বের করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে জোট নেতারা আবু বকর হত্যার জন্য পুলিশ, ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি জানান। নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু কোনোটিরই সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। বরং বিচার না করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীসের প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে, যার ফলে একজন নিরীহ ছাত্রকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ছাত্র মৃত্যুর দায়দায়িত্ব ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকেই নিতে হবে। ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মানবেন্দ্র দেব বলেন, লজ্জা থাকলে ব্যর্থতার জন্য প্রক্টরের পদত্যাগ করা উচিত। বক্তারা নিহত আবু বকরের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জোট নেতাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি ফকরুদ্দিন কবির আতিক, ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি আরিফুর ইসলাম, ছাত্রমৈত্রী নেতা শামসুজ্জামান, মেহেদী হাসান প্রমুখ।
তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান : আবু বকরের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কাজে কমিটিকে সহায়তা করার জন্য শিক্ষক, ছাত্র, পুলিশ, কর্মচারী, কর্মকর্তা সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ। গতকাল দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট দিতে পারবে বলে তিনি আশা করেন।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


