Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ১১ জানুয়ারি ২০১০, ২৮ পৌষ ১৪১৬, ২৪ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণে মিলেছিল প্রাণ

রেজাউল হক কৌশিক
৫ জানুয়ারি, মঙ্গলবার। শীতের বিকেল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। আমি কয়েকজন বন্ধু নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। মিনারের বেদি যেন শূন্য প্রান্তর। কেউ নেই। এদিক-সেদিক আড্ডা দিচ্ছে কিছু শিক্ষার্থী।
এখানেই কিছুক্ষণের মধ্যে সমবেত হবে আমার দেশ পাঠকমেলার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য ও বন্ধুরা। রিপোর্টার হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় পাঠকমেলার সমন্বয়ক। শুরুতে উপস্থিতি নিয়ে আমার চিন্তার শেষ ছিল না।
আমার দেশ কার্যালয় থেকে পাঠকমেলার কেন্দ্রীয় দফতরের অতিথিরা আসবেন। উপস্থিতি সন্তোষজনক না হলে লজ্জায় না পড়ে উপায় থাকবে না। তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হওয়ায় আমার প্রতি পাঠকমেলার আস্থাও অনেক বেশি। আমার অনুষ্ঠানে লোক কম হলে ব্যাপারটা মন্দই হবে। এসব ভেবে ভেবে মনটা চঞ্চল হয়ে উঠল।
কিন্তু চটজলদি সে আশঙ্কা কেটে গেল। এ কী দেখছি! পাঠকমেলার সদস্য, বন্ধু ও উত্সুক শিক্ষার্থীরা এমনভাবে দলে দলে সমবেত হতে শুরু করল, অবাক কাণ্ড! শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ভরে গেল। যেন বিশাল জনসভা!
এ জনসভার খবর জানানোর আগে বলে নেয়া দরকার, জাবিতে আমার দেশ পাঠকমেলার আগের কমিটির বেশির ভাগেরই ছাত্রজীবন শেষ হয়েছে। চাকরি ও বিয়ে মিলিয়ে তারা রীতিমত সংসার পেতে বসেছেন। অন্যরা ব্যস্ত নানা কাজে। যার সহজ অর্থ পাঠকমেলার নতুন বন্ধুরা নিরুদ্দেশ স্তব্দতায় নীরব হয়ে গিয়েছিলেন।
তাদের চাপাচাপিতে গত ২৮ ডিসেম্বর ও ৪ জানুয়ারি পাঠকমেলার সাপ্তাহিক পাতায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হলো, পাঠকমেলার কমিটি গঠন করা হবে। বেশ সাড়া পেলাম। পাঠক বন্ধুদের ফোনে বারবার বেজে উঠল আমার সেল ফোনটি। উত্সাহ বেড়ে যাওয়ায় মুখে মুখে কমিটি গঠনের জন্য সবাইকে মঙ্গলবার শহীদ মিনারে আসতে বললাম। সময় গড়িয়ে অনুষ্ঠানের দিন চলে এল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতি ঘেরা জাদু বাস্তবতার এক অনন্য ক্যাম্পাস। এখানকার মানুষের মনও প্রকৃতির মতো বিশাল ও উদার। তাই পাঠকমেলার অনুষ্ঠান জমজমাট হবে এ আশা কখনোই আমাকে ছেড়ে যায়নি।
জনসভায় পরিণত অনুষ্ঠানে যথাসময়ে পাঠকমেলার সহকারী পরিচালক আরিফ মুহাম্মদ চলে আসায় আমাদের চোখে-মুখে লেপ্টে থাকা খুশি আরও বিস্তৃত হলো। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত হলেন জাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিমুল আহসান হিমেল, যুগ্ম সম্পাদক পলাশ মাহমুদ, সদস্য জাকির হোসেন, ইমন রহমান ও মাহফুজুর রহমান ।
কিন্তু এলেন না পরিচালক খোমেনী ইহ্সান। শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে বেচারা জ্বরে শয্যাশায়ী।
যাইহোক অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রাণ খুলে কথা বলতে শুরু করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বেশির ভাগই নবাগত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ওরা যেন কথা বলছে না। মুখে খৈ ফুটছে।
তাদের সাফ কথা, দেশ ও দশের কল্যাণে তরুণরা একযোগে কাজ করবে। যেভাবে তরুণরা একটি স্বাধীন মাতৃভূমির জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কাজ করেছিল, ঠিক সেই চেতনায়, সেই প্রেরণায় আজকের তরুণদের জাগতে হবে। তাদের ক্ষুব্ধ কণ্ঠে প্রকাশ পেল—স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরও দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না। সব সময় ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক ও ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চালায়। সরকারের এ ফ্যাসিবাদী ও একনায়কতান্ত্রিক নিপীড়ন আর চলতে পারে না। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অসামান্য সাহসের পরিচয় দিয়ে সরকারি নিপীড়ন রুখে দিতে হবে। সমাজের সর্বত্র ইনসাফ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
একই সঙ্গে তারা হলুদ সাংবাদিকতা ও অসত্য-মিথ্যাচারের সাংবাদিকতা বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা একটি জাতির কাজকর্মে ইতিহাস তুলে ধরেন, এ জন্য তাদের সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। জাতি ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করতে হবে।
বন্ধুদের কথা শেষে আমাকে সমন্বয়ক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের নাজমুস সাকিব অনুকে আহ্বায়ক ও গণিত বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের মোঃ জাকারিয়া পলাশকে সদস্য সচিব মনোনীত করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পাঠকমেলার ২২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।
আমরা অনুষ্ঠানের উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ জন ধরে নিয়ে নাস্তার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু উপস্থিতি আমাদের কল্পনার বাইরে হওয়ায় কিছুটা বিপদেই পড়েছিলাম। ত্বরিত ব্যবস্থায় আরও ১৫০ জনের নাস্তা জোগাড় করা হলো। কিন্তু তাতেও সবার হাতে নাস্তা পৌঁছানো যায়নি। কিন্তু নিজের খাবারের একটি অংশ পাশের বন্ধুর মুখে তুলে দেয়ার কৌশল নিয়ে বেশ সামাল দিয়েছি। তাতে অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত ও হৃদ্যতায় ভরে গিয়েছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে আমরা যেভাবে মঙ্গলবারের বিকালকে যাপন করেছি, তাতে আমার দাবি ওই বিকেলে আমাদের সবার প্রাণ মিলেছি অপরের প্রাণের সঙ্গে। এ অপরেরা আমাদের একান্ত আপন। কারণ আমরা সবাই বন্ধু।
সমন্বয়ক, জাবি পাঠকমেলা
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?