Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ০২ জানুয়ারি ২০১০, ১৯ পৌষ ১৪১৬, ১৫ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মহাজোট সরকারের এক বছর : নরসিংদীতে বিএনপির ৫ শতাধিক নেতাকর্মী পঙ্গু

মোঃ মাজহারুল পারভেজম, মন্টি নরসিংদী
মহাজোট সরকারের এক বছরে নরসিংদীতে রাজনৈতিক হানাহানি, খুন, সন্ত্রাস, ছিনতাই, ডাকাতি ও কারচুপির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, খুন ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের পিটুনিতে পঙ্গু হয়েছেন ৫ শতাধিক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে বিএনপির প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব সংবাদ প্রকাশ করায় আমার দেশ, যুগান্তর ও এটিএন বাংলার নরসিংদী প্রতিনিধিসহ অনেক সাংবাদিক নানা নির্যাতন ও চোখ রাঙ্গানির শিকার হচ্ছেন।
নরসিংদী সদর : কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দী গ্রামে আওয়ামী নেতাকর্মীরা বর্বর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট ও বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। আওয়ামী লীগ নেতা ও ডাকাতির মামলার আসামি হানিফের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আবদুস সালাম, বাতেন মিয়া, আলী মাহমুদ ও মোহাম্মদ আলীর ৫টি ঘর ভাংচুর করে। আলোকবালী ইউনিয়নের খোদাদিলা গ্রামের হোসেন মিয়া ও আজগর আলীর নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে সিদ্দিক মিয়া, কাশেম ও তার লোকজনের ৮-১০টি বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুর করে ১৫ জনকে আহত করে। টেন্ডারবাজির রিপোর্ট করায় দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভির নরসিংদী প্রতিনিধি বিশ্বজিত্ সাহাকে টেলিফোনে হুমকি ও পরে প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পর তার ওপর হামলা এবং তার চিনিশপুরের বাসায় একই রাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এটিএন বাংলার নরসিংদী প্রতিনিধি বেনজির আহমেদের সাটিরপাড়ার বাসভবনে রাতে ৪টি তাজা বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তাছাড়া নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দেনিক আমার দেশ এবং বাংলা ভিশনের নরসিংদী প্রতিনিধি মোঃ মাজহারুল পারভেজের ওপর সন্ত্রাসীরা তিনবার হামলা চালিয়েছে।
পলাশ উপজেলা : ডাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার ও জামাল উদ্দিন মেম্বারের ৩ ছেলে ওয়াসিম, জসিম ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডাঙ্গা বাজারের দোকানি আলমগীর হোসেন ও আইনুল মিয়ার পোল্ট্রি ফার্মে লুটপাট ও ব্যাপক ভাংচুর করে। ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি বাদল ও ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সশস্ত্র যুবক কেন্দুয়াব গ্রামের যুবদল সদস্য হারুন অর রশীদকে (৪০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, ঘোড়াশালে বিএনপি নেতা প্রতিকুল্লার ছেলে যুবদল কর্মী মহসিনকে (২৫) খুন করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। পলাশে বিএনপি নেতা মঈন খানের সভায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে থানার ওসি ও দুই কনস্টেবলসহ বিএনপির ৩৫ জনকে আহত করে। গ্রেফতার এড়াতে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
শিবপুর উপজেলা : এক স্কুলশিক্ষক ও তার মেয়েকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বটেশ্বরে বেধড়ক পিটিয়েছে। চক্রধা ইউনিয়নে এক দরিদ্র পরিবারের বসতঘর ভেঙে নদীতে ফেলে দিয়েছে আওয়ামী প্রভাবশালী প্রতিবেশীরা। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা জামায়াত শিবিরের অফিস ভাংচুর করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা : মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডে রূপনগর বাসস্ট্যান্ডের সুপার ভাইজার বিএনপি সমর্থক সালাউদ্দিনকে অফিস থেকে বের করে দেয় আওয়ামী দুর্বৃত্তরা। উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ডুমরমাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল বেপারি ও প্রদীপের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের এক সশস্ত্র দল হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পুরো গ্রামের বাড়িঘর ভাংচুর এবং জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেলে তিন শতাধিক লোক পরিবার পরিজন নিয়ে গৃহহারা হয়ে পড়ে। বেলাব উপজেলার সল্লাবাদে একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। ৫ শতাধিক মানুষ বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে ভয়ে আজও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, সল্লাবাদ গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা তানভীরের বাড়ি থেকে ৬০টি গরু লুট করে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ নেতা সুবাহান মেম্বার ও তার দল।
রায়পুরা উপজেলা : ২৫ ডিসেম্বর উপজেলার চান্দেরকান্দী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন মেম্বার, খোরশেদ ও মিলন মিয়ার নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সশস্ত্র লোক বর্বর হামলা চালিয়ে ২টি বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী ইকরা পাঠাগার ও আল-হেরা আইডিয়াল স্কুল ভাংচুর করে। হামলায় আহতরা হলেন গৃহবধূ ঝিনুফা খাতুন (৩৮), স্কুলছাত্র প্রার্থনা (৭), রিয়া (৯) ও লিটন (৫)। রায়পুরার বাঁশগাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা সালাম মেম্বার ও জাবেদ মাস্টাররা তাদের দলবল নিয়ে বিএনপি সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর করে, নারী-পুরুষসহ ১৫ জনকে আহত করে। এ ঘটনায় শতাধিক লোক এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাছাড়া গেল বছর শুধু রায়পুরার বাঁশগাড়ি, চান্দেরকান্দি ও পাড়াতলী গ্রামে আওয়ামী নেতাকর্মীরা টেঁটা দিয়ে আঘাত করে ৫০ জনকে গুরুতর আহত করে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?