Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ১১ জানুয়ারি ২০১০, ২৮ পৌষ ১৪১৬, ২৪ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জরুরি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিশিষ্টজনের সংবর্ধনা : ১/১১’র কুশীলবদের বিচার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার
দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীরা এক-এগারোর হোতাদের বিচার দাবি করেছেন। গতকাল এক-এগারো প্রেক্ষাপটে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসী ভূমিকার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা বলেন, এক-এগারোর কুশীলবদের বিচার করা না হলে বারবার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসবে। বর্তমান সরকারের এক বছর পার হলেও এক-এগারোর নায়কদের বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ না নেয়ার কড়া সমালোচনা করেন বক্তারা।
জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে চিরন্তন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সচিব আনহ আকতার হোসেন, উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান ও চিরন্তন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হামদুল্লাহ আল মেহেদী।
অনুষ্ঠানে এক-এগারো প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ১১ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধিত ব্যক্তিত্বরা হলেন সাহসী রাজনীতিবিদ হিসেবে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সাহসী লেখক হিসেবে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও আমানুল্লাহ কবীর, সাহসী আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও অ্যাডভোকেট মোঃ সানাউল্লাহ মিয়া, সাহসী যুবসংগঠক হিসেবে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ ও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এক-এগারো ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ১৫ বছর অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। সে ঐতিহ্য বিনষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংসের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এক-এগারো সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি যাদের সহ্য হচ্ছিল না তারাই ষড়যন্ত্র করে এক-এগারো এনেছিল। বাংলাদেশকে দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে রেখে নিজেদের স্বার্থরক্ষা করতে চেয়েছিল একটি মহল।
তিনি বলেন, দুর্নীতির কথা বলে রাজনীতিকদের নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। মইনুদ্দীন, ফখরুদ্দীন, মাসুদউদ্দীন, জেনারেল বারি, আমিন—এরা রাজনীতিকদের ওপর কত না নির্যাতন চালিয়েছিল। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা যেত না। তার পরও জাতির অনেক সাহসী সন্তান রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সে সময় যারা সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের জাতি কখনও ভুলবে না। তিনি বলেন, এক-এগারোর কুশীলবদের বিচার করতে হবে। এদের বিচারের বাইরে রাখা হলে আবারও এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
এক-এগারোর নায়কদের অবৈধ কার্যকলাপকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ এনে মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে এক বছর হয়ে গেল, অথচ এখনও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। তিনি বলেন, এক-এগারোর নায়কদের বিচার না করলে আমরা মনে করব ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের পিঠের চামড়া রক্ষার জন্য বর্তমান সরকারকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছে।
এক-এগারোর সরকার এবং বর্তমান সরকারের আচরণে কোনো তফাত নেই উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো আমাদের বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছে। বিএনপি নেতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনও ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সরকার আবারও চালু করেছে। তিনি বলেন, এক-এগারোর পরবর্তী সময়ের মতো আমাদের নেত্রীর বাসায় নেতাদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি আমাদের নেত্রীর পার্সোনাল স্টাফদের পর্যন্ত বাধা দেয়া হচ্ছে।
বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, নির্বাচিত সরকার অনির্বাচিত সরকারের চেয়ে অনেক ভালো। নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কথা বলা হয়, অনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সেটি সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, এক-এগারোর পর অনেককে বলতে শুনেছি, যত দোষ আছে সব রাজনীতিকদের। ভালো সব কাজ করেছেন অরাজনীতিকরা। এখন হয়তো সেটি আর বলেন না। তাই আমাদের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও বেশি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বিশ্বাসকে গণতন্ত্রের খুঁটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বাস তৈরি করা না গেলে গণতন্ত্র সুসংহত হবে না।
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এক-এগারোর লক্ষ্য ছিল রাজনীতিকে পর্যুদস্ত করা। এ ষড়যন্ত্র এক দিনে তৈরি হয়নি। কিন্তু রাজনীতিকরা সেটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, দুই বৃহত্ পরাশক্তির মাঝখানে বাংলাদেশ। তাই আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে। তিনি বলেন, মাইনাস টু’র কথা আমরা ২০০৩ সাল থেকে শুনেছি। বাংলাদেশে ইউএসএ’র রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাস তো প্রায়ই বলতেন, দু’দলে সমঝোতা না হলে তৃতীয় পক্ষ আসবে।
শওকত মাহমুদ বলেন, এক-এগারো বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তিনি বলেন, একটি মহল সেসময় এক-এগারোকে সমর্থন জুগিয়েছিল। অথচ এখন তারা বলে বেড়াচ্ছেন, বিএনপির কারণে নাকি এক-এগারোর সৃষ্টি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন শপথ নেয় ওই অনুষ্ঠানে তখন এক নেত্রীকে বেশ হাস্যোজ্জ্বলভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখেছি। শুধু তাই-ই নয়, মইন উ আহমেদ আমেরিকায় সেসময় যে সেমিনারে গিয়েছিলেন, সে সেমিনারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও বক্তব্য দিয়েছিলেন। এছাড়াও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের লোকেরা বহুবার বলেছেন, এ সরকার (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আমাদের আন্দোলনের ফসল। এর পরও কি বোঝার অসুবিধা থাকে—কারা এক-এগারো এনেছিল?
আনহ আকতার হোসেন বলেন, কারাবন্দি থাকাকালে মাহমুদুর রহমানের লেখা পড়ে আমরা উজ্জীবিত হয়েছি।
উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান বলেন, এক-এগারোর ভয়াল মূর্তি এখনও শেষ হয়নি। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম এখনও চলছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?