Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ০২ জানুয়ারি ২০১০, ১৯ পৌষ ১৪১৬, ১৫ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রমনায় পৌষ মেলা : শুরু হয়েছে ১০১ চারুশিল্পীর আর্টক্যাম্প

জাকির হোসেন
নববর্ষের প্রথম দিনে গতকাল রাজধানী ঢাকায় ছিল মন মাতানো নানারকম সংস্কৃতিক আয়োজন।
ইট-কংত্রিক্রটের শহরের মানুষকে গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে এদিন রমনার বটমূলে শুরু হয়েছে ২ দিনব্যাপী পৌষ মেলা। ‘ঢাকা আর্ট সেন্টার’র নবযাত্রা উপলক্ষে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ১০১ চারুশিল্পীর অংশগ্রহণে আর্টক্যাম্প। আর নাগরিক নাট্যাঙ্গন নতুন বছরে তাদের ১১ নবীন নাট্যকর্মীকে দিয়েছে ‘শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্মী পদক’ বিশেষ সম্মাননা।
এবারের পৌষ মেলার স্লোগান ‘হে শীতের সূর্য দাও শূন্যতারে পূর্ণ করি’। শীত তাড়ানো বিশেষ উনুন ‘আইলা’ জ্বালিয়ে গতকাল সকালে এ মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুছ, কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী, পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডালিয়া নৌশিন। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সদস্য সচিব বিশ্বজিত্ রায়। উদ্বোধনী পর্বে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘হে শীতের সূর্য’ কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিকার রফিকুল ইসলাম। এর সঙ্গে ছয়টি ঢোলের সমন্বয়ে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
উদ্বোধক মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, গ্রাম আমাদের আদি ঠিকানা। আমাদের শেকড়। কিন্তু নাগরিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা বর্তমান প্রজন্ম সেই শেকড় থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। পৌষ মাসে গ্রামে গ্রামে যে পিঠাপুলি উত্সব হয়, আনন্দ হয়, তারা সেসব সম্পর্কে জানে না। পৌষমেলা, বৈশাখী উত্সবের নানারকম দেশীয় সংস্কৃতির মেলার আয়োজন করা উচিত। এতে করে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ফুটে উঠবে।
নিবেদনের শিল্পীরা শুরুতেই পরিবেশন করেন দুটি গান। প্রথমে তারা গাইলেন ‘ওই ওই সে দোলায় হিমেল হাওয়ার হাতছানি’ এবং ‘পৌষ এলো পৌষ এলো’। ডালিয়া নৌশিন পরিবেশন করেন ‘ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে’। বহ্নিশিখার শিল্পীরা সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে ‘জ্বালাইলে যে জ্বলছে আগুন নিভানো ভিশম দায়...আগুন লাগাইস না আমার গায়’। সুবীর নন্দী শোনালেন দুটি গান। এর একটি হলো ‘পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেদিন’ এবং ‘আমার গানের অস্থায়ী...আমার বাংলাদেশটা।’ শাহিন সামাদ গাইলেন ‘ধরার প্রিয় কেন এলে অবহেলায় শীতল হিমেল বায়ে’ গানটি। শাম্মী আখতারের কণ্ঠে শোনা গেল ‘শ্যামল মাটি ভোরের শিশির ভেজা’। নার্গিস চৌধুরী শোনান ‘জাগাও পথিকে ওই যে ঘুমে অচেতন।’ পান্না বিশ্বাস গাইলেন ‘মায়ের চেয়ে মাসি ভালো’। সঞ্চয় রায় শোনান ‘ফিরে ফিরে চল আপন ঘরে’। সুমনা দাশ গাইলেন ‘তোমার মনের ফুলদানিতে’। শফিউল আলম রাজা শোনান ভাওয়াইয়া ‘মনটায় আমার পিঠা খাবার চায়’। সকালের অনুষ্ঠান চলে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। মাঝখানে কয়েক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবশেষে কৃষ্ণবীণা যাত্রা দল মঞ্চস্থ করে যাত্রাপালা ‘লাইলী-মজনু’।
ঢাকা আর্ট সেন্টারের যাত্রা শুরু : চারুকলা, চলচ্চিত্র এবং পরিবেশনা শিল্পের বিকাশের প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘ঢাকা আর্ট সেন্টার’। প্রতিষ্ঠানের নবযাত্রা উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় দেশবরেণ্য ও তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল ১০১ শিল্পীর দুদিনের আর্টক্যাম্প। এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কেজি সুব্রামানিয়ান এবং জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। এদিন শিল্পীরা প্রায় ৯০টি ছবি এঁকেছেন। ছবিগুলো ক্যানভাস, একরেলিক, তেলরঙে আঁকা আর্টক্যাম্পে আঁকা ছবিগুলো নিয়ে পরে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। তবে প্রদর্শনীর তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
আর্টক্যাম্পে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন শিল্পী আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, মোস্তাফা মনোয়ার, হাশেম খান, রফিকুন নবী, স্বপন চৌধুরী, বীরেন সোম, হাসি চক্রবর্তী, শাহাবুদ্দীন আহমেদ, নইমা হক, ফরিদা জামান, শিশির ভট্টাচার্য, তরুণ ঘোষ, কনকচাঁপা চাকমা, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, শহীদ কবীর, সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, আবুল মনসুর, রফিক আহমেদ, মামুন কায়সার চৌধুরী, মোস্তাফিজুল হক প্রমুখ।
চারুকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র এবং পরিবেশনা শিল্পের বিকাশেরও উদ্যোগ নিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি নবীন শিল্পীদের সহায়তাদান, শিল্পানুরাগী দর্শককে দেশি-বিদেশি চিত্রকলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি, নবীন শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, শিল্পীদের কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পমানসম্পন্ন চলচ্চিত্রের প্রচার ও প্রসারে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাট্যোত্সব ১১ নাট্যকর্মী সংবর্ধিত : নাগরিক নাট্যাঙ্গন নতুন বছরে তাদের ১১ নবীন নাট্যকর্মীকে ‘শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্মী পদক’ বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে। গতকাল দুদিনের নাট্যোত্সবের প্রথম দিনেই তাদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন দলের ১১ পুরনো নাট্যকর্মী। এর আগে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করে উত্সব উদ্বোধন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৬টায় এ নাট্যোত্সবের উদ্বোধন হয়। এর আগে থিয়েটার হলের বাইরে ৫টা থেকে চলতে থাকে বাংলা নাটকের গান। সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় ড. ইনামুল হক ও লাকী ইনামের নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের নাটক ‘শেষ সবদিনগুলো’। আজ সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে মঞ্চস্থ হবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রাগৈতিহাসিক’।
ঢাকা মেট্রো : ঢাকা মেট্রো গণসংস্কৃতি মঞ্চের দশম পর্বের অনুষ্ঠান হয় গতকাল। বিকাল সাড়ে ৪টায় সোহরাওয়ার্দী পার্কের স্বাধীনতা উদ্যানে অনুষ্ঠান শুরু হয় শিশুদের মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। এছাড়া ছিল কবিতা পাঠের আসর, তরুণ শিল্পীদের একক এবং বর্তমান সময়ের আলোচিত ব্যান্ড দলের গান। মেটাল মেইজ, সাবকনশাস, আত্মপ্রকাশ ও বোহেমিয়ান ব্যান্ড দল গান পরিবেশন করে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?