‘নোটস ফ্রম এ প্রিজন বাংলাদেশ’: আ’লীগকে শপথ অনুষ্ঠান বর্জনের পরামর্শ দিয়েছিলাম
জিয়াউদ্দিন সাইমুম
রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনৈক্যের সুযোগের অপেক্ষায় ছিল জেনারেল মইনচক্র। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তারা এ প্রার্থিত সুযোগটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। কিন্তু এ চক্র মূলত দেশটাকে আরও দুর্নীতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংসের চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। সেনাসমর্থিত জরুরি সরকারের আমলে ১৭ মাস ১১ দিন জেলে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সাবেক টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও আমলা মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার ‘নোটস ফ্রম এ প্রিজন বাংলাদেশ’ বইয়ে এ মন্তব্য করেছেন। তিনি এটাও লিখেছেন, ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্জনের জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন নিজের দল আওয়ামী লীগকে।চার শতাধিক পৃষ্ঠার এ বইয়ে তিনি বন্দিজীবনের নানা কাহিনী তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও তার স্ত্রীর শুল্ক ফাঁকির একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। ম খা আলমগীর তার বইয়ে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের উত্থানকে নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি মইনচক্রের অসাংবিধানিক তত্পরতার সমালোচনা করলেও এটাকে রাজনৈতিক দলগুলোর পরাজয় আখ্যা দিয়ে বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক হার বাইরে থেকে আসে না, এ পরাজয় আসে দলের ভেতর থেকে।
ফখরুদ্দীন আহমদের সেনাসমর্থিত সরকারকে জেনারেল মইন বেসামরিক সরকার দাবি করলেও মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ দাবিকে নাকচ করে দিয়ে লিখেছেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের শেষ নাগাদ সময়টুকু নিরেট সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত শাসন হলেও এটাকে অতিউত্সাহী কিছু শোবয় বেসামরিক লেবাস পরাতে চান। তার বিবেচনায় যে জেনারেল মইন একজন ‘শোবয়’ ছাড়া আর কিছু নন, তা তিনি বলতে দ্বিধা করেননি।
তিনি লিখেছেন, প্রচারণাযন্ত্রের কল্যাণে এ সময়ে রাজনীতিক নেতাদের গ্রেফতার মূলত ‘জনগণের অর্থ আত্মসাতের’ ইমেজ পেয়েছে বাছবিচারহীনভাবে। তার মতে, সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারকে শর্তহীন সমর্থন না জানালে কল্পিত অভিযোগের ফিরিস্তি কবুল করতে হয়েছে রাজনৈতিক নেতাকে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ সময়টাতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকারও অবৈধ শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে। তার বিবেচনায়, কেউ অনুসন্ধানী মন নিয়ে গবেষণা চালালে তিনি এ সময়টার পরতে পরতে এমন কিছু জ্বলন্ত প্রমাণ পেয়ে যাবেন, যার মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে যাবে, এটা ছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, ‘সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদালতে একজন অভিযুক্ত রাজনীতিবিদের জামিন নামঞ্জুর করা ছিল বাধ্যতামূলক। অথচ এই জরুরি সরকারের আমলেই দেশের ২৮৬ নাগরিক বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ক্রসফায়ারেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৭ জন। তার ভাষায়, ‘ক্রসফায়ার হচ্ছে বিচার ছাড়া ঠাণ্ডা মাথায় হত্যারই একটি সুগারকোটেড ভার্সন।’
বইয়ে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর লিখেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জরুরি অবস্থা ঘোষণাই ছিল অসাংবিধানিক। কারণ এ জরুরি সরকারের আমলে অজানা অপরাধে যে কাউকে যে কোনো সময় গ্রেফতারের অধিকার পেয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
অবসর সময়ে কারাগারে আলোচনাকালে অন্য একজন রাজনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন, ‘জেলে থাকলেও কোনো কোনো রাজনীতিবিদ তখনই বুঝতে পেরেছেন, মাত্র দুই বছরে সেনানায়করা বুঝে যাবেন, রাজনীতিবিদদের সহায়তা ছাড়া ক্ষমতা নামক পাগলা ঘোড়ার পিঠে চড়ার ঝক্কি অনেক। এ ঘোড়ার পিঠ থেকে নামতে হলেও রাজনীতিবিদদের সহায়তা লাগবে।’
জরুরি শাসনামলে দেশের বিচারব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়েছিল মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কর ফাঁকির অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই ক্যাঙ্গারু কোর্ট আমাকে শাস্তি দিয়েছে। আমার এ শাস্তিকে বৈধ ধরা হলেও আমাদের সংবিধানেই রয়েছে, একই অপরাধের জন্য একজনকে দুবার শাস্তি দেয়া যাবে না।’
জেনারেল মইন গংদের শোবয় আখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন, স্বাধীনতা মানে ছদ্ম দেশপ্রেমিক ও শোবয়দের টেনে নামিয়ে আনা। স্বাধীনতা তো এটার নিশ্চয়তা দেয় যে, রাষ্ট্রের প্রহরীরা নিজেদের মাতৃভূমিকে দখল করবে না, নিজেদের দেশের হর্তাকর্তা ভাববে না। স্বাধীনতা হচ্ছে সেনাবাহিনীর বুটের লাথি ও তাদের বেসামরিক সেবাদাসদের কবল থেকে বাঁচতে ব্যক্তির রক্ষাকবচ।
তিনি তার বইয়ে ফখরুদ্দীন আহমদ ও তার স্ত্রী নীনার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য কেনার সরেস কাহিনী বর্ণনা করেছেন। একাত্তরের যুদ্ধের আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে থাকাকালে ফখরুদ্দীন আহমদ ও তার স্ত্রী নীনা উপজাতীয় এলাকা ল্যান্ডিকোটাল থেকে বিনাশুল্কে চীনা সিল্ক ও টেপরেকর্ডার কিনেছিলেন, তার কাহিনী এটি। শুধু তাই নয়, ভার্সিটির ছাত্র থাকাকালে ফখরুদ্দীন আহমদ যে কুখ্যাত এনএসএফের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, তাও দাবি করা হয়েছে বইটিতে।
ক্ষমতার প্রতি যে জেনারেল মইনের বিশাল মোহ ছিল, তা তিনি বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন, জেনারেল মইন তো শুরুতেই কয়েকটি ব্যাপারে শোরগোল তোলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি। জেনারেল মইন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনেরও প্রস্তাব দেন। সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড দেখভালের সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকবে এ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের।
ফখরুদ্দীন আহমদের সেনাসমর্থিত সরকারকে জেনারেল মইন বেসামরিক সরকার দাবি করলেও মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ দাবিকে নাকচ করে দিয়ে লিখেছেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের শেষ নাগাদ সময়টুকু নিরেট সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত শাসন হলেও এটাকে অতিউত্সাহী কিছু শোবয় বেসামরিক লেবাস পরাতে চান। তার বিবেচনায় যে জেনারেল মইন একজন ‘শোবয়’ ছাড়া আর কিছু নন, তা তিনি বলতে দ্বিধা করেননি।
তিনি লিখেছেন, প্রচারণাযন্ত্রের কল্যাণে এ সময়ে রাজনীতিক নেতাদের গ্রেফতার মূলত ‘জনগণের অর্থ আত্মসাতের’ ইমেজ পেয়েছে বাছবিচারহীনভাবে। তার মতে, সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারকে শর্তহীন সমর্থন না জানালে কল্পিত অভিযোগের ফিরিস্তি কবুল করতে হয়েছে রাজনৈতিক নেতাকে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ সময়টাতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকারও অবৈধ শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে। তার বিবেচনায়, কেউ অনুসন্ধানী মন নিয়ে গবেষণা চালালে তিনি এ সময়টার পরতে পরতে এমন কিছু জ্বলন্ত প্রমাণ পেয়ে যাবেন, যার মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে যাবে, এটা ছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, ‘সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদালতে একজন অভিযুক্ত রাজনীতিবিদের জামিন নামঞ্জুর করা ছিল বাধ্যতামূলক। অথচ এই জরুরি সরকারের আমলেই দেশের ২৮৬ নাগরিক বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ক্রসফায়ারেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৭ জন। তার ভাষায়, ‘ক্রসফায়ার হচ্ছে বিচার ছাড়া ঠাণ্ডা মাথায় হত্যারই একটি সুগারকোটেড ভার্সন।’
বইয়ে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর লিখেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জরুরি অবস্থা ঘোষণাই ছিল অসাংবিধানিক। কারণ এ জরুরি সরকারের আমলে অজানা অপরাধে যে কাউকে যে কোনো সময় গ্রেফতারের অধিকার পেয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
অবসর সময়ে কারাগারে আলোচনাকালে অন্য একজন রাজনীতিবিদ মন্তব্য করেছেন, ‘জেলে থাকলেও কোনো কোনো রাজনীতিবিদ তখনই বুঝতে পেরেছেন, মাত্র দুই বছরে সেনানায়করা বুঝে যাবেন, রাজনীতিবিদদের সহায়তা ছাড়া ক্ষমতা নামক পাগলা ঘোড়ার পিঠে চড়ার ঝক্কি অনেক। এ ঘোড়ার পিঠ থেকে নামতে হলেও রাজনীতিবিদদের সহায়তা লাগবে।’
জরুরি শাসনামলে দেশের বিচারব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়েছিল মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কর ফাঁকির অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই ক্যাঙ্গারু কোর্ট আমাকে শাস্তি দিয়েছে। আমার এ শাস্তিকে বৈধ ধরা হলেও আমাদের সংবিধানেই রয়েছে, একই অপরাধের জন্য একজনকে দুবার শাস্তি দেয়া যাবে না।’
জেনারেল মইন গংদের শোবয় আখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন, স্বাধীনতা মানে ছদ্ম দেশপ্রেমিক ও শোবয়দের টেনে নামিয়ে আনা। স্বাধীনতা তো এটার নিশ্চয়তা দেয় যে, রাষ্ট্রের প্রহরীরা নিজেদের মাতৃভূমিকে দখল করবে না, নিজেদের দেশের হর্তাকর্তা ভাববে না। স্বাধীনতা হচ্ছে সেনাবাহিনীর বুটের লাথি ও তাদের বেসামরিক সেবাদাসদের কবল থেকে বাঁচতে ব্যক্তির রক্ষাকবচ।
তিনি তার বইয়ে ফখরুদ্দীন আহমদ ও তার স্ত্রী নীনার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য কেনার সরেস কাহিনী বর্ণনা করেছেন। একাত্তরের যুদ্ধের আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে থাকাকালে ফখরুদ্দীন আহমদ ও তার স্ত্রী নীনা উপজাতীয় এলাকা ল্যান্ডিকোটাল থেকে বিনাশুল্কে চীনা সিল্ক ও টেপরেকর্ডার কিনেছিলেন, তার কাহিনী এটি। শুধু তাই নয়, ভার্সিটির ছাত্র থাকাকালে ফখরুদ্দীন আহমদ যে কুখ্যাত এনএসএফের সক্রিয় কর্মী ছিলেন, তাও দাবি করা হয়েছে বইটিতে।
ক্ষমতার প্রতি যে জেনারেল মইনের বিশাল মোহ ছিল, তা তিনি বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন, জেনারেল মইন তো শুরুতেই কয়েকটি ব্যাপারে শোরগোল তোলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি। জেনারেল মইন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনেরও প্রস্তাব দেন। সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড দেখভালের সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকবে এ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


