শিশিরে ক্যাচ মিসের যন্ত্রণা : ভারতের সহজ জয়
এম. এম. কায়সার
শিশিরকে তাড়ানোই যাচ্ছে না।
প্রতি ম্যাচেই শিশির-যন্ত্রণা ছড়াচ্ছে। তবে কাল স্পিনারদের চেয়ে মিরপুরে শিশির সবচেয়ে বেশি মনোযন্ত্রণা দিল ফিল্ডার মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ফিল্ডার হিসেবে আশরাফুল বেশ ভালো। কিন্তু কাল সেই ‘ভালো ফিল্ডারের’ হাত গলে পড়ল দুটো ক্যাচ। তাও আবার ঠিক একই জায়গায়, একই রকমের। পার্থক্য একটাই—ক্যাচ দুটো দুই ব্যাটসম্যানের। বোলারও দু’জন। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বিরাট কোহলি অপরাজিত সেঞ্চুরি করলেন। আর ক্যাচ মিসের বরাতে সুরেশ রায়না থাকলেন অপরাজিত ১৮। ভারতের ৬ উইকেটে জেতা এই ম্যাচে কোহলির সেঞ্চুরি কিম্বা সাকিবের সেঞ্চুরি মিসের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে থাকল বাংলাদেশের ক্যাচমিসের ইতিবৃত্ত! জানিয়ে রাখছি, আশরাফুলের ক্যাচ ফেলার দুই বল বাদেই বিরাট কোহলিকে উইকেটকিপার মুশফিক রহিমও স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ মিস করেন।
২৪৭ রানের সঞ্চয় নিয়ে এতগুলো মিস করলে ‘ম্যাচ মিস’ তো হবেই! আইডিয়া কাপের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হারা চার ম্যাচের সবকটিতেই দারুণ একটা মিল আছে। সবম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছে আগে ব্যাট করে। রাতের আলোয় ব্যাট করার সুযোগ একবারও মেলেনি। কাল সেটা চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু টসে জিতলেন ধোনি। এবং যথারীতি দিনের আলোয় বোলিং বেছে নিলেন।
টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচটা সবচেয়ে বাজেভাবে শুরু করে বাংলাদেশ। আর
বাজেভাবে আউটের নজিরটা শুরু করেন ইমরুল কায়েস। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে দেন। তাও আবার বেশি জোরে নয়। যেন পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডার বিরাট কোহলিকে দেখে হঠাত্ তাকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করানোর কথা মনে পড়ে তার! আশরাফুল বাউন্ডারি দিয়ে রানের খাতা খুললেও অতিমাত্রায় ‘অ্যাডভেঞ্চার’ দেখাতে গিয়ে উইকেট খুইয়ে আসেন। শ্রীশান্থকে ইনিংসের শুরুতেই কেন যে তিনি সামনে বেড়ে মারতে গেলেন! বল ব্যাট-প্যাডে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেয়। তামিম ইকবাল ও রকিবুল হাসান শুরু এই ক্ষতি মেরামতের চেষ্টা চালান।
প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৫০ রান তুলে নেয়। কিন্তু তামিমও খুব দ্রুত আগের দু’জনকে অনুসরণ করেন। ১৭ রান করে ত্যাগীর হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। যুবরাজ সিং তার প্রথম ওভারেই দারুণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রকিবুলকে রান আউট করেন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসা ফিরতি বল হাত লাগিয়ে দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে পেছনে গলিয়ে দেন যুবরাজ। বল স্ট্যাম্পে লাগে। ননস্ট্রাইকার রকিবুল হাসান তখন ক্রিজের বাইরে। থার্ড আম্পায়ারের কক্ষের সামনে লালবাতি দেখে মাঠ ছাড়েন রকুিবল (২৮)। মুশফিক রহিম একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে গ্যালারির হাততালি পান। কিন্তু যুবরাজের বলে লোভ সামাল দিতে পারেননি। কাভারে রায়নার হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে মুশফিকও ফেরেন চটজলদি। স্কোরবোর্ডে তখনও বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছায়নি। ২৪ ওভারে ৯৬ রানে হাওয়া ৫ উইকেট। অধিনায়ক সাকিব ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ইনিংসটা নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব নেন এবং দারুণ সুচারুভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেন সাকিব। টুর্নামেন্টের শুরুর দুই ম্যাচে রান না পাওয়ায় সাকিবের সময়টা বাজে যাচ্ছিল। আগের ম্যাচে ৪৭ এবং কাল ৮৫ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার জানিয়ে দিলেন—এখনও ‘শাসক’ তিনিই! ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র দ্বিতীয় বলেই ‘দিলস্কুপ’ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। সেই সঙ্গে নিজের পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সম্ভাবনার দুয়ার থেকে ঘুরে আসেন। ষষ্ঠ উইকেটে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১০৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘরে পৌঁছে দেন।
তবে ভারতের এই দলের ব্যাটিং শক্তির কাছে ২৪৮ রানের টার্গেট যে ভীষণ হালকা-পাতলা! সুযোগ পেলে তা কিভাবে কাজে লাগাতে হয় সেটা কাল করে দেখালেন বিরাট কোহলি। ৮৩ রানে আশরাফুল তার সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন। আশরাফুলের সেই ক্যাচ মিসের আফসোস তখনও কাটেনি। একবল পরেই মুশফিক রহিম স্ট্যাম্পিং মিস করেন। এবারও ব্যাটসম্যানের নাম কোহলি। রান তখন তার ৮৪। এবার বেচারা বোলার সাকিব। সেই কোহলি অপরাজিত ১০২ রান করে ম্যাচ সেরা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় এই সেঞ্চুরির কথা যখনই মনে পড়বে কোহলির, তখনই তিনি আশরাফুলকে একবার ধন্যবাদ দেবেন। আর আশরাফুলের কাছে এই ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে—ক্যাচ মিসের দুর্ভাগ্য নিয়ে।
৪ ম্যাচে ২৭৩ রান করে কোহলি এখন টুর্নামেন্টের সেরা হবার পথে সবার আগে। ফাইনালের লড়াইয়ে কোহলির একমাত্র প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা।
কালকের ফাইনাল নিয়ে তাহলে আজই বাজি লাগিয়ে ফেলুন।
প্রতি ম্যাচেই শিশির-যন্ত্রণা ছড়াচ্ছে। তবে কাল স্পিনারদের চেয়ে মিরপুরে শিশির সবচেয়ে বেশি মনোযন্ত্রণা দিল ফিল্ডার মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ফিল্ডার হিসেবে আশরাফুল বেশ ভালো। কিন্তু কাল সেই ‘ভালো ফিল্ডারের’ হাত গলে পড়ল দুটো ক্যাচ। তাও আবার ঠিক একই জায়গায়, একই রকমের। পার্থক্য একটাই—ক্যাচ দুটো দুই ব্যাটসম্যানের। বোলারও দু’জন। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বিরাট কোহলি অপরাজিত সেঞ্চুরি করলেন। আর ক্যাচ মিসের বরাতে সুরেশ রায়না থাকলেন অপরাজিত ১৮। ভারতের ৬ উইকেটে জেতা এই ম্যাচে কোহলির সেঞ্চুরি কিম্বা সাকিবের সেঞ্চুরি মিসের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে থাকল বাংলাদেশের ক্যাচমিসের ইতিবৃত্ত! জানিয়ে রাখছি, আশরাফুলের ক্যাচ ফেলার দুই বল বাদেই বিরাট কোহলিকে উইকেটকিপার মুশফিক রহিমও স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ মিস করেন।
২৪৭ রানের সঞ্চয় নিয়ে এতগুলো মিস করলে ‘ম্যাচ মিস’ তো হবেই! আইডিয়া কাপের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হারা চার ম্যাচের সবকটিতেই দারুণ একটা মিল আছে। সবম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছে আগে ব্যাট করে। রাতের আলোয় ব্যাট করার সুযোগ একবারও মেলেনি। কাল সেটা চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু টসে জিতলেন ধোনি। এবং যথারীতি দিনের আলোয় বোলিং বেছে নিলেন।
টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচটা সবচেয়ে বাজেভাবে শুরু করে বাংলাদেশ। আর
বাজেভাবে আউটের নজিরটা শুরু করেন ইমরুল কায়েস। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে দেন। তাও আবার বেশি জোরে নয়। যেন পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডার বিরাট কোহলিকে দেখে হঠাত্ তাকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করানোর কথা মনে পড়ে তার! আশরাফুল বাউন্ডারি দিয়ে রানের খাতা খুললেও অতিমাত্রায় ‘অ্যাডভেঞ্চার’ দেখাতে গিয়ে উইকেট খুইয়ে আসেন। শ্রীশান্থকে ইনিংসের শুরুতেই কেন যে তিনি সামনে বেড়ে মারতে গেলেন! বল ব্যাট-প্যাডে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেয়। তামিম ইকবাল ও রকিবুল হাসান শুরু এই ক্ষতি মেরামতের চেষ্টা চালান।
প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৫০ রান তুলে নেয়। কিন্তু তামিমও খুব দ্রুত আগের দু’জনকে অনুসরণ করেন। ১৭ রান করে ত্যাগীর হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। যুবরাজ সিং তার প্রথম ওভারেই দারুণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রকিবুলকে রান আউট করেন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসা ফিরতি বল হাত লাগিয়ে দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে পেছনে গলিয়ে দেন যুবরাজ। বল স্ট্যাম্পে লাগে। ননস্ট্রাইকার রকিবুল হাসান তখন ক্রিজের বাইরে। থার্ড আম্পায়ারের কক্ষের সামনে লালবাতি দেখে মাঠ ছাড়েন রকুিবল (২৮)। মুশফিক রহিম একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে গ্যালারির হাততালি পান। কিন্তু যুবরাজের বলে লোভ সামাল দিতে পারেননি। কাভারে রায়নার হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে মুশফিকও ফেরেন চটজলদি। স্কোরবোর্ডে তখনও বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছায়নি। ২৪ ওভারে ৯৬ রানে হাওয়া ৫ উইকেট। অধিনায়ক সাকিব ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ইনিংসটা নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব নেন এবং দারুণ সুচারুভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেন সাকিব। টুর্নামেন্টের শুরুর দুই ম্যাচে রান না পাওয়ায় সাকিবের সময়টা বাজে যাচ্ছিল। আগের ম্যাচে ৪৭ এবং কাল ৮৫ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার জানিয়ে দিলেন—এখনও ‘শাসক’ তিনিই! ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র দ্বিতীয় বলেই ‘দিলস্কুপ’ করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। সেই সঙ্গে নিজের পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সম্ভাবনার দুয়ার থেকে ঘুরে আসেন। ষষ্ঠ উইকেটে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১০৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘরে পৌঁছে দেন।
তবে ভারতের এই দলের ব্যাটিং শক্তির কাছে ২৪৮ রানের টার্গেট যে ভীষণ হালকা-পাতলা! সুযোগ পেলে তা কিভাবে কাজে লাগাতে হয় সেটা কাল করে দেখালেন বিরাট কোহলি। ৮৩ রানে আশরাফুল তার সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন। আশরাফুলের সেই ক্যাচ মিসের আফসোস তখনও কাটেনি। একবল পরেই মুশফিক রহিম স্ট্যাম্পিং মিস করেন। এবারও ব্যাটসম্যানের নাম কোহলি। রান তখন তার ৮৪। এবার বেচারা বোলার সাকিব। সেই কোহলি অপরাজিত ১০২ রান করে ম্যাচ সেরা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় এই সেঞ্চুরির কথা যখনই মনে পড়বে কোহলির, তখনই তিনি আশরাফুলকে একবার ধন্যবাদ দেবেন। আর আশরাফুলের কাছে এই ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে—ক্যাচ মিসের দুর্ভাগ্য নিয়ে।
৪ ম্যাচে ২৭৩ রান করে কোহলি এখন টুর্নামেন্টের সেরা হবার পথে সবার আগে। ফাইনালের লড়াইয়ে কোহলির একমাত্র প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা।
কালকের ফাইনাল নিয়ে তাহলে আজই বাজি লাগিয়ে ফেলুন।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


