Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ০২ জানুয়ারি ২০১০, ১৯ পৌষ ১৪১৬, ১৫ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ : বিজ্ঞাপনে চাওয়া ৪৬ পদে নিয়োগ পেল ৭৪ জন

এরশাদুল বারী কর্নেল রাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় বিজ্ঞাপনে চাওয়া ৪৬টি পদের বিপরীতে ৭৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২৮তম সিন্ডিকেটে ১০টি বিভাগে ওই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। সরকার সমর্থিত রাবি প্রশাসন গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১০ মাসে এ নিয়ে ১২৪ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হলো। এর আগে প্রথম দফায় গত বছরের ২৯ অক্টোবর ৪২৭তম সিন্ডিকেটে সদস্যদের নোট অব ডিসেন্ট সত্ত্বেও ৯টি বিভাগে ৫০ শিক্ষককে নিয়োগ দেয় প্রশাসন।
এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হলুদ দলের শিক্ষকদের অবস্থান মজবুত করতে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি ও সভাপতির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা এবং ’৭৩-এর অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে ওই প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে অনুষ্ঠিত ৪২৮তম সিন্ডিকেটে ১০টি বিভাগে ওই ৭৪ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক/প্রভাষকের ৫টি পদের বিপরীতে ১২, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগে ২টি পদের বিপরীতে ৬, অর্থনীতি বিভাগে ৬টি পদের বিপরীতে ৯, ফার্মেসি বিভাগে ৫টি পদের বিপরীতে ৯, নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৬টি পদের বিপরীতে ৯, দর্শন বিভাগে ৪টি পদের বিপরীতে ৭, লোকপ্রশাসন বিভাগে ৫টি পদের বিপরীতে ৮, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৪টি পদের বিপরীতে ৬, ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৪টি পদের বিপরীতে ৭ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৫টি পদের বিপরীতে ১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, একমাত্র রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বিজ্ঞাপনে চাওয়া ৫টি পদের বিপরীতে ১ জনকে নিয়োগ দেয়ার কারণ হচ্ছে ওই বিভাগে নিয়োগের জন্য বিশ্বস্ত দলীয় প্রার্থী না পাওয়া।
সূত্রমতে, এর আগে বর্তমান প্রশাসন রাবির ৪৭টি বিভাগে গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪২৭তম সিন্ডিকেটে ৯টি বিভাগে সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় ৫০ শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্ত করে। অন্যদিকে শুধু দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হওয়ায় ওই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত বেশকিছু শিক্ষকের নিয়োগ স্থায়ী না করেই নতুনদের নিয়োগ দেয়। অধিকাংশ বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী যোগ্য এবং মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় অষ্টম, নবম এমনকি তার চেয়ে তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্নদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যাদের নিয়োগ দেয়া হয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সেসব প্রার্থী দলের একনিষ্ঠ কর্মী কি-না তা জানার জন্য দলের তৃণমূল নেতাকর্মী এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খুঁটিনাটি খোঁজখবর নেয়া হয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে সিন্ডিকেট সদস্য ও রাবির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর এম আবুল হাশেম বলেন, যেভাবে প্রশাসনের নিজস্ব চিন্তাধারায় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল। তিনি ওই সিন্ডিকেট বৈঠকে ৭৪ শিক্ষকের নিয়োগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এর আগে বিজ্ঞাপনে চাওয়া প্রয়োজনীয় পদের দ্বিগুণ ও দলীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যপারে নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার পরেও কোনো কাজ হয়নি।
রাবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আলতাফ হোসেন বলেন, ২০০৭ সালে আমরা শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করি। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই ওই সময় ইউজিসি ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাবিতে সব ধরনের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সেটা এখনও বলবত্ রয়েছে। তারপরেও এখন এভাবে একবারে ৭৪ শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরে ইউজিসি কোনোরকম মন্তব্য করছে না। এটা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব ও রাবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর এমএ বারী প্ল্যানিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারেই এসব নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি করেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?