Amardesh
আজঃ ঢাকা, মঙ্গলবার ১২ জানুয়ারি ২০১০, ২৯ পৌষ ১৪১৬, ২৫ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ফের ক্রসফায়ার চট্টগ্রামে ডাকাত সর্দার নিহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো/হাটহাজারী প্রতিনিধি
বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামে আবার ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার খলিল (৩৭)। আহত হয়েছে তার সহযোগী বেবিট্যাক্সি চালক আবুল হোসেন (২৭)। রোববার রাত দেড়টার দিকে হাটহাজারী থানার ভবানীপুর এলাকায় খলিল ডাকাত ও তার সহযোগীরা সিএনজি বেবিট্যাক্সিযোগে ডাকাতি করতে গেলে ঘটে এ ঘটনা ।
চট্টগ্রাম জেলা এসপি জেডএ মোর্শেদ এ প্রসঙ্গে গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, কেউ পুলিশের ওপর হামলা করলে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। এটাকে আপনারা ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার, বন্দুকযুদ্ধ যা ইচ্ছে বলতে পারেন।
তিনি জানান, ডাকাতরা প্রথমে পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে বাধ্য হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুই ডাকাত আহত হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে তাদের মধ্যে ডাকাত সর্দার খলিল গতকাল ভোরে মারা যায়। খলিলের বিরুদ্ধে নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ১৫টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। আরও মামলা থাকতে পারে। এসপি আরও জানান, খলিলের কাছ থেকে যে ডাইরিটি উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে ৪০ ডাকাতের নাম রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেল এএসপি বাবুল আকতারের নেতৃত্বে পুলিশের দুটি দল ভবানীপুর ও আশপাশের এলাকায় ওঁত্ পেতে থাকে। রাত দেড়টার দিকে খলিল তার সহযোগীদের নিয়ে সিএনজি বেবিট্যাক্সিযোগে ওই এলাকা অতিক্রমের সময় পুলিশ গতিরোধ করে। কিন্তু ধূর্ত খলিল পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যেতে সক্ষম হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশের দ্বিতীয় দল থামার সঙ্কেত দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে উভয়পক্ষে ৩০ রাউন্ডের মতো গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খলিল ও আবুল ধরা পড়ে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের বহনকারী সিএনজি বেবিট্যাক্সি তল্লাশি করে পাওয়া যায় ২টি বিদেশি বন্দুক, ৪টি এলজি, ৩৩ রাউন্ড গুলি ও গ্রিল কাটার সরঞ্জাম। পরে আহত অবস্থায় পুলিশ দুই ডাকাতকে প্রথমে হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। চমেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ডাকাত সর্দার খলিল মারা যায়। অপর ডাকাত আবুল হোসেন চিকিত্সাধীন। নিহত খলিল রাউজান উপজেলার হাড়পাড়া এলাকার মনসুর মিয়ার ছেলে।
এএসপি বাবুল আকতার জানান, নিহত খলিল নগরী, হাটাহাজারী, রাউজান, বোয়ালখালী, পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ডাকাতি করত। কিছুদিন আগে সে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় একটি ও রাউজানের একটি বাড়িতে ডাকাতি করে। তিনি জানান, এর আগে খলিল নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় ধরা পড়েছিল। কয়েক মাস জেল খেটে বেরিয়ে এসে আবার ডাকাতি শুরু করে। সে ’৯৬ সালের দিকে ডাকাতি শুরু করলেও মাঝখানে কয়েক বছর বিরতি দিয়ে ২০০৫ সাল থেকে আবার নামে এ পেশায়। ওই ক’বছর সে বিদেশে ছিল।
কি আছে ডাইরিতে : পুলিশ নিহত খলিলের কাছ থেকে একটি ডাইরি উদ্ধার করেছে। ওই ডাইরিতে রয়েছে তার সবগুলো মামলার বিবরণ। আরও রয়েছে গ্রেফতার হলে কীভাবে জামিনে ছাড়া পেতে হয়, কোন কোন আদালত কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তার বিবরণ। এতে খলিলের ৪০ সহযোগীর নাম-ঠিকানা রয়েছে। পুলিশ ওইসব নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। এর মধ্যে দু’জনের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলো হাটহাজারীর শাহেদ ও আলী। তারা খলিলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের যে বেঞ্চটি সম্প্রতি ক্রসফায়ারের বিষয়ে সুয়োমোটো দিয়েছিল, সে বেঞ্চটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?