Amardesh
আজঃ ঢাকা, মঙ্গলবার ১২ জানুয়ারি ২০১০, ২৯ পৌষ ১৪১৬, ২৫ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নোটস ফ্রম এ প্রিজন বাংলাদেশ : জে. মইনকে লেকচার দিতে আমন্ত্রণ জানায়নি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার ‘নোটস ফ্রম এ প্রিজন বাংলাদেশ’ বইতে লিখেছেন, মিডিয়ায় ঢাকঢোল পিটিয়ে ফলাওভাবে প্রচার করা হলেও সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদকে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ বিষয়ক লেকচার দিতে মোটেও আমন্ত্রণ জানায়নি। সেনাপ্রধান মইন একাধিকবার দাবি করেছেন, ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সেনাবাহিনীর সৃষ্টি নয়। সেনাপ্রধানের এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীর লিখেছেন, ‘সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদই ফখরুদ্দীনের তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটা প্রচার হয়ে যায় যে, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টের আমন্ত্রণে জেনারেল মইন দক্ষিণ এশিয়া বিশেষত বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তৃতা করতে আমেরিকা যাচ্ছেন। বিষয়টি যে স্রেফ আইওয়াশ ছিল, তা দেশবাসী পরে ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। এ সংবাদ শোনার পর কাশিমপুর জেলে মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার সহযাত্রীদের বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। হার্ভার্ড তার ইতিহাসে কখনোই একজন সেনানায়ক অথবা স্বৈরশাসককে লেকচার দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়নি। পরে ঠিকই দেখা গেল, জেনারেল মইন ব্যক্তিগত সফরে আমেরিকা গেছেন। ইউএস সরকার তাকে অভ্যর্থনা জানায়নি, এমনকি পেন্টাগনও তাকে দাওয়াত দেয়নি। হার্ভার্ডও তাকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সফরের কথা বলেনি। বরং তিনি নিউইয়র্কে জোগাড় করা বাংলাদেশী অভিবাসীদের সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন।’ জেনারেল মইন ফ্লোরিডায় সফর শেষে হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুলের অ্যাশ হলে দুজন শিক্ষাবিদ ও আটজন ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও তার উপদেষ্টাদের শোবয় আখ্যা দিয়ে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, ‘২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত ১১ জন শোবয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকারের গায়ে গণতন্ত্রের লেবেল এঁটে দিতে সচেষ্ট ছিলেন।’
সেনাশাসন যে আসন্ন ছিল, তা রাজনৈতিক দলগুলো ভালো করেই টের পেয়েছিল। বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে তারা নির্বাচনে যাবে না। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ধারণার চেয়েও খারাপ হয়ে গেল। সেনাবাহিনী এ ধরনের পরিস্থিতির অপেক্ষায় ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে বেআইনিভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে তারা ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রস্তাব দিল। ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনী বঙ্গভবন দখল করে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ ও ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য করে।’
ড. মুহীউদ্দীন আলমগীর মনে করেন, সম্ভবত দুটো কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। প্রথম কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সভায় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্জনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা দলের কোনো ‘বিশ্বাসঘাতক’ ফখরুদ্দীনের কানে পৌঁছে দিয়েছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি যে সোচ্চার ছিলেন, তাও ফখরুদ্দীনের জানা ছিল। তিনি লিখেছেন, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণার এক সপ্তাহ আগে এক সভায় আমি সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের বিরোধিতা করে বলেছিলাম, সামরিক অথবা স্বৈরশাসন উপহার দেয়ার জন্য আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করিনি বা ওই যুদ্ধে জয়লাভ করিনি।’
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?