নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা : আজ বাংলাদেশ-ভারত আনুষ্ঠানিক বৈঠক
বশীর আহমেদ, দিল্লি থেকে
গত রাতে চারদিনের সফরে ভারত পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৮টায় নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পালাম বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে। বিমান ঘাঁটিতে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রীনিত কাউর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। ফুলেল উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোর পর বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীর সুসজ্জিত গাড়িবহর মৌর্য শেরাটন হোটেলের উদ্দেশে রওনা হয়। সফরকালে শেখ হাসিনা এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। তার সঙ্গে রয়েছে ১১৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। সফরসঙ্গীদের উল্লেখযোগ্যরা হলেন—প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা সিদ্দিক, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, ড. গওহর রিজভী ও অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। আজ দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুল প্রত্যাশিত আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে দু’দেশের পতাকা ও দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
দিল্লি পৌঁছানোর আগে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পৌঁছানোর ঠিক আগে দেয়া এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও বলেছেন, ভারত তার নিজের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি এতে আশা প্রকাশ করেন, শেখ হাসিনার এ সফর নতুন পথের সূচনা করবে এবং উভয় দেশকে নতুন ও ভবিষ্যত্মুখী এক সম্পর্ক গড়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে অপরাধ দমন বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি এবং বিদ্যুত্ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিরুপমা রাও তার বিবৃতিতে মোট ৫টি চুক্তির কথা বলেছেন। ভারতের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দেয়ার জন্য একটি আলাদা চুক্তির প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ভারত ওই চুক্তিটি করার ব্যাপারে চাপ দিতে পারে। এছাড়া তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ, নেপাল, চীনকে নিয়ে একটি ফোরাম গঠনের কথা ঘোষণা হতে পারে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে জাতিসংঘের সালিশি আদালতে বাংলাদেশের নালিশ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ভারত অসন্তুষ্ট বলেও জানা গেছে।
হাসিনা-মনমোহন ঐতিহাসিক বৈঠক : বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে শেখ হাসিনা-মনমোহনের মধ্যকার বৈঠকের দিকে। কী সুবার্তা ঘোষণা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের জন্য—তারই অপেক্ষায় সবাই। যে ঘোষণা ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ভারতের জনগণও রয়েছে একই প্রত্যাশায়। পানিবণ্টন, সমুদ্রসীমা, টিপাইমুখ বাঁধ, সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোসহ দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন ড. সিং। সে অপেক্ষায়ই সবাই। দু’দেশের মধ্যে সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা নিয়ে তিন চুক্তি ছাড়াও এ ঐতিহাসিক সফরে সই হবে আরও তিনটি চুক্তি।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ঘোষণায় ৫শ’ মিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় ঋণ সহায়তা চুক্তি, সন্ত্রাসবাদ দমনে তিন চুক্তি, বিদ্যুত্ সহযোগিতা ও বিনিময় চুক্তি এবং বাণিজ্য বৈষম্য বিলোপে দুই দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে চুক্তি থাকছে। এর বাইরে বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির ঘোষণাও আসবে শীর্ষ বৈঠক থেকে। বিদ্যুত্ চুক্তি নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হবে, তার মধ্যে বিদ্যুত্ বিনিময়, সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগের উল্লেখ থাকবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্যাকেজ সমাধানের প্রলম্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে। শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করে একটি গাইডলাইন তৈরি নিয়ে তারা কথা বলবেন। এছাড়া ত্রিপুরার পালাতানায় বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ভারি যন্ত্রপাতি পরিবহনে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়ক পথ ব্যবহার নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি স্থায়ী ভিত্তিতে চাইবে ভারত। তবে বাংলাদেশের তরফে এ নিয়ে অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইনের আধুনিকায়নে ভারতের মঞ্জুরি সহায়তা দেয়ার আগ্রহের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।
সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে তিন চুক্তি স্বাক্ষরে দু’দেশ সম্মতি জানিয়েছিল। এগুলো হলো, সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তি, অপরাধ দমনে আইনি সহায়তা বিনিময় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সংঘটিত অপরাধ ও অবৈধ মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ চুক্তি। এর বাইরে দেশের চাহিদা মেটাতে বিদ্যুত্ আমদানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সইয়ের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়ে আছে। এর আওতায় ভারতের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মেকানিজমের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি দুই সেক্টর থেকেই ২৫০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ আমদানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। অপর চুক্তিটি হলো, দু’দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর মধ্যে অভিন্ন মান নীতিমালার চুক্তি। এতে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যমান অশুল্ক ও আধাশুল্ক বাধা থেকে মুক্তি পাবে।
নিরাপত্তা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মৌর্য শেরাটন হোটেলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেলের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল গতকাল রাতে। শেখ হাসিনার সফরের সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন কমান্ডো, আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে বাংলাদেশ থেকে এসএসএফের একটি অগ্রবর্তী দল সপ্তাহের শুরু থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছে। দিল্লির কূটনৈতিক এলাকা চাণক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় ভারতের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। হাইকমিশনের নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানোর পাশাপাশি লোকজনের চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উল্টোদিকে অবস্থিত সংস্কৃত স্কুল। ওই সড়কে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় স্কুল চলার সময় ভিড় জমে। তাই চলাচলের সময় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে লস্কর-ই-তৈয়্যবার হুমকির পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাতে ভারত সন্তুষ্ট।
আজকের কর্মসূচি : আজ সকালে প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেয়া হবে। এরপর শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখান থেকে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেলে দেখা করতে আসবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণ। দুপুরে হোটেল থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনে যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন তিনি। সেখান থেকে হোটেলে ফিরলে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসবেন। এরপরে সাক্ষাত্ করবেন বিরোধী দলের নেতা সুষমা স্বরাজ। বিকাল ৪টায় ভারতীয় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন শেখ হাসিনা। সোনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর শেখ হাসিনা হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে কয়েকটি চুক্তি সই হবে। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।
সন্ত্রাস দমনে তিন চুক্তি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সইয়ের জন্য দু’দেশের মধ্যে ডিসেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দশম বৈঠকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তিসহ তিন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের আগ্রহ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে এ সফরে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা নিজ নিজ দেশে সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন। এর আওতায় ফৌজদারি অপরাধের কারণে দণ্ডিত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিজ দেশে সাজা ভোগ করতে চাইলে তা ভোগ করার সুযোগ পাবেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নাগরিক নিজ দেশে ফেরার জন্য নিজে বা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের কাছে বন্দি হিসেবে হস্তান্তর হতে আবেদন করতে পারবেন। এ বন্দি হস্তান্তরের শর্ত হলো, আবেদনকারী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে এ সুযোগ পাবেন না। তাছাড়া বিচারও চূড়ান্ত হতে হবে। তবে যে অপরাধে ওই নাগরিক দণ্ডিত, তা উভয় দেশে দণ্ডযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হতে হবে। একই ধরনের চুক্তি তৃতীয় দেশের সঙ্গে থাকলে ভারত ও বাংলাদেশ ট্রানজিট সুবিধা দেবে বলে খসড়া চুক্তিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া অপর দুটো চুক্তি অপরাধ দমনে আইনি সহায়তা বিনিময় চুক্তি সার্কের অধীনে এরই মধ্যে সই করা একটি চুক্তি। এটি দু’দেশের মধ্যে কার্যকর করতে দ্বিপক্ষীয় সই হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অবৈধ মাদক পাচার রোধে চুক্তিও সার্কের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা একটি প্রটোকলের দ্বিপক্ষীয় বাস্তবায়ন। তবে যৌথভাবে সন্ত্রাস দমনের কথা বলা হয়েছে এ চুক্তিতে। কোনো সন্ত্রাসী চক্র ও তাদের সহযোগীরা দু’দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে এবং রাষ্ট্রীয় সীমানা ব্যবহার করলে দু’দেশ সাধারণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে পারবে।
বিদ্যুত্ আমদানি চুক্তি : দেশের চাহিদা মেটাতে বিদ্যুত্ আমদানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হবে আজ। এ চুক্তি এর আগে অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন ও বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় ঘুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন এবং অনুমোদন করা হয়। বিদ্যুত্ সচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত ১২-১৮ জুলাই ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করতে ভারত সফর করে। শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে বিদ্যুত্ আমদানি সংক্রান্ত চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে ত্রিপুরার উদ্বৃত্ত বিদ্যুত্ অথবা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদ্যুত্ সংগ্রহ করা হবে। কারণ বাংলাদেশকে গ্রিড সংযোগ দেয়া হবে পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমে।
তিস্তা চুক্তি : প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে তিস্তা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা কমে এলেও এ বৈঠকে এ নিয়ে দ্রুত চুক্তি সইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকায় ভারত এ নিয়ে দ্রুত চুক্তি করার ঘোষণা দিতে পারে। এ ছাড়াও ইছামতি নদীর ড্রেজিং ও ভাঙনরোধ, ফেনী নদীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জন্যে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প ও ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্প স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।
তিন স্থানে সীমান্ত হাট : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিনটি স্থানে পরীক্ষামূলক সীমান্ত হাট বা বর্ডার হাট স্থাপন নিয়ে হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। মেঘালয় রাজ্য সরকারের প্রস্তাব অনুসারে ভারত ওই রাজ্যের খাসিয়া ও গারোসহ তিন সম্প্রদায়ের পণ্য কেনাবেচার জন্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এবং কুড়িগ্রামের রাজিপুর নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০০৫ সালে ভারত এ সীমান্ত হাট স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। দু’দেশ এ প্রস্তাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরীক্ষামূলকভাবে মেঘালয় সংলগ্ন তিনটি এলাকায় এ ধরনের হাট স্থাপন নিয়ে আলোচনা শুরু করে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি দল গত মাসে গোয়াইনঘাট, তাহিরপুর ও রাজিপুর পরিদর্শন করে।
দিল্লি পৌঁছানোর আগে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পৌঁছানোর ঠিক আগে দেয়া এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও বলেছেন, ভারত তার নিজের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি এতে আশা প্রকাশ করেন, শেখ হাসিনার এ সফর নতুন পথের সূচনা করবে এবং উভয় দেশকে নতুন ও ভবিষ্যত্মুখী এক সম্পর্ক গড়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে অপরাধ দমন বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি এবং বিদ্যুত্ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিরুপমা রাও তার বিবৃতিতে মোট ৫টি চুক্তির কথা বলেছেন। ভারতের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দেয়ার জন্য একটি আলাদা চুক্তির প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ভারত ওই চুক্তিটি করার ব্যাপারে চাপ দিতে পারে। এছাড়া তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ, নেপাল, চীনকে নিয়ে একটি ফোরাম গঠনের কথা ঘোষণা হতে পারে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ নিয়ে জাতিসংঘের সালিশি আদালতে বাংলাদেশের নালিশ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ভারত অসন্তুষ্ট বলেও জানা গেছে।
হাসিনা-মনমোহন ঐতিহাসিক বৈঠক : বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে শেখ হাসিনা-মনমোহনের মধ্যকার বৈঠকের দিকে। কী সুবার্তা ঘোষণা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের জন্য—তারই অপেক্ষায় সবাই। যে ঘোষণা ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ভারতের জনগণও রয়েছে একই প্রত্যাশায়। পানিবণ্টন, সমুদ্রসীমা, টিপাইমুখ বাঁধ, সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোসহ দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন ড. সিং। সে অপেক্ষায়ই সবাই। দু’দেশের মধ্যে সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা নিয়ে তিন চুক্তি ছাড়াও এ ঐতিহাসিক সফরে সই হবে আরও তিনটি চুক্তি।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ঘোষণায় ৫শ’ মিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় ঋণ সহায়তা চুক্তি, সন্ত্রাসবাদ দমনে তিন চুক্তি, বিদ্যুত্ সহযোগিতা ও বিনিময় চুক্তি এবং বাণিজ্য বৈষম্য বিলোপে দুই দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে চুক্তি থাকছে। এর বাইরে বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির ঘোষণাও আসবে শীর্ষ বৈঠক থেকে। বিদ্যুত্ চুক্তি নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হবে, তার মধ্যে বিদ্যুত্ বিনিময়, সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগের উল্লেখ থাকবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্যাকেজ সমাধানের প্রলম্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে। শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করে একটি গাইডলাইন তৈরি নিয়ে তারা কথা বলবেন। এছাড়া ত্রিপুরার পালাতানায় বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ভারি যন্ত্রপাতি পরিবহনে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়ক পথ ব্যবহার নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি স্থায়ী ভিত্তিতে চাইবে ভারত। তবে বাংলাদেশের তরফে এ নিয়ে অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইনের আধুনিকায়নে ভারতের মঞ্জুরি সহায়তা দেয়ার আগ্রহের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।
সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে তিন চুক্তি স্বাক্ষরে দু’দেশ সম্মতি জানিয়েছিল। এগুলো হলো, সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তি, অপরাধ দমনে আইনি সহায়তা বিনিময় চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সংঘটিত অপরাধ ও অবৈধ মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ চুক্তি। এর বাইরে দেশের চাহিদা মেটাতে বিদ্যুত্ আমদানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সইয়ের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়ে আছে। এর আওতায় ভারতের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মেকানিজমের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি দুই সেক্টর থেকেই ২৫০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ আমদানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। অপর চুক্তিটি হলো, দু’দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর মধ্যে অভিন্ন মান নীতিমালার চুক্তি। এতে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যমান অশুল্ক ও আধাশুল্ক বাধা থেকে মুক্তি পাবে।
নিরাপত্তা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মৌর্য শেরাটন হোটেলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হোটেলের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল গতকাল রাতে। শেখ হাসিনার সফরের সময় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন কমান্ডো, আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে বাংলাদেশ থেকে এসএসএফের একটি অগ্রবর্তী দল সপ্তাহের শুরু থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছে। দিল্লির কূটনৈতিক এলাকা চাণক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় ভারতের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। হাইকমিশনের নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানোর পাশাপাশি লোকজনের চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উল্টোদিকে অবস্থিত সংস্কৃত স্কুল। ওই সড়কে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় স্কুল চলার সময় ভিড় জমে। তাই চলাচলের সময় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে লস্কর-ই-তৈয়্যবার হুমকির পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাতে ভারত সন্তুষ্ট।
আজকের কর্মসূচি : আজ সকালে প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেয়া হবে। এরপর শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সেখান থেকে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হোটেলে দেখা করতে আসবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণ। দুপুরে হোটেল থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনে যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন তিনি। সেখান থেকে হোটেলে ফিরলে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসবেন। এরপরে সাক্ষাত্ করবেন বিরোধী দলের নেতা সুষমা স্বরাজ। বিকাল ৪টায় ভারতীয় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন শেখ হাসিনা। সোনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর শেখ হাসিনা হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে কয়েকটি চুক্তি সই হবে। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।
সন্ত্রাস দমনে তিন চুক্তি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সইয়ের জন্য দু’দেশের মধ্যে ডিসেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দশম বৈঠকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তিসহ তিন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের আগ্রহ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে এ সফরে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা নিজ নিজ দেশে সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন। এর আওতায় ফৌজদারি অপরাধের কারণে দণ্ডিত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিজ দেশে সাজা ভোগ করতে চাইলে তা ভোগ করার সুযোগ পাবেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নাগরিক নিজ দেশে ফেরার জন্য নিজে বা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের কাছে বন্দি হিসেবে হস্তান্তর হতে আবেদন করতে পারবেন। এ বন্দি হস্তান্তরের শর্ত হলো, আবেদনকারী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে এ সুযোগ পাবেন না। তাছাড়া বিচারও চূড়ান্ত হতে হবে। তবে যে অপরাধে ওই নাগরিক দণ্ডিত, তা উভয় দেশে দণ্ডযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হতে হবে। একই ধরনের চুক্তি তৃতীয় দেশের সঙ্গে থাকলে ভারত ও বাংলাদেশ ট্রানজিট সুবিধা দেবে বলে খসড়া চুক্তিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া অপর দুটো চুক্তি অপরাধ দমনে আইনি সহায়তা বিনিময় চুক্তি সার্কের অধীনে এরই মধ্যে সই করা একটি চুক্তি। এটি দু’দেশের মধ্যে কার্যকর করতে দ্বিপক্ষীয় সই হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অবৈধ মাদক পাচার রোধে চুক্তিও সার্কের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা একটি প্রটোকলের দ্বিপক্ষীয় বাস্তবায়ন। তবে যৌথভাবে সন্ত্রাস দমনের কথা বলা হয়েছে এ চুক্তিতে। কোনো সন্ত্রাসী চক্র ও তাদের সহযোগীরা দু’দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে এবং রাষ্ট্রীয় সীমানা ব্যবহার করলে দু’দেশ সাধারণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে পারবে।
বিদ্যুত্ আমদানি চুক্তি : দেশের চাহিদা মেটাতে বিদ্যুত্ আমদানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হবে আজ। এ চুক্তি এর আগে অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন ও বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় ঘুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন এবং অনুমোদন করা হয়। বিদ্যুত্ সচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত ১২-১৮ জুলাই ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করতে ভারত সফর করে। শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে বিদ্যুত্ আমদানি সংক্রান্ত চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে ত্রিপুরার উদ্বৃত্ত বিদ্যুত্ অথবা পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদ্যুত্ সংগ্রহ করা হবে। কারণ বাংলাদেশকে গ্রিড সংযোগ দেয়া হবে পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমে।
তিস্তা চুক্তি : প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে তিস্তা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা কমে এলেও এ বৈঠকে এ নিয়ে দ্রুত চুক্তি সইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকায় ভারত এ নিয়ে দ্রুত চুক্তি করার ঘোষণা দিতে পারে। এ ছাড়াও ইছামতি নদীর ড্রেজিং ও ভাঙনরোধ, ফেনী নদীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জন্যে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প ও ক্ষুদ্র সেচপ্রকল্প স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।
তিন স্থানে সীমান্ত হাট : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিনটি স্থানে পরীক্ষামূলক সীমান্ত হাট বা বর্ডার হাট স্থাপন নিয়ে হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। মেঘালয় রাজ্য সরকারের প্রস্তাব অনুসারে ভারত ওই রাজ্যের খাসিয়া ও গারোসহ তিন সম্প্রদায়ের পণ্য কেনাবেচার জন্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এবং কুড়িগ্রামের রাজিপুর নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০০৫ সালে ভারত এ সীমান্ত হাট স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। দু’দেশ এ প্রস্তাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরীক্ষামূলকভাবে মেঘালয় সংলগ্ন তিনটি এলাকায় এ ধরনের হাট স্থাপন নিয়ে আলোচনা শুরু করে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি দল গত মাসে গোয়াইনঘাট, তাহিরপুর ও রাজিপুর পরিদর্শন করে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


