Amardesh
আজঃ ঢাকা, মঙ্গলবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ২৭ মাঘ ১৪১৬, ২৩ সফর ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা চাইবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
উন্নয়ন সহযোগীদের বৈঠকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। সুশাসন, বিদ্যুত্, জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে বৈঠকে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশ, বেকারত্ব ৪ শতাংশ নামিয়ে আনা এবং মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীতসহ সংশ্লিষ্ট খাতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যত্ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হবে।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া ও লোকাল কনসালটেম্লট গ্রুপের (এলসিজি) প্রধান ব্রিটিশ দাতা সংস্থা ডিএফআইডি’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ত্রিক্রস অস্টিন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় দু’দিনের বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম বৈঠকের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ বৈঠকে উদ্বোধনী সেশনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ‘কান্ট্রি পেপার’ উপস্থাপন করবেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম। ৩২টি উন্নয়ন সহযোগীর পাশাপাশি এবার বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দিচ্ছে ভারত, চীন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের সামনের বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরা হবে, যেন দাতারা ভবিষ্যতে অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে সহজ হয়। তবে দাতারা এই মুহূর্তে কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না। এছাড়া বিভিন্ন সেশনের পাশাপাশি ডেভেলপমেন্ট মেলা নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকার, এনজিও ও দাতাদের স্টল থাকবে, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈঠকটির অন্যান্য সেশনে থাকবে সুশাসন, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানিসম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ ও আইসিটি। এসব বিষয়ভিত্তিক সেশনে সংশ্লিষ্ট খাতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যত্ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হবে।
ত্রিক্রস অস্টিন বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতির জবাবদিহিতা থাকা দরকার। তবে দাতাদের সহায়তা প্রদানের নীতিমালার সমন্বয় করতে হবে। এজন্য জয়েন্ট কো-অপারেশন স্ট্রাটেজি (জিসিএস) প্রণীত হচ্ছে। এছাড়া সরকারি অর্থ ব্যয়ে জবাবদিহিতা থাকা দরকার। কেননা, উন্নয়ন সহযোগীদের করের পয়সা সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়।
ইআরডি সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে। এই বৈঠক আয়োজনে দাতাদের সহায়তা পেতে সাহায্য করবে। তাত্ক্ষণিকভাবে দাতারা হয়তো কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না। তবে দাতাদের জানা দরকার সরকার আগামী দিনগুলোতে উন্নয়নের জন্য কি করবে। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি), পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং ভিশন-২০২১-এর মতো সরকারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও দাতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল (পিআরএস) বাস্তবায়ন ফোরাম নামে বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যকার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০০২ সারে মে মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় আগের বৈঠকটি, যা প্যারিস কনসোর্টিয়াম নামে পরিচিত।
প্রায় সাড়ে চার বছর পর এবারের উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। এতদিন বিশ্বব্যাংক উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকে নেতৃত্ব দিতো। এবার নেতৃত্ব দিচ্ছে ডিএফআইডি। উন্নয়ন সহযোগীদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে, যা এইড গ্রুপ বৈঠক নামে পরিচিত ছিল।
বিডিএফ বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বাংলাদেশের মধ্য, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে তুলে ধরা হবে ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া একই সময়ের মধ্যে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে। ২০১৪ সালের মধ্যে সারাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। এবারের বিডিএফ বৈঠকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, দ্বিতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি-২), আসন্ন ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত-২০২১ (ভিশন-২০২১)-এ বাংলাদেশের লক্ষ্য, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?