Amardesh
আজঃ ঢাকা, মঙ্গলবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ২৭ মাঘ ১৪১৬, ২৩ সফর ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে চিংড়ি জোন

আতিয়ার পারভেজ, খুলনা
‘চিংড়ি চাষ, না ধান চাষ’—এ নিয়ে বিরোধ তিন দশকের। বিষয়টি নিয়ে তাবত এনজিও চিংড়ি চাষ বন্ধের পক্ষে কাজ করছে। আর ঘের করতে না দেয়ার বিষয়টি ছিল গত নির্বাচনে খুলনা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ অবস্থায় মত্স্য বিজ্ঞানীদের দাবি, খুলনা ও সাতক্ষীরার লবণাক্ত এলাকায় চিংড়ি চাষের জন্য জোন ঘোষণা জরুরি। এর মধ্য দিয়ে সেখানে একটি কার্যকর চিংড়ি উন্নয়ন কৌশল নেয়া সম্ভব হবে। এতে চিংড়ি উত্পাদন যেমন বাড়বে তেমনি সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থান। ঘটবে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামজিক উন্নয়ন। রফতানি বাণিজ্যে খুলবে উন্নয়ন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।
চিংড়ি চাষের পক্ষে-বিপক্ষে চলতে থাকা বিরোধ নিয়ে যখন অসহনীয় অবস্থা চলমান, তখন জোন ঘোষণার এ দাবি করলেন দেশের মত্স্য বিজ্ঞানীরা। মত্স্য বিভাগের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সিরাজুল করিমের এ বিষয়ের ওপর তৈরি করা এক গবেষণা প্রতিবেদন খুলনা প্রেসক্লাবে প্রকাশ করার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ’র কর্মকর্তা কবি আল ওয়াহিদ জানান, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি ও মত্স্য চাষ উন্নয়ন কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারটি আপতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানটি চলতি মাসেই আয়োজন করা হবে।
ফ্লাশব্যাক : আশির দশকে খুলনা ও সাতক্ষীরার নিচু এলাকায় ফসল হতো না। অতিরিক্ত লবণাক্ততায় দু’টি জেলার উপকূলীয় জনপদের মানুষ ছিল ভাগ্য বিড়ম্বিত। সেখানে লবণাক্ত সহনশীল বাগদা চিংড়ি উত্পাদন শুরু হলে রাতারাতি দৃশ্যপট বদলে যায়। শুরু হয় ঘের করে চিংড়ি চাষের প্রতিযোগিতা। কৃষকরা বাগদা চিংড়ি রফতানি করে প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। কিন্তু এরই মধ্যে সাদা সোনা চিংড়ি নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। জাতীয় ও স্থানীয় প্রায় সব এনজিও চায় চিংড়ি চাষ বন্ধ হোক। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে—এ ধরনের তথ্য তুলে ধরে এনজিওগুলো প্রায় এক দশক ধরে নানা প্রকার প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তারা স্থানীয় জনগণকে এ ব্যাপারে সংগঠিত করার পাশাপাশি আইনগত সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে। এনজিওদের এ তত্পরতায় আরও জোর আসে গত নির্বাচনে খুলান-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা, খুলনা-১ (দাকোপ ও বটিয়াঘাটা) আসনের আওয়ামী লীগ নেতা ননী গোপাল মণ্ডল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা) আসনে আওয়ামী লীগ নেতা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ বন্ধের বিষয়টি তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে অন্তর্ভুক্ত করার পর। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই ৩ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তারা তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন। নানা বিতর্কের মধ্যে স্থানীয় ৬টি উপজেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে মামলার পর মামলা হতে থাকায় থানা-পুলিশও রয়েছে বিরক্তিকর অবস্থায়। এর শেষ কোথায় তা তাদের কারও জানা নেই। ‘লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে হবে’—এ মতের বিপক্ষে কাজ করছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)। তাদের যুক্তি, এ অঞ্চলের ৬টি উপজেলা অতি লবণাক্ত। ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) পক্ষ থেকে খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রীতিমত লবণ চাষ হয়ে আসছে। কাজেই এসব এলাকায় মিষ্টি পানির সংস্থান সম্ভব নয়। এ জন্য এখানে লবণাক্ত পানিনির্ভর বাগদা চিংড়ি চাষের বিকল্প নেই।
বিএফএফইএ’র দাবি, লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ বন্ধের তত্পরতা একটি ষড়যন্ত্র। লাভজনক এই খাতের শুধু চাষ বন্ধ নিয়েই ষড়যন্ত্র হচ্ছে না, উত্পাদিত চিংড়ির ক্রেতাদেশ যাতে সুস্বাদু এ চিংড়ি না খায় সেজন্য ওই দেশগুলোতে স্থানীয় এনজিওগুলো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। যেমন—হিমায়িত চিংড়ি প্রসেসিং প্লান্টগুলোয় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ হয় না। প্লান্টে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় ইত্যাদি। এসব তথ্য পাওয়ার পর ক্রেতাদেশ থেকে একাধিকবার অভিযোগ যাচাইয়ে প্রতিনিধিদল এসে খোঁজ-খবর নিয়ে গেছে। কিন্তু সত্যতা না পাওয়ায় যথারীতি রফতানি অব্যাহত আছে। বিএফএফইএ’র দাবি, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত চিংড়ি উত্পাদন ও রফতানি যাতে বন্ধ হয় সেলক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনজিওরা। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এ তত্পরতা বন্ধ হওয়ার দরকার।
কি আছে গবেষণাপত্রে : মত্স্য বিজ্ঞানী সিরাজুল করিম তার গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন, চিংড়ি চাষ লাভজনক হওয়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক বহুমাত্রিক দ্বন্দ্ব চলছে। চলছে রাজনৈতিক মতপার্থক্য। খাস জমির ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের চাষ পদ্ধতি, অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন, লাগসই প্রযুক্তির অভাব, সেবা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা, মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে এখাতে শৃঙ্খলা নেই। সঙ্কটগুলো দূর করতে পারলে ‘চিংড়ি চাষ না দানাদার শস্য উত্পাদন’ এ বিরোধ দূর হবে। লবণ পানি এলাকায় কেবল চিংড়ি জোন এবং স্বাদু পানি এলাকায় শস্য জোন করা প্রয়োজন। এর জন্য চিংড়ি ঘের, ডিপো, প্রাণী খাদ্য কোম্পানি ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানাকে কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে মত্স্য, কৃষি, বাণিজ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?