শ্রীলঙ্কা—ভারত ফাইনাল ১৩ জানুয়ারি : রাতে ব্যাটিংয়ের দলই জিতছে
এম. এম. কায়সার
কি বলবেন একে?
—উল্টো পরিকল্পনা!
শ্রীলঙ্কার ফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। আর ফাইনালে খেলতে হলে কালকের ম্যাচে জেতাটা ভারতের জন্য ছিল আবশ্যিক।
তাহলে হিসাব কি দাঁড়াল?
শ্রীলঙ্কার চেয়ে নিশ্চিতভাবেই ভারতের জন্য এই ম্যাচটা ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতেরই বেশি সিরিয়াস হওয়ার কথা। শ্রীলঙ্কার থাকার কথা আয়েশে। কিন্তু ম্যাচের আগে দুই দলের সেরা একাদশ যে জানাচ্ছিল পুরো উল্টো চিত্র! ভারত সেরা একাদশের তিন তারকা—শেবাগ, হরভাজন ও আশীষ নেহরাকে বিশ্রাম দেয়। আর শ্রীলঙ্কা এই ম্যাচেই ফিরিয়ে আনে ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা ওপেনার তিলকারত্নে দিলশানকে। এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে যিনি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। টস করতে নামার সময় অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা জানিয়েও দেন, ‘শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য শক্তিশালী দলই এটা।’
সেই দল নিয়েই শ্রীলঙ্কা হেরে গেল ৮ উইকেটে। সেই শক্তিশালী দল নিয়েই শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গেল মাত্র ২১৩ রানে। টুর্নামেন্টের পেছনের চার ম্যাচে সবচেয়ে কম স্কোর এটি। এই প্রথম টুর্নামেন্টের কোনো দল অলআউট হলো। ১৭.২ ওভার হাতে রেখে ভারতের এই জয়টাই জানাচ্ছে—মোটেও জমেনি এই ম্যাচ। পুরোপুরি একতরফা একটি ম্যাচের সাক্ষী হলো কাল মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট। শ্রীলঙ্কার এই হারের সঙ্গে ১৩ জানুয়ারির ফাইনালের লাইনআপও ঠিক হয়ে গেল কালই। ১৩ জানুয়ারি মিরপুরের এই মাঠে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হচ্ছে ভারত। আর আজ লীগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ-ভারতের লড়াইটা হয়ে পড়ল স্রেফ নিয়ম রক্ষার ম্যাচ।
টুর্নামেন্টের তিন অধিনায়কের মধ্যে সাঙ্গাকারাই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ‘টস প্রাকটিস’ করছেন। টস জয়ে তার পারফরমেন্সই সেই প্রমাণটা দিচ্ছে! চার ম্যাচে চারবারই টসে জিতেছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। তাও আবার কোথায়? যে মাঠে টস জয়টাই নাকি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়! কিন্তু কাল টস জিতলেও ম্যাচ জেতা হয়নি সাঙ্গাকারার। মিরপুরে রাতের শিশিরের অত্যাচার থেকে বাঁচতে টসজয়ী অধিনায়করা সাধারণত দিনেই বোলিং বেছে নেন। কিন্তু ফাইনালে যদি টসে হেরে রাতে বোলিং করতে হয় তখন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে—আগাম সেই অভিজ্ঞতা পেতেই কাল টসে জিতেও রাতে বোলিং করেন সাঙ্গাকারা।
৮ উইকেটে ম্যাচ হারলেও অন্তত সেই অভিজ্ঞতা তো হলো শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের। এই ম্যাচ থেকে সম্ভবত এটাই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অর্জন।
সেঞ্চুরি করার পরের ম্যাচেই শূন্য রানের অভিজ্ঞতা ক্যারিয়ারে আরেকবার দেখলেন শ্রীলঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা। কাল ম্যাচের চতুর্থ বলেই বিদায় নিলেন। দিলশান ও সাঙ্গাকারা মিলে সেই ক্ষতি ভালোই সামাল দেন। ৩৩ রানে দিলশানকে ফিরিয়ে দিয়ে জহির খান আরেকটি ধাক্কা দেন শ্রীলঙ্কার ইনিংসে। শুরুতে দুই ওপেনারকে হারালেও মাত্র ৪৪ বলে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে উঠে আসে ৫০ রান। এই ৫০-এর মধ্যে আছে আবার ১২টি বাউন্ডারি। শুরুর ৪৮ রানই বাউন্ডারিতে! দুর্দান্ত সব স্ট্রোক প্লে! আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান মাহেলা জয়াবর্ধনেও কাল চটজলদি ফিরে যান। ৬০ রানে তিন উইকেট থেকে হঠাত্ শ্রীলঙ্কার ইনিংস ধসে যায়। বিধ্বস্ত ইনিংসটা রূপ নেয় ৮৪ রানে ৬ উইকেট! টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি করে সাঙ্গাকারা শ্রীলঙ্কার ইনিংসে অনেক দূর টানেন। ৬৮ রানে তিনি ফিরে আসার পর হাল ধরেন স্বরাজ রণদীপ। নিজের আগের সাতটি ওয়ানডেতে মাত্র ৯ রান করা এই স্পিনার কাল খেললেন ৫৬ রানের প্রশংসীয় ইনিংস। কিন্তু তবুও শ্রীলঙ্কা ২১৩ রানে গিয়ে থেমে যায়। জহির খান ও অমিত মিশ্র দুজনেই তিনটি করে উইকেট পান। ফাইনালের সেরা একাদশে হরভজনের চেয়ে অমিত মিশ্রর জায়গাটাকেই বেশি পোক্ত দেখাচ্ছে।
মামুলি টার্গেটের পথে ছুটতে নামা ভারত উড়ন্ত সূচনা পায় দুই ওপেনার দিনেশ কার্তিক ও গৌতম গম্ভীরের ব্যাটে। ৪৮ রানে ফিরে যান কার্তিক। দুবার সহজ ক্যাচ মাটিতে পড়ার কল্যাণে গম্ভীর হাফসেঞ্চুরি পান। বিরাট কোহলিও অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জেতালেন এবং ওয়ানডাউনে নিজেকে স্থায়ী করার দাবিটাও জানান দিলেন।
প্রতিবার রাতে ব্যাটিং করা দলই জিতছে এখানে। কালও সেই নিয়মটাই টিকে রইল আরেকবার!
—উল্টো পরিকল্পনা!
শ্রীলঙ্কার ফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। আর ফাইনালে খেলতে হলে কালকের ম্যাচে জেতাটা ভারতের জন্য ছিল আবশ্যিক।
তাহলে হিসাব কি দাঁড়াল?
শ্রীলঙ্কার চেয়ে নিশ্চিতভাবেই ভারতের জন্য এই ম্যাচটা ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতেরই বেশি সিরিয়াস হওয়ার কথা। শ্রীলঙ্কার থাকার কথা আয়েশে। কিন্তু ম্যাচের আগে দুই দলের সেরা একাদশ যে জানাচ্ছিল পুরো উল্টো চিত্র! ভারত সেরা একাদশের তিন তারকা—শেবাগ, হরভাজন ও আশীষ নেহরাকে বিশ্রাম দেয়। আর শ্রীলঙ্কা এই ম্যাচেই ফিরিয়ে আনে ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা ওপেনার তিলকারত্নে দিলশানকে। এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে যিনি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। টস করতে নামার সময় অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা জানিয়েও দেন, ‘শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য শক্তিশালী দলই এটা।’
সেই দল নিয়েই শ্রীলঙ্কা হেরে গেল ৮ উইকেটে। সেই শক্তিশালী দল নিয়েই শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গেল মাত্র ২১৩ রানে। টুর্নামেন্টের পেছনের চার ম্যাচে সবচেয়ে কম স্কোর এটি। এই প্রথম টুর্নামেন্টের কোনো দল অলআউট হলো। ১৭.২ ওভার হাতে রেখে ভারতের এই জয়টাই জানাচ্ছে—মোটেও জমেনি এই ম্যাচ। পুরোপুরি একতরফা একটি ম্যাচের সাক্ষী হলো কাল মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট। শ্রীলঙ্কার এই হারের সঙ্গে ১৩ জানুয়ারির ফাইনালের লাইনআপও ঠিক হয়ে গেল কালই। ১৩ জানুয়ারি মিরপুরের এই মাঠে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হচ্ছে ভারত। আর আজ লীগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ-ভারতের লড়াইটা হয়ে পড়ল স্রেফ নিয়ম রক্ষার ম্যাচ।
টুর্নামেন্টের তিন অধিনায়কের মধ্যে সাঙ্গাকারাই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ‘টস প্রাকটিস’ করছেন। টস জয়ে তার পারফরমেন্সই সেই প্রমাণটা দিচ্ছে! চার ম্যাচে চারবারই টসে জিতেছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক। তাও আবার কোথায়? যে মাঠে টস জয়টাই নাকি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়! কিন্তু কাল টস জিতলেও ম্যাচ জেতা হয়নি সাঙ্গাকারার। মিরপুরে রাতের শিশিরের অত্যাচার থেকে বাঁচতে টসজয়ী অধিনায়করা সাধারণত দিনেই বোলিং বেছে নেন। কিন্তু ফাইনালে যদি টসে হেরে রাতে বোলিং করতে হয় তখন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে—আগাম সেই অভিজ্ঞতা পেতেই কাল টসে জিতেও রাতে বোলিং করেন সাঙ্গাকারা।
৮ উইকেটে ম্যাচ হারলেও অন্তত সেই অভিজ্ঞতা তো হলো শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের। এই ম্যাচ থেকে সম্ভবত এটাই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অর্জন।
সেঞ্চুরি করার পরের ম্যাচেই শূন্য রানের অভিজ্ঞতা ক্যারিয়ারে আরেকবার দেখলেন শ্রীলঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা। কাল ম্যাচের চতুর্থ বলেই বিদায় নিলেন। দিলশান ও সাঙ্গাকারা মিলে সেই ক্ষতি ভালোই সামাল দেন। ৩৩ রানে দিলশানকে ফিরিয়ে দিয়ে জহির খান আরেকটি ধাক্কা দেন শ্রীলঙ্কার ইনিংসে। শুরুতে দুই ওপেনারকে হারালেও মাত্র ৪৪ বলে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে উঠে আসে ৫০ রান। এই ৫০-এর মধ্যে আছে আবার ১২টি বাউন্ডারি। শুরুর ৪৮ রানই বাউন্ডারিতে! দুর্দান্ত সব স্ট্রোক প্লে! আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান মাহেলা জয়াবর্ধনেও কাল চটজলদি ফিরে যান। ৬০ রানে তিন উইকেট থেকে হঠাত্ শ্রীলঙ্কার ইনিংস ধসে যায়। বিধ্বস্ত ইনিংসটা রূপ নেয় ৮৪ রানে ৬ উইকেট! টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি করে সাঙ্গাকারা শ্রীলঙ্কার ইনিংসে অনেক দূর টানেন। ৬৮ রানে তিনি ফিরে আসার পর হাল ধরেন স্বরাজ রণদীপ। নিজের আগের সাতটি ওয়ানডেতে মাত্র ৯ রান করা এই স্পিনার কাল খেললেন ৫৬ রানের প্রশংসীয় ইনিংস। কিন্তু তবুও শ্রীলঙ্কা ২১৩ রানে গিয়ে থেমে যায়। জহির খান ও অমিত মিশ্র দুজনেই তিনটি করে উইকেট পান। ফাইনালের সেরা একাদশে হরভজনের চেয়ে অমিত মিশ্রর জায়গাটাকেই বেশি পোক্ত দেখাচ্ছে।
মামুলি টার্গেটের পথে ছুটতে নামা ভারত উড়ন্ত সূচনা পায় দুই ওপেনার দিনেশ কার্তিক ও গৌতম গম্ভীরের ব্যাটে। ৪৮ রানে ফিরে যান কার্তিক। দুবার সহজ ক্যাচ মাটিতে পড়ার কল্যাণে গম্ভীর হাফসেঞ্চুরি পান। বিরাট কোহলিও অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জেতালেন এবং ওয়ানডাউনে নিজেকে স্থায়ী করার দাবিটাও জানান দিলেন।
প্রতিবার রাতে ব্যাটিং করা দলই জিতছে এখানে। কালও সেই নিয়মটাই টিকে রইল আরেকবার!
-
খেলাধুলা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


