Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ০২ জানুয়ারি ২০১০, ১৯ পৌষ ১৪১৬, ১৫ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --

সিলেটের রাজনীতি ২০০৯ : প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে টিপাই বাঁধ নিয়ে আলোচনার দাবি

এটিএম হায়দার, সিলেট
সিলেটের রাজনীতির ময়দান ২০০৯ সালে সরব রেখেছিলেন টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলনকারীরা। রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, যুব, শিশু-কিশোর ও ছাত্র সংগঠনগুলো বাঁধবিরোধী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। পবিত্র রমজান, ঈদ ও পূজার দীর্ঘ ছুটি ছাড়া বছরজুড়ে সিলেটের রাজনীতিতে প্রধান আলোচিত ইস্যু হিসেবে এটি স্থান পায়। সবাই আশা করছেন সুদীর্ঘ আন্দোলনের ফসল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ভারত সফরকালে ইস্যুটি আলোচনায় স্থান পাবে এবং ভারত একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়াবে।
সিলেটে ১৪ দল সমর্থিত সংগঠনগুলো টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ আন্দোলনের ব্যানারে সর্বশেষ মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিমিয় হয়। ২১ নভেম্বর এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা অববাহিকা আঞ্চলিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি ড. মোজাফফর আহমদ, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এম ইনামুল হকসহ ১৮টি জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দলের নিজস্ব কারণে ময়দানের কর্মসূচি প্রদান না করলেও ঘরোয়া সভায় স্থানীয় নেতারা বাঁধবিরোধী জোরালো বক্তব্য রাখেন এবং সামাজিক সংগঠন আয়োজিত টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী বিভিন্ন সভায় যোগ দেন। সম্প্রতি মহানগর বিএনপি ওয়ার্ড পর্যায়ে টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী সভার আয়োজন করে। এ সপ্তাহেও মিছিল বের করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এছাড়া গেল বছর বাঁধের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী যুবদল শহীদ মিনারে সমাবেশ এবং মহিলা দল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর, জেলা উত্তর, জেলা দক্ষিণ শাখা প্রায় সারা বছর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ঘরোয়া ও মাঠের সভায় বাঁধবিরোধী ভূমিকায় সক্রিয় ছিল। সুনামগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জের আটগ্রাম পর্যন্ত সুরমা নদীতে আয়োজিত নৌমার্চ ছিল সংগঠনটির পক্ষে বড় আয়োজন। ১৭০টির মতো নৌযান এতে অংশ নেয়। দলের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নৌমার্চে নেতৃত্ব দেন। নদী বাঁচাও-সিলেট বাঁচাও-দেশ বাঁচাও সেম্লাগান নিয়ে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে জামায়াতের ঐতিহাসিক নৌমার্চ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
খেলাফত মজলিস টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে মাসব্যাপী সভা, সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে। দলের কেন্দ্রীয় আমির অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাকের উপস্থিতিতে বাঁধবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চর মোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে গত ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-সিলেট-জকিগঞ্জ অভিমুখে লংমার্চ জনমনে বেশ সাড়া জাগায়। হাজার গাড়ির বহর জকিগঞ্জের আটগ্রাম পৌঁছলে প্রশাসনের বাধায় তা আটকা পড়ে। জকিগঞ্জের সমাবেশে চর মোনাইর পীর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ বন্ধের ঘোষণা না আনলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফ সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান নিয়ে সভা, সমাবেশ ও মিছিল অব্যাহত রেখেছে। গত ১৪ নভেম্বর এনডিএফ সিলেট ও জকিগঞ্জে বড় সমাবেশের আয়োজন করে। এছাড়া সিলেটসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সংগঠনটি বাঁধবিরোধী সমাবেশে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
অঙ্গীকার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২২ এপ্রিল সিলেট নগরীর কস্ফিনব্রিজের কাছে চাঁদনি ঘাটের সিঁড়ি ও নৌকায় ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান সুরমা তীরে গণপার্লামেন্টের আয়োজন করা হয়। এই পার্লামেন্টে বলা হয়, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাতিল করা না হলে জনগণ অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে কঠিন সংগ্রামের পথ বেছে নেবে। ২২ জুন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্গীকার বাংলাদেশের উদ্যোগে মণিপুরের ড. আরকে রঞ্জন সিংহের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে যোগ দেয়।
গত জুন মাসে সিলেটে সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গণসেমিনারের আলোচনায় টিপাইমুখ বাঁধ স্থান পায়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যোগ দেন। সামাজিক সংগঠনের এসব কর্মসূচি বাঁধবিরোধী আন্দোলন জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ছাত্র জমিয়ত, বৃহত্তর সিলেট গণদাবি পরিষদ, ফুলকুঁড়ি আসর বাঁধবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
সর্বশেষ ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সিটি মিলনায়তনে ‘টিপাইমুখ বাঁধ ও বিপর্যস্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে মূল বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আমার দেশকে বলেন, এক কোটি সিলেটবাসীর প্রাণের দাবি সুরমা-কুশিয়ারা নদীর উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। সিলেটবাসীর মরণফাঁদ বন্ধে আসন্ন ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলেও জনগণ আশা করছে।
মহানগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার অংশ হিসেবে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধে সরকার কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করছে না। এতে সিলেটসহ দেশের একাংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা বেঁচে থাকতে কিছুতেই এ বাঁধ নির্মিত হতে দেবে না। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ বিষয়টি অবশ্যই তুলে ধরতে হবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?