Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ১১ জানুয়ারি ২০১০, ২৮ পৌষ ১৪১৬, ২৪ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রক্তকরবী হাফ আখড়াই মঞ্চস্থ

জাকির হোসেন
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নাটক ‘রক্তকরবী’ এবং বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত এবং তার দুই শিষ্য নিধুবাবু ও মোহনচাঁদের দ্বন্দ্বের পটভূমিতে রচিত নাটক ‘হাফ আখড়াই’ মঞ্চায়ন হয়ে গেল গতকাল শিল্পকলা একাডেমিতে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে চলছে ‘মুক্তি ও মানবাধিকার’ শীর্ষক চলচ্চিত্র উত্সব। এ উত্সবে আজ প্রদর্শিত হবে নরওয়ের মারভারি সামারে পরিচালিত ‘রিমেইন’, জরিস ইভান্স পরিচালিত ‘ফোর হান্ড্রেড মিলিয়নস্’, মফিদুল হক পরিচালিত ‘দ্য সাউন্ড অব সাইল্যান্স’ এবং রবার্ট গ্রিনওয়ার্ল্ড পরিচালিত ‘ দ্য হাই কস্ট অব লো প্রাইজ’।
রক্তকরবী : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি ‘রক্তকরীব’ মঞ্চস্থ হয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। এ নাটকটি বিষয়ে খুব একটা বলার প্রয়োজন হয় না এ কারণে যে, নাটকটি বিষয়ে খোদ রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আপনারা হয়তো পালাটার ভিতর থেকে গূঢ় অর্থ খুঁটিয়ে বের করার চেষ্টা করবেন। আমার নিবেদন, যেটা গূঢ় তাকে প্রকাশ্য করলেই তার সার্থকতা চলে যায়। হৃদপিণ্ডটা পাঁজরের আড়ালে থেকেই কাজ করে। তাকে বের করে কার্যপ্রণালী তদারক করতে গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।’ অর্থাত্ এ নাটকটি অনুধাবনের জন্য প্রয়োজন মুক্ত মন, প্রয়োজন তত্ত্বের চেয়ে রসের ওপর অধিক জোর দেয়া। তবেই বোঝা যায় এই নাটকটি কেন প্রাসঙ্গিক এবং কেমন রসসঞ্চারি। যদিও এই নাকটটি কোনো কালের সীমানায় আবদ্ধ নয়। তথাপি বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজের সত্যরূপ এখানে খুব স্পষ্ট। এখানে ফুটে উঠেছে জড় এবং জীবের মাঝের সংঘাত। অনুভূত হয় শক্তির ভার নিজেই নিজের অগোচরে কেমন করে এক সময় পিষে ফেলে। দেখা যায় যক্ষপুরে প্রবল শক্তিধররা মাটির তলা থেকে কেমন করে সোনার সম্পদ ছিন্ন করে আনে। এই নিষ্ঠুর সম্পদ সংগ্রহের তাড়নায় প্রাণ মাধুর্য কেমন করে নির্বাসিত হয়। জটিলতার জালে মানুষ নিজেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলে এবং কীভাবে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। কীভাবে মানুষ একে একে পরিণত হয় একটি সংখ্যায়। মানুষ ভুলে যায় প্রতাপের মধ্যে পূর্ণতা নেই— প্রেমের মধ্যে পূর্ণতা।
নাটকটি পরিবেশন করে ‘প্রাঙ্গণে মোর’ নাট্যদল। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিল্পের সঙ্গে জীবনের পরিণয় ঘটানো কিংবা শিল্প ও জীবনের বাঁকে বাঁকে দেশ, মাটি ও মানুষের সত্য ছবির চলমান জীবন মঞ্চের ওপর প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নূনা আফরোজ নির্দেশিত এবং অনন্ত হীরার পরিচালনায় গতকাল নাটকটিতে নন্দিনী, কিশোর, অধ্যাপক, গোকুল, রাজা, ফাগুলাল, চন্দ্রা, বিশু, সর্দার, গোঁসাই, মোড়ল, পরণবাগীশ এবং পালোয়ান চরিত্রে অভিনয় করেন যথাক্রমে নূনা আফরোজা, আবু হায়াত জসিম, ইকরাম মাহফুজ, জয়নাল আবেদীন মনির, অনন্ত হীরা, আমিরল মামুন, চৈতালী সমদ্দার, রামিজ রাজু, আউয়াল রেজা, শিশির রহমান, সারোয়ার আলম সৈকত, নিজাম জাহান ও সাগর রায়। খোঁদাইকর চরিত্রে অভিনয় করেন শুভেচ্ছা, মনির, মিরাজ, কিশোর, রিগ্যান, সীমান্ত, নীনা, আফছার, সুমী, মোর্শেদ, শিশির নান্যাল ও নাসির রাসেল। অভিনেতাদের সাবলীল পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
হাফ আখড়াই : বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের পঞ্চদশ প্রযোজনা নাটক ‘হাফ আখড়াই’ মঞ্চস্থ হয় গতকাল শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। রতন সিদ্দিকী রচিত এ নাটকটির নির্দেশনা দেন আজাদ আবুল কালাম। ইতিহাসের ক্ষীণসূত্র নিধুবাবু ও মোহনচাঁদের দ্বন্দ্বকে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে এ নাটক। এতে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাসের চরিত্র রামনিধি গুপ্ত, তার প্রেমিকা বারাঙ্গনা শ্রীমতি, শিষ্য মোহনচাঁদ বসু এবং সংগ্রামী গঙ্গানারায়ণকে। এছাড়াও নাটকে রয়েছে অনৈতিহাসিক চরিত্র শ্যামাদাস, হরিশচন্দ্র, বলরাম, চন্দ্রলেখা, কুন্দ, শৈব, নিকুঞ্জ, সার্জন, কেষ্ট, তারা প্রমুখ।
বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত ১৮০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আখড়াই দল। কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই দলে তার নিজস্ব গায়কী রীতি তিনি প্রচলন করেন। ধীরে ধীরে তার গায়কী রীতি এবং সৃজিত গীতাবলি ওই সময় যথেষ্ট সমাদৃত হয়। নিধুবাবু তার সময়ে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় শিল্পী। তিনি বিশ্বাস করতেন রসসৃষ্টি ব্যতীত সঙ্গীতের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই এবং সঙ্গীত চর্চা সবার কাজ নয়। সঙ্গীতের স্রষ্টা বিশেষজনেরা এবং ভক্ত কেবল ধনী ও গুণীরা। বার্ধক্যজনিত কারণে ১৮৩২ সালে তিনি আখড়াই দলের অধ্যক্ষ পদ পরিত্যাগ করেন এবং তার প্রিয় সুযোগ্য শিষ্য মোহনচাঁদ বসুকে অধ্যক্ষ নিয়োগ করেন। গুরুভক্ত ও দৃঢ়চেতা মোহনচাঁদ বসু অধ্যক্ষ পদ লাভের পর নিজস্ব মত ও রীতি প্রচলন করেন। মোহনচাঁদ বিশ্বাস করতেন মানুষের জন্য সঙ্গীত। তিনি বৈষ্ণব পদাবলী, মঙ্গলকাব্য, নাথগীতিকা প্রভৃতি নাট্যগুণসমৃদ্ধ বাংলা কাব্যকে উপস্থাপন করেন নিজস্ব রীতিতে। তার পরিবেশনায় এসব কাব্য নাট্যক্রিয়া হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। রামনিধি গুপ্ত পরিবেশন রীতির এই পরিবর্তন গ্রহণ করতে পারেননি বলে দলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। মোহনচাঁদ বসু দল থেকে চলে গিয়ে গঠন করেন ‘হাফ আখড়াই’ দল। দল গঠনের মাত্র এক বছরের মধ্যে তারা কলকাতায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে এদের সঙ্গে ছদ্মবেশে যুক্ত হয় ইংরেজ বিরোধীরা। হঠাত্ করে দেখা যায় কে বা কারা এক রাতে মোহনচাঁদের হাফ আখড়াই দলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেন দলের অধিকাংশ সদস্য। তারপর নিঃসঙ্গ মোহনচাঁদ বসু আবার নতুন করে দল গঠনের চেষ্টা করেন।
নাটকটিতে অভিনয় করেন আমিনুল ইসলাম তপন, মারুফ রহমান, শহীদুল আলম দীপু, জিয়াউর রহমান লিটু, অমিত রঞ্জন দে, নাজমুল হক বাবু, আলমগীর হোসেন, রতন দেব, আনোয়ারুল হক, ফাহমিদা হক কলি, রিফাত, আইনুল ইসলাম অপু, শামীমা আক্তার মুক্তা, শারমিন আক্তার রিনি, আশরাফুন্নাহার মালা, হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং মাসুম।
চলচ্চিত্র উত্সব : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে চলছে ‘মুক্তি ও মানবাধিকার’ বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব। ‘সুন্দর আগামীর জন্য প্রামাণ্যচিত্র’- স্লোগান ধারণ করে গত ৭ জানুয়ারি থেকে এখানে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী এ উত্সব। গতকাল প্রদর্শিত হয় নেদারল্যান্ডের জরিস ইভান্স পরিচালিত ‘প্যারালাল’, সাদিকা মোজাদেদ্দী পরিচালিত ‘মাদারল্যান্ড আফগানিস্তান’, মারুফ হাসান পরিচালিত ‘মুক্তির সৈনিক’, মানজারে হাসীন মুরাদ পরিচালিত ‘হেনা দাস : হার অডিসি’ এবং কেন লোয়াচ পরিচালিত ‘সেপ্টেম্বর-১১’ ছবিগুলো। উত্সবে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের ২৮ প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ উত্সব। প্রতিদিন দুপুর ৩টা, বিকাল ৫টা এবং সন্ধ্যা ৭টায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রকাশনা : প্রবন্ধকার পূরবী বসু রচিত ‘নারী, সৃষ্টি ও বিজ্ঞান’ বইয়ের প্রকাশনা উত্সব হয়েছে গতকাল। জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে প্রকাশনা উত্সবে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন অধ্যাপক হায়াত্ মাহমুদ। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ, নারী বিষয়ক গবেষক ড. গীতি আরা নাসরিন প্রমুখ। অনুভূতি প্রকাশ করেন বইটির রচয়িতা পূরবী বসু। সভাপতিত্ব করে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
বইটিতে বিজ্ঞান, সমাজ, মানব-মানবীর সম্পর্ক, মনুষ্যশরীরে জৈবিক গঠন, হৃদয়ের আবেগে পশ্চাতে দেহাভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক ইত্যাদি বিষয়ে ২২টি প্রবন্ধ রয়েছে। পূরবী দাসের লেখায় নারীর অধিকার, নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়-দায়িত্বের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। নারী উন্নয়ন বিষয়টিও এড়িয়ে যাননি লেখক। বইটি বের হয়েছে নবযুগ প্রকাশনী থেকে। দাম রাখা হয়েছে ২৪০ টাকা।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?