পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে আটকে আছে সহস্রাধিক যান : যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
মীর হুমায়ূন কবীর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি স্বল্পতার কারণে গত কয়েক দিন ধরে স্বাভাবিক যানবাহন পারাপার দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। গতকাল আরও একটি রো রো ফেরি বিকল হয়ে পড়লে এ রুটে যানবাহন পারাপারে বিপর্যয় নেমে আসে। উভয় ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়ে শত শত যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে এসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম দুর্ভোগের শিকার হন হাজার হাজার নিরীহ যাত্রী। গতকাল বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় ঘাটে সহস্রাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল।
গত ৬ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৭ দফায় মোট ৫০ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ঘন কুয়াশা কেটে গেলে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ রুটে যানবাহন পারাপারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ফেরি স্বল্পতার কারণে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে এ রুটে আবার যানজট এবং যাত্রী দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে গতকাল প্রথমে আমানত শাহ্ এবং পরে শাহ্ আলী নামের রো রো ফেরি বিকল হয়ে পড়লে মাত্র ৫টি রো রো ফেরি দিয়ে এ রুটে যানবাহন পারাপারে রীতিমত বিপর্যয় নেমে আসে। পাশাপাশি দৌলতদিয়ায় দুটি ফেরি ঘাটেরই একটি করে পকেট বন্ধ থাকায় মাত্র দুটি পকেট দিয়ে যান পারাপারে সঙ্কট আরও প্রকট হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারে নিয়োজিত আধুনিক মানের ১২টি রো রো ফেরির মধ্যে শাহ্ মখদুম ও ভাষা শহীদ বরকত নামের দুটি ফেরি কয়েক মাস আগে মাওয়া-চরজানাজাত রুটে স্থানান্তরের পর থেকেই এ রুটে ফেরি স্বল্পতা দেখা দেয়। শাহ্ পরাণ মেরামত কাজে প্রায় ৬ মাস ধরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে রয়েছে। কেরামত আলী ফেরিটি মেরামত কাজে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে রয়েছে প্রায় এক মাস ধরে। প্রতিদিন এ রুটের একাধিক ফেরিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে স্থানীয় ভাসমান ফেরি মেরামত কারখানা ‘মধুমতি’তে থাকতে হয়। এ রুটে ফেরি স্বল্পতা লাঘব করতে গত সপ্তাহে কে-টাইপ ফেরি ‘করবী’ মাওয়া থেকে পাটুরিয়ায় পাঠায় কর্তৃপক্ষ। শাহ্ জালাল ফেরিটি গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বিকল হয়ে স্থানীয় কারখানায় মেরামতের জন্য রয়েছে। এ অবস্থায় গত ২২ ডিসেম্বর বিকল হয়ে পড়ে খানজাহান আলী ফেরিটি। পরদিন ফেরিটি মেরামত কাজে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে পাটুরিয়া ছেড়ে গেলে মাত্র ৬টি রো রো ও একটি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ২নং ফেরিঘাটের ডাউন পকেটে আমানত শাহ্ ফেরি আনলোড করার সময় ফেরিটির র্যামে পণ্যবাহী একটি ট্রাকের এক্সএল ভেঙে গেলে ঘাটের পকেট ও ফেরিটি বিকল হয়ে যায়। বিকাল আড়াইটার দিকে ট্রাকটি সরিয়ে ঘাটের পকেট ও ফেরিটি সচল করে কর্তৃপক্ষ। এরপর আবার বিকাল ৩টায় দৌলতদিয়া ২নং ফেরিঘাটের আপ পকেটে যানবাহন লোড নেয়ার পর শাহ্ আলী ফেরিটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিকল হয়ে পড়ে। ফলে গতকাল মাত্র ৫টি রো রো ও ২টি ছোট আকারের কে-টাইপ ফেরি দিয়ে এ রুটে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
এদিকে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে গত দু’দিন এ রুটে যানবাহন পারাপারে সৃষ্ট সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী পরিবহন পারাপারের নিয়ম থাকলেও ফেরি স্বল্পতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উভয় ঘাটে লম্বা লাইনে আটকে থাকতে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী কোচগুলোকে। আর পারাপারের অপেক্ষায় দিনের পর দিন টার্মিনালে অলস বসে থাকছে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে। এ সময় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী দিবা ও নৈশ কোচের হাজার হাজার যাত্রীকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গতকাল বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাটুরিয়ায় দুটি ও দৌলতদিয়ায় একটি ট্রাক টার্মিনাল ছিল পণ্যবাহী ট্রাকে পূর্ণ। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী কোচগুলোকে উভয় প্রান্তের টার্মিনাল ইয়ার্ড ছাপিয়ে মহাসড়কে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, ফেরি সঙ্কটের কারণে গতকাল বিকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ফেরিঘাট থেকে মহাসড়কের তিন কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির সারি ছিল।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এ রুটে নিয়মিতভাবে ১২টি ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে মাত্র ৫টি রো রো ও ২টি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। বর্তমানে মাত্র ৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শত শত যানবাহনের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাটে কর্তব্যরত টার্মিনাল তত্ত্বাবধায়ক তুফান বিশ্বাস জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফেরি সঙ্কটের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে বিকাল থেকে যানবাহনের চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত (রাত-৮টা) দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায় ৫শ’ বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খালেদ নেওয়াজ বলেন, সম্প্রতি ফেরি সঙ্কটের বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জানানো হয়েছে।
গত ৬ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৭ দফায় মোট ৫০ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ঘন কুয়াশা কেটে গেলে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ রুটে যানবাহন পারাপারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ফেরি স্বল্পতার কারণে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে এ রুটে আবার যানজট এবং যাত্রী দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে গতকাল প্রথমে আমানত শাহ্ এবং পরে শাহ্ আলী নামের রো রো ফেরি বিকল হয়ে পড়লে মাত্র ৫টি রো রো ফেরি দিয়ে এ রুটে যানবাহন পারাপারে রীতিমত বিপর্যয় নেমে আসে। পাশাপাশি দৌলতদিয়ায় দুটি ফেরি ঘাটেরই একটি করে পকেট বন্ধ থাকায় মাত্র দুটি পকেট দিয়ে যান পারাপারে সঙ্কট আরও প্রকট হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারে নিয়োজিত আধুনিক মানের ১২টি রো রো ফেরির মধ্যে শাহ্ মখদুম ও ভাষা শহীদ বরকত নামের দুটি ফেরি কয়েক মাস আগে মাওয়া-চরজানাজাত রুটে স্থানান্তরের পর থেকেই এ রুটে ফেরি স্বল্পতা দেখা দেয়। শাহ্ পরাণ মেরামত কাজে প্রায় ৬ মাস ধরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে রয়েছে। কেরামত আলী ফেরিটি মেরামত কাজে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে রয়েছে প্রায় এক মাস ধরে। প্রতিদিন এ রুটের একাধিক ফেরিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে স্থানীয় ভাসমান ফেরি মেরামত কারখানা ‘মধুমতি’তে থাকতে হয়। এ রুটে ফেরি স্বল্পতা লাঘব করতে গত সপ্তাহে কে-টাইপ ফেরি ‘করবী’ মাওয়া থেকে পাটুরিয়ায় পাঠায় কর্তৃপক্ষ। শাহ্ জালাল ফেরিটি গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বিকল হয়ে স্থানীয় কারখানায় মেরামতের জন্য রয়েছে। এ অবস্থায় গত ২২ ডিসেম্বর বিকল হয়ে পড়ে খানজাহান আলী ফেরিটি। পরদিন ফেরিটি মেরামত কাজে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে পাটুরিয়া ছেড়ে গেলে মাত্র ৬টি রো রো ও একটি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ২নং ফেরিঘাটের ডাউন পকেটে আমানত শাহ্ ফেরি আনলোড করার সময় ফেরিটির র্যামে পণ্যবাহী একটি ট্রাকের এক্সএল ভেঙে গেলে ঘাটের পকেট ও ফেরিটি বিকল হয়ে যায়। বিকাল আড়াইটার দিকে ট্রাকটি সরিয়ে ঘাটের পকেট ও ফেরিটি সচল করে কর্তৃপক্ষ। এরপর আবার বিকাল ৩টায় দৌলতদিয়া ২নং ফেরিঘাটের আপ পকেটে যানবাহন লোড নেয়ার পর শাহ্ আলী ফেরিটি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিকল হয়ে পড়ে। ফলে গতকাল মাত্র ৫টি রো রো ও ২টি ছোট আকারের কে-টাইপ ফেরি দিয়ে এ রুটে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
এদিকে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে গত দু’দিন এ রুটে যানবাহন পারাপারে সৃষ্ট সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী পরিবহন পারাপারের নিয়ম থাকলেও ফেরি স্বল্পতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উভয় ঘাটে লম্বা লাইনে আটকে থাকতে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী কোচগুলোকে। আর পারাপারের অপেক্ষায় দিনের পর দিন টার্মিনালে অলস বসে থাকছে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে। এ সময় দূরপাল্লার যাত্রীবাহী দিবা ও নৈশ কোচের হাজার হাজার যাত্রীকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গতকাল বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাটুরিয়ায় দুটি ও দৌলতদিয়ায় একটি ট্রাক টার্মিনাল ছিল পণ্যবাহী ট্রাকে পূর্ণ। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী কোচগুলোকে উভয় প্রান্তের টার্মিনাল ইয়ার্ড ছাপিয়ে মহাসড়কে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, ফেরি সঙ্কটের কারণে গতকাল বিকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত ফেরিঘাট থেকে মহাসড়কের তিন কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির সারি ছিল।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এ রুটে নিয়মিতভাবে ১২টি ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে মাত্র ৫টি রো রো ও ২টি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। বর্তমানে মাত্র ৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শত শত যানবাহনের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাটে কর্তব্যরত টার্মিনাল তত্ত্বাবধায়ক তুফান বিশ্বাস জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফেরি সঙ্কটের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে বিকাল থেকে যানবাহনের চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত (রাত-৮টা) দৌলতদিয়া ঘাটে প্রায় ৫শ’ বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় আটকে আছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার খালেদ নেওয়াজ বলেন, সম্প্রতি ফেরি সঙ্কটের বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জানানো হয়েছে।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


