ঢাকার অতিথি ইউকে’র ফ্যাশন ডিজাইনের শিক্ষকের মন্তব্য : বাংলাদেশের হস্তশিল্প ও ডিজাইন বিশ্বব্রান্ড হতে পারে
মাহাবুবুর রহমান
যুক্তরাজ্যের ফ্যালমাউথ ইউনিভার্সিটি কলেজের টেক্সটাইল ডিজাইন বিভাগের শিক্ষক ইসমিনি স্যামনিডো বলেছেন, বাংলাদেশের হস্তশিল্প ও ডিজাইন অত্যন্ত নিখুঁত ও চমত্কার। সরকার ও উদ্যোক্তারা আন্তরিক পদক্ষেপ নিলে এগুলোও ‘বিশ্বব্রান্ড’ হতে পারে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘নিউ সিল্ক’ প্রকল্পের অধীনে তিনি দু’মাসের জন্য ঢাকা সফর করছেন।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফ্যাশন ডিজাইন হাউস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে গিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নানা শিল্প সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। আবার এদেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও কর্মজীবীদের ধারণা দিচ্ছেন পাশ্চাত্যের বিভিন্ন শিল্প ও বানানোর কৌশল সম্পর্কে। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতিকে যুক্তরাজ্যের শিল্পে সুযোগমতো ব্যবহার করবেন বলে জানান।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুমার কাছ থেকে তিনি হস্তশিল্প বানাতে শিখছেন। বাঁশ দিয়ে তাঁতশিল্পে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ‘বাম্বুরিড’ বানানো শেখেন ইসমিনি। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘রুমা অনেক বেশি ফাস্ট। আমি চেষ্টা করছি। দু’দিনে কৌশল শিখে ফেলেছি।’
এভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প ও ফ্যাশন ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন ইসমিনি। টাঙ্গাইলের তাঁত ও হস্তশিল্প পরিদর্শন এবং ফ্যাশন ডিজাইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইসমিনি মতবিনিময় করেন। টাঙ্গাইলের তাঁতীপাড়ায় নিরক্ষর অথচ মেধাবী ও দক্ষ তাঁত শ্রমিকদের কাছ থেকে ইসমিনি কাপড় তৈরির বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করেন। এক্ষেত্রে দেলদুয়ারের উবীনীগের পার্শ্ববর্তী গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুমাই হয়ে ওঠে তার শিক্ষক। যুক্তরাজ্যের এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সেখানে ছাত্র বনে যান।
ইসমিনি জানান, এভাবে বাংলাদেশের নানা ঐতিহ্যবাহী শিল্প সম্পর্কে আমি ধারণা নিচ্ছি। যুক্তরাজ্যে গিয়ে এসব আমাদের শিল্পে ব্যবহারের উদ্যোগ নেবো। বাংলাদেশের হস্তশিল্প ও ডিজাইন এতো সূক্ষ্ম যে, এর মধ্যে অনেকগুলো ‘বিশ্বব্রান্ড’ হয়ে উঠতে পারে। আমিও যুক্তরাজ্যের নানা কৌশল ও শিল্প সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পে কর্মরতদের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি।
রুমাদের উঠানেই ‘বাঁশের রিড’ বানাতে বানাতে ইসমিনি কথা বলছিলেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। এ সময় রুমাদের জনবিশেক প্রতিবেশীও এসে ভিড় জমান। ইসমিনির বক্তব্য বাংলা করে শোনাতেই ক্ষেপে যান রুমার চাচা। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৌশল বিদেশে শেখানোর দরকার নেই। এমনিতেই কোম্পানিরা এখন স্টিল দিয়ে সব বানাচ্ছে। আমাদের হস্তশিল্পের কোনো দাম নেই। যা দাম পাই তা দিয়ে পেট চলে না।’ তার ক্ষুব্ধ চেহারা দেখে ইসমিনি হেসে হেসে বক্তব্যের অর্থ জানতে চাইলেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বললে ইসমিনি বলেন, ‘আমি বেশক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। তারা প্রাকটিক্যালি খুবই অদক্ষ। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের হস্তশিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষ ও পেশার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু প্রয়োজনীয় দাম ও সহায়তা না পাওয়ায় হতাশা থেকে অনেকে পেশা ছাড়তে চাইছেন। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি দেয়া দরকার।’
ইসমিনি জানান, তিনি আড়ং, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, কলেজ ফর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ডিজাইন বাংলাদেশ, গারো ফ্যাব্রিক, ডিজাইন স্টুডিও এডুকেশন, হস্তশিল্প কারখানা, টাঙ্গাইল টেক্সটাইল কলেজ, উবীনীগের তাঁতশিল্পসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
এ প্রতিবেদককে ইসমিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে টেকনিক্যাল শিক্ষার প্রতি আরও জোর দেয়া উচিত। তাঁতশিল্পকে ধরে রাখতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য শিল্পে কর্মরতরা জীবিকা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় পেশা ছাড়তে চাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ও উদ্যোক্তাদের আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকল্পের অধীনে তিনি ঢাকা সফর করেন। এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, পাঁচটি দেশ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ‘নিউ সিল্ক’ প্রকল্প চলছে—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান ও ইরাক। হস্তশিল্প ও ডিজাইন স্কিল সম্পর্কে আদান-প্রদান এবং কনটেমপোরারি স্টাইলে নিয়ে আসা এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এজন্য ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পাট ও বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের ওপর কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশী একজন ডিজাইনারকে যুক্তরাজ্য সফর করিয়ে তাদের শিল্প ও ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়া হয়। এখন যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফ্যাশন ডিজাইনার ইসমিনি স্যামনিডো বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনিও আমাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা সম্পর্কে জানছেন। মাসুদ হোসেন বলেন, এ ধরনের আদান-প্রদানে বিশ্বে আমাদের শিল্পপণ্যও ব্রান্ড হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে লিঙ্ক তৈরি হবে। শিল্প ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত উন্নতটা পরস্পর গ্রহণ করার সুযোগ পাবে। প্রসঙ্গত, ইসমিনি আগামী সপ্তাহে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফ্যাশন ডিজাইন হাউস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে গিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নানা শিল্প সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। আবার এদেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও কর্মজীবীদের ধারণা দিচ্ছেন পাশ্চাত্যের বিভিন্ন শিল্প ও বানানোর কৌশল সম্পর্কে। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতিকে যুক্তরাজ্যের শিল্পে সুযোগমতো ব্যবহার করবেন বলে জানান।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুমার কাছ থেকে তিনি হস্তশিল্প বানাতে শিখছেন। বাঁশ দিয়ে তাঁতশিল্পে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ‘বাম্বুরিড’ বানানো শেখেন ইসমিনি। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘রুমা অনেক বেশি ফাস্ট। আমি চেষ্টা করছি। দু’দিনে কৌশল শিখে ফেলেছি।’
এভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প ও ফ্যাশন ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন ইসমিনি। টাঙ্গাইলের তাঁত ও হস্তশিল্প পরিদর্শন এবং ফ্যাশন ডিজাইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইসমিনি মতবিনিময় করেন। টাঙ্গাইলের তাঁতীপাড়ায় নিরক্ষর অথচ মেধাবী ও দক্ষ তাঁত শ্রমিকদের কাছ থেকে ইসমিনি কাপড় তৈরির বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করেন। এক্ষেত্রে দেলদুয়ারের উবীনীগের পার্শ্ববর্তী গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুমাই হয়ে ওঠে তার শিক্ষক। যুক্তরাজ্যের এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সেখানে ছাত্র বনে যান।
ইসমিনি জানান, এভাবে বাংলাদেশের নানা ঐতিহ্যবাহী শিল্প সম্পর্কে আমি ধারণা নিচ্ছি। যুক্তরাজ্যে গিয়ে এসব আমাদের শিল্পে ব্যবহারের উদ্যোগ নেবো। বাংলাদেশের হস্তশিল্প ও ডিজাইন এতো সূক্ষ্ম যে, এর মধ্যে অনেকগুলো ‘বিশ্বব্রান্ড’ হয়ে উঠতে পারে। আমিও যুক্তরাজ্যের নানা কৌশল ও শিল্প সম্পর্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পে কর্মরতদের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি।
রুমাদের উঠানেই ‘বাঁশের রিড’ বানাতে বানাতে ইসমিনি কথা বলছিলেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। এ সময় রুমাদের জনবিশেক প্রতিবেশীও এসে ভিড় জমান। ইসমিনির বক্তব্য বাংলা করে শোনাতেই ক্ষেপে যান রুমার চাচা। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৌশল বিদেশে শেখানোর দরকার নেই। এমনিতেই কোম্পানিরা এখন স্টিল দিয়ে সব বানাচ্ছে। আমাদের হস্তশিল্পের কোনো দাম নেই। যা দাম পাই তা দিয়ে পেট চলে না।’ তার ক্ষুব্ধ চেহারা দেখে ইসমিনি হেসে হেসে বক্তব্যের অর্থ জানতে চাইলেন। বিষয়টি বুঝিয়ে বললে ইসমিনি বলেন, ‘আমি বেশক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। তারা প্রাকটিক্যালি খুবই অদক্ষ। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের হস্তশিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষ ও পেশার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু প্রয়োজনীয় দাম ও সহায়তা না পাওয়ায় হতাশা থেকে অনেকে পেশা ছাড়তে চাইছেন। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি দেয়া দরকার।’
ইসমিনি জানান, তিনি আড়ং, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, কলেজ ফর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ডিজাইন বাংলাদেশ, গারো ফ্যাব্রিক, ডিজাইন স্টুডিও এডুকেশন, হস্তশিল্প কারখানা, টাঙ্গাইল টেক্সটাইল কলেজ, উবীনীগের তাঁতশিল্পসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
এ প্রতিবেদককে ইসমিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে টেকনিক্যাল শিক্ষার প্রতি আরও জোর দেয়া উচিত। তাঁতশিল্পকে ধরে রাখতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য শিল্পে কর্মরতরা জীবিকা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় পেশা ছাড়তে চাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ও উদ্যোক্তাদের আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকল্পের অধীনে তিনি ঢাকা সফর করেন। এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, পাঁচটি দেশ নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে ‘নিউ সিল্ক’ প্রকল্প চলছে—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান ও ইরাক। হস্তশিল্প ও ডিজাইন স্কিল সম্পর্কে আদান-প্রদান এবং কনটেমপোরারি স্টাইলে নিয়ে আসা এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এজন্য ২০০৭ ও ২০০৮ সালে পাট ও বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের ওপর কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশী একজন ডিজাইনারকে যুক্তরাজ্য সফর করিয়ে তাদের শিল্প ও ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়া হয়। এখন যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফ্যাশন ডিজাইনার ইসমিনি স্যামনিডো বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনিও আমাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা সম্পর্কে জানছেন। মাসুদ হোসেন বলেন, এ ধরনের আদান-প্রদানে বিশ্বে আমাদের শিল্পপণ্যও ব্রান্ড হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে লিঙ্ক তৈরি হবে। শিল্প ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত উন্নতটা পরস্পর গ্রহণ করার সুযোগ পাবে। প্রসঙ্গত, ইসমিনি আগামী সপ্তাহে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
-
মহানগর


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া



