বেঞ্চ গঠনে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে : প্রতিবাদী আইনজীবীদের বললেন প্রধান বিচারপতি
স্টাফ রিপোর্টার
সুপ্রিমকোর্টের দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভঙ্গ করে সিনিয়র বিচারপতিদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুনানির এখতিয়ার ও বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তুলনামূলক জুনিয়র বিচারপতিদের সেই ক্ষমতা ও এখতিয়ার দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। হঠাত্ করে গত বৃহস্পতিবার রাতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বেঞ্চ পুনর্গঠন ও বিচারিক এখতিয়ার বণ্টন করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের প্রথা ও রেওয়াজ অনুযায়ী রিট মোশন, ফৌজদারি মোশন ও রিভিশন মামলার মোশন শুনানির এখতিয়ার এবং বিচারিক ক্ষমতা সিনিয়র বিচারপতিদের দেয়া হয়ে থাকে।
গতকাল সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠতম আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খানের নেতৃত্বে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমাদ, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসহ একদল আইনজীবী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে রেওয়াজ ভঙ্গ করে বেঞ্চ পুনর্গঠনের প্রতিবাদ জানান।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে বের হয়ে টিএইচ খান সাংবাদিকদের বলেন, রেওয়াজ ভঙ্গ করে সিনিয়র বিচারপতিদের ক্ষমতা ও এখতিয়ার কেড়ে নিয়ে জুনিয়রদের দেয়া হয়েছে। এতে সিনিয়র বিচারপতিদের রীতিমত ইনসাল্ট করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে সেই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি তাদের সঙ্গে কিছুটা একমত পোষণ করেছেন এবং তাদের কাছে বলেছেন কিছুটা ভুল হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি চাপের মুখে এটা করেছেন কিনা এর কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছে এমন কোনো ভুল হয়নি যা সংশোধন করা যাবে না। ভুল সংশোধনের সুযোগ আছে।
সিনিয়র আইনজীবী ড. এম জহির বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে বেঞ্চ পুনর্গঠনের নামে যা ঘটেছে সেটা সুপ্রিমকোর্টের ওপর সুনামি হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ গঠন নিয়ে এরকম সুনামি অতীতে হয়নি। এদিকে বেঞ্চ পুনর্গঠন করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি রইছ উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়। এই বেঞ্চের ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরির আবেদনপত্র, ফৌজদারি মঞ্জুরিকৃত আপিল এবং তত্সংক্রান্ত রুল ও রিভিশন শুনানির এখতিয়ার এবং বিচারিক ক্ষমতা ছিল। এই বেঞ্চ ভেঙে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ানি মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।
বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও বিচারপতি ইমদাদুল হক আযাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়েছে। এএফএম আবদুর রহমানকে দেয়া হয়েছে সিঙ্গেল বেঞ্চ। আগে তার বেঞ্চের এখতিয়ার ছিল ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরিকৃত আপিল ও তত্সংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র। এই বেঞ্চ গত নভেম্বরে ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের প্রতি স্যুয়োমোটো রুল জারি করেন এবং রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রসফায়ার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া কমিশনার আরিফকে রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনার আরিফকে পুলিশ হেফাজত থেকে জেলগেটে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়ার পর সেই নির্দেশ কার্যকর না করায় এই আদালত সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। এখন বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমানের একক বেঞ্চে আদিম বিভাগীয় বিষয় এবং ইচ্ছাপত্র ও ইচ্ছাপত্র ব্যতিরেকে মৃত ব্যক্তির বিষয়বস্তু অধিক্ষেত্র ১৮৬৯ইং সালের ৪নং আইন অনুযায়ী আবেদনপত্র, বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, প্রাইজকোর্ট বিষয়ে অ্যাডমিরেলটি অধিক্ষেত্রাধীন মোকদ্দমা। এছাড়া মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩-এর অধীনে আবেদনপত্র এবং সহকারী জজ ব্যতীত অন্য বিচারকের ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ৪ লাখ টাকা মানের ডিক্রির বিষয়ে দেওয়ানি রিভিশন মোকদ্দমা।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মামনুন রহমান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চে আগে রিট মোশন ও ফৌজদারি মোশন শুনানির এখতিয়ার এবং বিচারিক ক্ষমতা ছিল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ সমন্বয়ে গঠিত নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রথম আপিল, প্রথম বিভিন্ন আপিল এবং দেওয়ানি বিষয়ক আইনের অধীনে আপিল শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। মামনুন রহমানকে দেয়া হয়েছে সিঙ্গেল বেঞ্চ।
অনুরূপভাবে অন্য কয়েকটি রিট মোশন শুনানির এখতিয়ারও পরিবর্তন করে তুলনামূলক জুনিয়রদের দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে স্থায়ী নিয়োগ না পেয়ে বাদপড়া এবং যারা বর্তমান সরকারের সময় স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে আবার বিচারকের আসনে বসেছেন তাদের বেঞ্চে সিনিয়র বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ, বিচারপতি মারযি উল হক, বিচারপতি মোঃ শামসুল হুদা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ পান।
গতকাল সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠতম আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খানের নেতৃত্বে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমাদ, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসহ একদল আইনজীবী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে রেওয়াজ ভঙ্গ করে বেঞ্চ পুনর্গঠনের প্রতিবাদ জানান।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে বের হয়ে টিএইচ খান সাংবাদিকদের বলেন, রেওয়াজ ভঙ্গ করে সিনিয়র বিচারপতিদের ক্ষমতা ও এখতিয়ার কেড়ে নিয়ে জুনিয়রদের দেয়া হয়েছে। এতে সিনিয়র বিচারপতিদের রীতিমত ইনসাল্ট করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে সেই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি তাদের সঙ্গে কিছুটা একমত পোষণ করেছেন এবং তাদের কাছে বলেছেন কিছুটা ভুল হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি চাপের মুখে এটা করেছেন কিনা এর কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছে এমন কোনো ভুল হয়নি যা সংশোধন করা যাবে না। ভুল সংশোধনের সুযোগ আছে।
সিনিয়র আইনজীবী ড. এম জহির বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাতে বেঞ্চ পুনর্গঠনের নামে যা ঘটেছে সেটা সুপ্রিমকোর্টের ওপর সুনামি হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ গঠন নিয়ে এরকম সুনামি অতীতে হয়নি। এদিকে বেঞ্চ পুনর্গঠন করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি রইছ উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়। এই বেঞ্চের ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরির আবেদনপত্র, ফৌজদারি মঞ্জুরিকৃত আপিল এবং তত্সংক্রান্ত রুল ও রিভিশন শুনানির এখতিয়ার এবং বিচারিক ক্ষমতা ছিল। এই বেঞ্চ ভেঙে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ানি মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।
বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান ও বিচারপতি ইমদাদুল হক আযাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়েছে। এএফএম আবদুর রহমানকে দেয়া হয়েছে সিঙ্গেল বেঞ্চ। আগে তার বেঞ্চের এখতিয়ার ছিল ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরিকৃত আপিল ও তত্সংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র। এই বেঞ্চ গত নভেম্বরে ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের প্রতি স্যুয়োমোটো রুল জারি করেন এবং রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রসফায়ার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া কমিশনার আরিফকে রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনার আরিফকে পুলিশ হেফাজত থেকে জেলগেটে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়ার পর সেই নির্দেশ কার্যকর না করায় এই আদালত সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। এখন বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমানের একক বেঞ্চে আদিম বিভাগীয় বিষয় এবং ইচ্ছাপত্র ও ইচ্ছাপত্র ব্যতিরেকে মৃত ব্যক্তির বিষয়বস্তু অধিক্ষেত্র ১৮৬৯ইং সালের ৪নং আইন অনুযায়ী আবেদনপত্র, বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন, প্রাইজকোর্ট বিষয়ে অ্যাডমিরেলটি অধিক্ষেত্রাধীন মোকদ্দমা। এছাড়া মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩-এর অধীনে আবেদনপত্র এবং সহকারী জজ ব্যতীত অন্য বিচারকের ডিক্রি ও আদেশের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ৪ লাখ টাকা মানের ডিক্রির বিষয়ে দেওয়ানি রিভিশন মোকদ্দমা।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মামনুন রহমান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চে আগে রিট মোশন ও ফৌজদারি মোশন শুনানির এখতিয়ার এবং বিচারিক ক্ষমতা ছিল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ সমন্বয়ে গঠিত নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রথম আপিল, প্রথম বিভিন্ন আপিল এবং দেওয়ানি বিষয়ক আইনের অধীনে আপিল শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। মামনুন রহমানকে দেয়া হয়েছে সিঙ্গেল বেঞ্চ।
অনুরূপভাবে অন্য কয়েকটি রিট মোশন শুনানির এখতিয়ারও পরিবর্তন করে তুলনামূলক জুনিয়রদের দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে স্থায়ী নিয়োগ না পেয়ে বাদপড়া এবং যারা বর্তমান সরকারের সময় স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে আবার বিচারকের আসনে বসেছেন তাদের বেঞ্চে সিনিয়র বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ, বিচারপতি মারযি উল হক, বিচারপতি মোঃ শামসুল হুদা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ পান।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


