Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ১১ জানুয়ারি ২০১০, ২৮ পৌষ ১৪১৬, ২৪ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বদলে যাচ্ছে লাইব্রেরি

ডেস্ক রিপোর্ট
লাইব্রেরি শব্দটি শুনলেই মনের পর্দায় যে ছবিটি ভেসে ওঠে, সেটা হলো বিশাল এক ঘরে অসংখ্য সেলফ ভর্তি রাশি রাশি মোটা মোটা বই, টেবিল-চেয়ার, ডেস্কে বসা লাইব্রেরিয়ান আর নিঃশব্দ-নীরব পরিবেশে পড়ুয়া কিছু মানুষ। কিন্তু একুশ শতকে এসে পুরনো সে লাইব্রেরির চেহারাটা বুঝি আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। ডিজিটাল এ যুগে আরও নানা জিনিসের মতোই পাল্টে যাচ্ছে লাইব্রেরির চেহারাও। ঢালাওভাবে সব বই-ই এখন ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়ে বিশাল এক ‘ডিজিটাল লাইব্রেরির আকার নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সাধারণত বইপত্র কিনতে অনেক টাকা লাগে, আবার লাইব্রেরি থেকে বই নিলে তা আবার ফেরত দেয়ার ঝামেলাও রয়েছে। এসব বিবেচনা করে অসংখ্য অনলাইন সাইট বইকে ব্যাপক আকারে ডিজিটালে রূপান্তর করে অনলাইন লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছে বহু আগে থেকেই। এরই ফলে সম্প্রতি সার্চ জায়ান্ট গুগল কয়েক মিলিয়ন বই ডিজিটালে রূপান্তর করে বিশাল এক অনলাইন লাইব্রেরি গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সারা পৃথিবীর মানুষ আঙুলের এক ক্লিকের সাহায্যে অনায়াসে বিপুলসংখ্যক বইয়ের রাজ্যে ঢুকতে পারবে, তেমনি এর খরচও হবে অনেক কম। শুনতে বেশ ভালোই লাগে। তবে এর আবার আইনি জটিলতাও আছে। অনেকে দাঁড়িয়ে গেছেন গুগলের এ লাইব্রেরির বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে রয়েছে খোদ মার্কিন সরকারও। অন্যদিকে অসংখ্য লেখক, প্রকাশনা সংস্থা, লাইব্রেরিয়ান এবং ওয়েবসাইট গুগলের এ কার্যক্রমকে সমর্থন করে অনবরত যুদ্ধই চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে গুগল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডিজিটাল অনলাইন লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
কাগুজে বই আর সাবেকী ধারার লাইব্রেরি সমর্থকরা ডিজিটাল লাইব্রেরির সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, কাগজের বই মানুষকে আলাদা এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি দেয়, যা তথাকথিত ভার্চুয়াল বই দিতে পারে না। কাগজের বই পড়ার সময় যে মনোযোগ দেয়া যায় কিংবা আত্মপ্রসাদ পাওয়া যায়, তা অন্য কোনো মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কাগজের বইয়ের কোনো বিকল্প নেই বলেও বিশ্বাস করেন তারা। ওহাইওর কলম্বাস মেট্রোপলিটন লাইব্রেরির ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের ডিরেক্টর হেলেন ব্লয়ারস বলেন, ‘লাইব্রেরি বিল্ডিং শুধু বইয়ের একটি গুদামঘরই নয়, বরং লাইব্রেরি একটা সামাজিক মিলনের জায়গাও বটে।’ মানুষ অনলাইনে গিয়ে যেসব তথ্য খোঁজে, ওসব তথ্য সংবাদপত্রেও পাওয়া যায়। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন মানুষ সংবাদপত্রের বদলে নেট ঘাঁটাঘাঁটি করে। উত্তরটা দিচ্ছেন ফরওয়ার্ড-লুকিং লাইব্রেরিয়ানরা। তাদের মতে, মানুষ এখন নানারকম সামাজিক যোগাযোগের সাইট, যেমন—ফেসবুক, টুইটার, মাইস্পেস ইত্যাদিতে গিয়ে বিশালসংখ্যক ব্যবহারকারীর সঙ্গে নিজের জীবনের নানা বিষয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ভালো লাগার দিক, এছাড়াও আরও নানারকম বিষয় আলোচনা করার মাধ্যমে শেয়ার করতে পারছে। প্রতিদিনকার নিত্যনতুন খবর সম্পর্কে আপ টু ডেট হতে পারছে। এখানে নিজের নানারকম বিষয় বা মতামত জানানোর পাশাপাশি একইসঙ্গে অনেক মানুষের মতামত কিংবা চলতি অনেক বিষয়ের খবরও পাওয়া যায়। অর্থাত্ এখানে যোগাযোগটা হচ্ছে বহুমুখী। এই বহুমুখী আলাপ-আলোচনার সুবিধাকে এখন অনলাইন লাইব্রেরির কাজে লাগাতে চাইছেন ফরওয়ার্ড-লুকিং লাইব্রেরিয়ানরা।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?